শনিবার বিকালে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে গণভোটের প্রচার ও ভোটের উদ্বুদ্ধকরণ মতবিনিময় সভা প্রধান অতিথির ব্যক্তব্যে এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি আরও বলেন, গণভোটের কথা বলতে এসেছি, ভোটের কথা নয়, গণভোটে আমি না প্রচারনায় আসিনি। গণভোটে ‘হ্যা’ ভোটের প্রচার করতে হবে আপনাদের। সেই প্রচারনা চালাতেই সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী ১২ তারিখ নতুনদের জায়গা করে দিয়ে আমাদের স্ব স্ব জয়গায় ফিরে যেতে চাই। পরে ভোটের গাড়ি ক্যারাভান উদ্বোধন শেষে তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ সুন্দর বাংলাদেশের জন্য ভোটের চাবি আপনাদের হাতে প্রফেসর ড. ইউনুস তুলে দিয়েছে।
গণভোটের প্রচারনার সাথে হ্যাঁ ভোটের প্রচারণা সংসদ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করবে কিনা সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গিয়ে বলেন, এর উত্তর দিতে পারবো না, আমি আইন কম বুঝি। আইন উপদেষ্টা ড.আসিফ নজরুল এর কাছ থেকে জেনে পরে আপনাদের জানাবো।
গণভোটের প্রচার ও ভোটের উদ্বুদ্ধকরণ মতবিনিময় সভায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক নাজমা আরাফী, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদারসহ বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, দুর্গমে যারা আছে, তারা এখনো হ্যা না ভোট নিয়ে তেমন জানেন না। বিশেষ করে যারা পড়তে জানেন না তাদের বেশি সমস্যা হবে। তবে উপজেলা পর্যায়ে মানুষ যতটুকু জানেন গ্রামে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির মানুষ জানেন না বললে চলে। তাদের জন্য দুর্গম এলাকায় প্রচারণা বাড়ানো প্রয়োজন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, এবারের ভোট অন্যান্য বারের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। অনেক বছর পর হ্যা না ভোট। এবারের নির্বাচনের হ্যা বা না একটা ভোট দিতে হবে। আবার জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে হবে। যে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে জয়যুক্ত হবে তিনি সংসদ
গিয়ে পজেটিভভাবে ডিবেটে অংশগ্রহণ করবে কিনা। গণভোট এই দেশের জন্য নতুন নয় ৭৭ সাল থেকে হয়ে আসছে। আমাদের মানুষের প্রত্যাশিত আকাঙ্ক্ষা সংবিধান সংসদে অবদান রাখবে এমন মানুষকে নির্বাচন করা জরুরি।
একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন এবং সংবিধানকে স্থায়ী ও কার্যকর রূপ দিতে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া আমাদের নাগরিক দায়িত্ব।”
সভা শেষে জেলা প্রশাসন প্রাঙ্গণে “গণভোট ২০২৬, সংসদ নির্বাচন—দেশের চাবি আপনার হাতে” এই স্লোগানকে সামনে রেখে একটি ‘ভোটের গাড়ি’ (ক্যারাভান) এর শুভ উদ্বোধন করেন উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা।
এই ক্যারাভানটি রাঙামাটির বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গিয়ে সাধারণ ভোটারদের গণভোট ও সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে সচেতন করবে।
সভায় বক্তারা দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে ভোটারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি আরও বলেন, “জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধারা যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন, এই গণভোট সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।”
তিনি উল্লেখ করেন, গণভোটের প্রশ্নগুলো কিছুটা জটিল হলেও ইতিবাচক ও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের স্বার্থে সাধারণ মানুষের কাছে ‘হ্যাঁ’ ভোটের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।