মঙ্গলবার, ০২ জুন, ২০২৬

রাঙ্গামাটি সার্কেলের সংরক্ষিত বনভুমি জবর দখল ১৬,০৫৭.৪৮ একর, উদ্ধার ৩৭২.৬১ একর বনভূমি

  • প্রকাশিত: ২০ মে ২০২৬, ১:৫৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২ সপ্তাহ আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক   :-রাঙ্গামাটি সার্কেলের সংরক্ষিত বনভুমি জবর দখল ১৬,০৫৭.৪৮ একর- উদ্ধার হয়েছে ৩৭২.৬১ একর বনভূমি। পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগ ও ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের আওতাধীন রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়া এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমি বেদখল এবং অবৈধভাবে বসতি স্থাপনের ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। পাবর্ত্য চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি সার্কেলে ৬টি ডিভিশন রাঙ্গামাটি বনরুপা ৪টি কাপ্তাই ১টি খাগড়াছড়ি ১টি। ১। খাগড়াছড়ি বনবিভাগ ২.র্ পাবত্য চট্টগ্রাম পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগ ৩. পাল্পউড বাগান বনবিভাগ, কাপ্তাই ৪. পার্বত্য চট্টগ্রাম ঝুম নিয়ন্ত্রণ বনবিভাগ ৫. অশ্রণীেভুক্ত বনবিভাগ ৬.র্ পাবত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ।
বৈধ দখলদারিত্ব ও ভূমিকা- বিভিন্ন স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ রয়েছে যে, হেডম্যান (ঐতিহ্যবাহী মৌজা প্রধান) এবং কার্বারীদের (গ্রাম প্রধান) একটি অংশ অনেক ক্ষেত্রে বনভূমি বা সরকারি জমি অবৈধভাবে বসতি স্থাপনকারীদের কাছে চিহ্নিত করে বা কাগজপত্রে সহায়তার মাধ্যমে বেদখলে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে। ক্ষমতা অপব্যবহার করে এবং শ্রেণী পরিবর্তন করে নিজেদের মত হোল্ডিং নং বসানো অভিযোগ সাবেক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংশু প্রু চৌধুরী বিরুদ্ধে।
জেলা পরিষদ ও প্রশাসন- পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নীতি অনুযায়ী অবৈধভাবে বন্দোবস্ত দেওয়া ভূমি ও পাহাড়ের মালিকানা স্বত্ব বাতিল করার কথা থাকলেও, অনেক ক্ষেত্রে জেলা পরিষদ ও ভূমি প্রশাসন অবৈধ দখলকারীদের উচ্ছেদ করতে কার্যকর ভূমিকা নিতে ব্যর্থ হয়। বিশেষ করে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও রির্জাভ ফরেষ্ট বেতবুনিয়া খাসখালী অধিকাংশ ভুমি বেদখলে করেছে অভিযোগ বনবিভাগের।
কাশখালী -বেতবুনিয়া-কলমপতি-তিকোনিয়াসহ কাউখালীর প্রায় ১৮০৭ একর অধিক বেদখল রয়েছে বলে বনবিভাগ সুত্রে জানাগেছে। ফ্যাসিস্ট সরকারে আমলে সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংশু প্রু চৌধুরী কৌশলে ডি-রির্জাভ প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন বনবিভাগের কিছু জায়গা দখলমুক্ত করে চারা রোপন করেছেন। কলমপতি রাজামিঞা গং ৩৭.৭৫ একর জবর দখল করে একটি বিদ্যালয়ের কাছে দানপত্র মুলে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম ঝুম নিয়ন্ত্রন বনবিভাগের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) মো.তরিকুল রহমান প্রতিবেদককে বলেন, ১৯৬১ সালে গেজেট সৃষ্টির রাঙ্গামাটি খাগড়াছড়ি ৫৬ হাজার একর ৪ ও ৬ ধারা রির্জাভ ঘোষনা করা হয়। রাঙ্গামাটিতে ২৫ হাজার রির্জাভ ফরেষ্ট ২০ ধারায় রের্কডভুক্ত ৬২৯ একর । প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারমতে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপন করা হবে পার্বত্য চট্টগ্রাম ঝুম নিয়ন্ত্রন বনবিভাগ। ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির ছারা রোপন করেছি । পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক রাজনীতিক দলের বিরোধিতার কারণে সারাদেশে সামাজিক বনায়ন করতে পারলেও পাহাড়ে কোন ধরনের সামাজিক বনায়ন করতে পারেনি।
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলাগুলোতে স্থানীয় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বা অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সংরক্ষিত বনভূমি অবৈধভাবে কেটে বসতভিটা ও বাগান তৈরি করার অভিযোগ রয়েছে। ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের বন বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাঙ্গামাটির ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগ এবং দক্ষিণ বন বিভাগ এই এলাকায় নিয়মিত টহল ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা ও নোটিশ প্রদান করে আসছে।
বনবিভাগের দাবী বর্তমানে (২০২৪-২০২৬)পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ, রাঙ্গামাটির আওতাধীন কাপ্তাই ও কর্ণফুলী রেঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং বিভিন্ন প্রকল্পের বাগান রক্ষায় বন বিভাগ নিয়মিত তদারকি করে আসছে বলে জানা গেছে। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে, তবে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের কারণে তা পুরোপুরি রোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের প্রায় ৬,৩০৪ একর অধিক সংরক্ষিত বনভূমি অবৈধভাবে বেদখল বৃদ্ধি পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বনবিভাগ সুত্রে জানায়:-পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। হেডম্যান-কার্বারী বা জেলা পরিষদ কর্তৃক কোনো জমি র বা বন্দোব ক্ষেত্রে অবশ্যই যথাযথ আইনি নথিপত্র এবং বন বিভাগের ছাড়পত্র যাচাই করা প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে বনবিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বনবিভাগে সুত্রে জানাগেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের ১৯টি রেঞ্জের ৩৫টি বিটের কর্মকর্তাদের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৩ হাজার একর বনভূমি দখলে রেখেছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। বিভিন্ন সময়ে এসব জমি উদ্ধার করা হলেও কয়েক দিন পরেই তা আবারো দখল করে নেন দখলবাজরা। বিষয়টি নিয়ে বন বিভাগের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানোও হয়েছে। বর্তমানে প্রভাবশালীরা প্রায় ১৩ হাজার একর বনভূমি জবরদখল করে রেখেছে মর্মে একটি প্রতিবেদন চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংগ্রাহকের কাছে জমা দেয়া হয়েছে। বাস্তবে এর পরিমাণ ২০ হাজার একর ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের অধিকাংশ জমিই বেদখল হয়েছে স্বাধীনতার পর। আবার ১৯৯১ সালে ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী সময়েও অনেকে আশ্রয় নিয়ে বন বিভাগের জমি দখল করে রেখেছেন। এসব জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণ, কৃষিকাজ এবং ফলের বাগান ও অন্যান্য গাছ লাগিয়ে নিজেদের দখলে রেখেছেন সংরক্ষিত বনাঞ্চল ।পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে আরও বেশি, প্রায় ৭,৫৯২ একর জমি দখলে রয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের সামগ্রিক ভূমি সমস্যায় সংরক্ষিত বনাঞ্চল উদ্ধারে তৎপরতা কম হওয়ায় এই বেদখল প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে । রাঙামাটি সার্কেলে ৪২ কোটি টাকা গাছ রোপনে বরাদ্ধ হয়েছে জানা গেছে।
এই প্রসঙ্গে রাঙ্গামাটি সার্কেলের বন সংরক্ষক মো.আব্দুল আউয়াল সরকার (সিএফ) প্রতিবেদককে বলেন, এ অঞ্চলে বহু পূর্ব থেকেই প্রায় ১৬,০৫৭.৪৮ একর বনভূমি জবরদখল হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৭২.৬১ একর বনভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। অবশিষ্ট বনভূমি উদ্ধারের জন্য উচ্ছেদ প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে মাঠপর্যায়ের কাজে অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে।তা সত্ত্বেও বন বিভাগ বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কাজ করে যাচ্ছে।
উল্লেখ্যÑবাংলাদেশে বর্তমানে ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৫৮ একর বনভূমি অবৈধভাবে জবরদখল হয়ে আছে। এই বিশাল পরিমাণ জমি প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ৫৬৬ জন ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দখলে রয়েছে। সারাদেশে ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বনভূমি দখল করে রেখেছে। এর মধ্যে প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শিল্প কারখানাও অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া বন বিভাগের ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৫৮ একর বনভূমি অবৈধ দখলে রয়েছে। এর মধ্যে গত মে ২০২৪ পর্যন্ত ৩০ হাজার ১৬২ একর বনভূমির জবরদখল উচ্ছেদ করা হয়েছিল। জবরদখলকৃত বনভূমি উদ্ধারে তেম্ন ভুমিকা রাখ্তে পারেনি সরকার #
রাঙ্গামাটি সার্কেলের সংরক্ষিত বনভুমি জবর দখল ১৬,০৫৭.৪৮ একর, উদ্ধার ৩৭২.৬১ একর বনভূমি
চৌধুরী হারুনুর রশীদ,রাঙ্গাামাটি :-রাঙ্গামাটি সার্কেলের সংরক্ষিত বনভুমি জবর দখল ১৬,০৫৭.৪৮ একর- উদ্ধার হয়েছে ৩৭২.৬১ একর বনভূমি। পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগ ও ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের আওতাধীন রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়া এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমি বেদখল এবং অবৈধভাবে বসতি স্থাপনের ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। পাবর্ত্য চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি সার্কেলে ৬টি ডিভিশন রাঙ্গামাটি বনরুপা ৪টি কাপ্তাই ১টি খাগড়াছড়ি ১টি। ১। খাগড়াছড়ি বনবিভাগ ২.র্ পাবত্য চট্টগ্রাম পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগ ৩. পাল্পউড বাগান বনবিভাগ, কাপ্তাই ৪. পার্বত্য চট্টগ্রাম ঝুম নিয়ন্ত্রণ বনবিভাগ ৫. অশ্রণীেভুক্ত বনবিভাগ ৬.র্ পাবত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ।
বৈধ দখলদারিত্ব ও ভূমিকা- বিভিন্ন স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ রয়েছে যে, হেডম্যান (ঐতিহ্যবাহী মৌজা প্রধান) এবং কার্বারীদের (গ্রাম প্রধান) একটি অংশ অনেক ক্ষেত্রে বনভূমি বা সরকারি জমি অবৈধভাবে বসতি স্থাপনকারীদের কাছে চিহ্নিত করে বা কাগজপত্রে সহায়তার মাধ্যমে বেদখলে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে। ক্ষমতা অপব্যবহার করে এবং শ্রেণী পরিবর্তন করে নিজেদের মত হোল্ডিং নং বসানো অভিযোগ সাবেক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংশু প্রু চৌধুরী বিরুদ্ধে।
জেলা পরিষদ ও প্রশাসন- পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নীতি অনুযায়ী অবৈধভাবে বন্দোবস্ত দেওয়া ভূমি ও পাহাড়ের মালিকানা স্বত্ব বাতিল করার কথা থাকলেও, অনেক ক্ষেত্রে জেলা পরিষদ ও ভূমি প্রশাসন অবৈধ দখলকারীদের উচ্ছেদ করতে কার্যকর ভূমিকা নিতে ব্যর্থ হয়। বিশেষ করে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও রির্জাভ ফরেষ্ট বেতবুনিয়া খাসখালী অধিকাংশ ভুমি বেদখলে করেছে অভিযোগ বনবিভাগের।
কাশখালী -বেতবুনিয়া-কলমপতি-তিকোনিয়াসহ কাউখালীর প্রায় ১৮০৭ একর অধিক বেদখল রয়েছে বলে বনবিভাগ সুত্রে জানাগেছে। ফ্যাসিস্ট সরকারে আমলে সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংশু প্রু চৌধুরী কৌশলে ডি-রির্জাভ প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন বনবিভাগের কিছু জায়গা দখলমুক্ত করে চারা রোপন করেছেন। কলমপতি রাজামিঞা গং ৩৭.৭৫ একর জবর দখল করে একটি বিদ্যালয়ের কাছে দানপত্র মুলে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম ঝুম নিয়ন্ত্রন বনবিভাগের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) মো.তরিকুল রহমান প্রতিবেদককে বলেন, ১৯৬১ সালে গেজেট সৃষ্টির রাঙ্গামাটি খাগড়াছড়ি ৫৬ হাজার একর ৪ ও ৬ ধারা রির্জাভ ঘোষনা করা হয়। রাঙ্গামাটিতে ২৫ হাজার রির্জাভ ফরেষ্ট ২০ ধারায় রের্কডভুক্ত ৬২৯ একর । প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারমতে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপন করা হবে পার্বত্য চট্টগ্রাম ঝুম নিয়ন্ত্রন বনবিভাগ। ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির ছারা রোপন করেছি । পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক রাজনীতিক দলের বিরোধিতার কারণে সারাদেশে সামাজিক বনায়ন করতে পারলেও পাহাড়ে কোন ধরনের সামাজিক বনায়ন করতে পারেনি।
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলাগুলোতে স্থানীয় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বা অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সংরক্ষিত বনভূমি অবৈধভাবে কেটে বসতভিটা ও বাগান তৈরি করার অভিযোগ রয়েছে। ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের বন বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাঙ্গামাটির ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগ এবং দক্ষিণ বন বিভাগ এই এলাকায় নিয়মিত টহল ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা ও নোটিশ প্রদান করে আসছে।
বনবিভাগের দাবী বর্তমানে (২০২৪-২০২৬)পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ, রাঙ্গামাটির আওতাধীন কাপ্তাই ও কর্ণফুলী রেঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং বিভিন্ন প্রকল্পের বাগান রক্ষায় বন বিভাগ নিয়মিত তদারকি করে আসছে বলে জানা গেছে। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে, তবে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের কারণে তা পুরোপুরি রোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের প্রায় ৬,৩০৪ একর অধিক সংরক্ষিত বনভূমি অবৈধভাবে বেদখল বৃদ্ধি পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বনবিভাগ সুত্রে জানায়:-পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। হেডম্যান-কার্বারী বা জেলা পরিষদ কর্তৃক কোনো জমি র বা বন্দোব ক্ষেত্রে অবশ্যই যথাযথ আইনি নথিপত্র এবং বন বিভাগের ছাড়পত্র যাচাই করা প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে বনবিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বনবিভাগে সুত্রে জানাগেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের ১৯টি রেঞ্জের ৩৫টি বিটের কর্মকর্তাদের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৩ হাজার একর বনভূমি দখলে রেখেছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। বিভিন্ন সময়ে এসব জমি উদ্ধার করা হলেও কয়েক দিন পরেই তা আবারো দখল করে নেন দখলবাজরা। বিষয়টি নিয়ে বন বিভাগের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানোও হয়েছে। বর্তমানে প্রভাবশালীরা প্রায় ১৩ হাজার একর বনভূমি জবরদখল করে রেখেছে মর্মে একটি প্রতিবেদন চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংগ্রাহকের কাছে জমা দেয়া হয়েছে। বাস্তবে এর পরিমাণ ২০ হাজার একর ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের অধিকাংশ জমিই বেদখল হয়েছে স্বাধীনতার পর। আবার ১৯৯১ সালে ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী সময়েও অনেকে আশ্রয় নিয়ে বন বিভাগের জমি দখল করে রেখেছেন। এসব জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণ, কৃষিকাজ এবং ফলের বাগান ও অন্যান্য গাছ লাগিয়ে নিজেদের দখলে রেখেছেন সংরক্ষিত বনাঞ্চল ।পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে আরও বেশি, প্রায় ৭,৫৯২ একর জমি দখলে রয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের সামগ্রিক ভূমি সমস্যায় সংরক্ষিত বনাঞ্চল উদ্ধারে তৎপরতা কম হওয়ায় এই বেদখল প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে । রাঙামাটি সার্কেলে ৪২ কোটি টাকা গাছ রোপনে বরাদ্ধ হয়েছে জানা গেছে।
এই প্রসঙ্গে রাঙ্গামাটি সার্কেলের বন সংরক্ষক মো.আব্দুল আউয়াল সরকার (সিএফ) প্রতিবেদককে বলেন, এ অঞ্চলে বহু পূর্ব থেকেই প্রায় ১৬,০৫৭.৪৮ একর বনভূমি জবরদখল হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৭২.৬১ একর বনভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। অবশিষ্ট বনভূমি উদ্ধারের জন্য উচ্ছেদ প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে মাঠপর্যায়ের কাজে অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে।তা সত্ত্বেও বন বিভাগ বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কাজ করে যাচ্ছে।
উল্লেখ্যÑবাংলাদেশে বর্তমানে ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৫৮ একর বনভূমি অবৈধভাবে জবরদখল হয়ে আছে। এই বিশাল পরিমাণ জমি প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ৫৬৬ জন ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দখলে রয়েছে। সারাদেশে ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বনভূমি দখল করে রেখেছে। এর মধ্যে প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শিল্প কারখানাও অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া বন বিভাগের ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৫৮ একর বনভূমি অবৈধ দখলে রয়েছে। এর মধ্যে গত মে ২০২৪ পর্যন্ত ৩০ হাজার ১৬২ একর বনভূমির জবরদখল উচ্ছেদ করা হয়েছিল। জবরদখলকৃত বনভূমি উদ্ধারে তেম্ন ভুমিকা রাখ্তে পারেনি সরকার #

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...