আন্দোলনের মাধ্যমে পার্বত্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করে ছাড়বো— রাঙামাটিতে ঊষাতন তালুকদার
প্রকাশিত: ২০ মে ২০২৬, ১:৩৩ অপরাহ্ণ |
আপডেট: ২ সপ্তাহ আগে
নিজস্ব প্রতিনিধি:-
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) এর সহ-সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার বলেছেন, মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ১৭ বছর পর ক্ষমতায় এসেছেন কথা দিয়ে কথা রাখবেন। পার্বত্য জুম্ম জনগণ আপনাদেরকে ভোট দিয়েছে। ওয়াদার বরখেলাপ করবেননা। তাহলে জনগণ আপনার সরকার বা দলের ওপর বিশ্বাস হারাবেন।
উষাতন তালুকদার আরো বলেন,সরকার যদি চুক্তি বাস্তবায়নে এগিয়ে না আসে মনে রাখবেন পার্বত্য জনগণ কম সংখ্যায় হতে পারে কিন্ত এ ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি আদায় করে ছাড়বো’।
তিনি আরো বলেন, পার্বত্য সমস্যাকে হালকা করে দেখবেন না। পার্বত্য সমস্যাকে যথাযথভাবে দেখার চেষ্টা করুন। পার্বত্য সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসুন। যদি মনে করেন পার্বত্য সমস্যা বড় ধরনের সমস্যা নয় তবে আবেগে নয় জেনে শুনে বার্তা দিতে চাই, জনগণের পক্ষ থেকে বার্তা দিতে চাই। সরকারকে সময় দেওয়া হয়েছে,আপনাদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে পার্বত্য চুক্তির সমস্যা সমাধানের জন্য।
ঊষাতন বলেন, বিএনপি সরকার ৩ মাসের অধিক সময় পার করেছে কিন্তু পাহাড়ী জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুত্তি পূর্ণ বাস্তবায়ন নিয়ে এখনও কিছুই বলেননি। একটি মহল আমাদের জুম্মজনগণকে সরকারের দালালি করছে বলে অপবাদ দিচ্ছে।
শুধু এই সরকারের উদ্দশ্যে নয়, বাংলাদেশের ১৮ কোটি জনগণের কাছে আমাদের আহ্বান যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাকে জিইয়ে রাখবেননা। আমরা জুম্ম জনগণন ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছি। তাই জুম্ম জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় ও অস্তিত্ব রক্ষার্থে পার্বত্য চুক্তিকে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করার জন্য আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান ঊষাতন।
তিনি আরো বলেন, জুম্ম জাতি আন্দোলন করতে জানে, আর যে জাতি একবার আন্দোলন করতে শিখে সে জাতিকে কোন দিকে পিছিয়ে রাখা সম্ভব নয়। যতক্ষণ চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হবেনা, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে এবং আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে চুক্তির পুরোপুরি বাস্তবায়ন করে ছাড়বো বলে ঢৃড়তা ব্যক্ত করেন ঊষাতন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ৩০তম কেন্দ্রীয় কাউন্সিল উপলক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঊষাতন তালুকদার।
পিসিপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রুমেন চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি নাজমুল হক প্রধান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ শিশির চাকমা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা এবং হিল ইউমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক উলিসিং মারমা।
এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সহ-সভাপতি জিকো চাকমা।
বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি নাজমুল হক প্রধান বলেছেল, যে সরকার ক্ষমতায় আসুক আজকে একটি চক্র তাদের স্বার্থের কারনে তাদের সুবিধার্থে পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাকে জিইয়ে রাখতে চাই। জিইয়ে রাখলে তাদের আয়-ইনকাম বেশী হয়।
আজকে চুক্তির পর অনেক সময় গড়িয়েছে। এই চুক্তি নিয়ে অনেক বৈঠক হয়েছে। তাই আর সময়ক্ষেপন না করে অবিলম্বে চুক্তির সকল দাবিগুলি বাস্তবায়ন করা হোক। আর সরকার যদি মনে করে অতীতের সরকারের মত গড়িমসি খেলা করে আমি মনে করি এই খেলার পরিণতি ভয়াবহ হতে বাধ্য। আমি সরকারকে বলবো পার্বত্য এলাকার সকল জনগোষ্ঠীর স্বার্থে ও এতদাঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে পার্বত্য সমস্যা সমাধান করুন। তিনি যতক্ষণ পর্যন্ত চুক্তি বাস্তবায়ন না হয় জুম্ম জনগণের আন্দোনের সাথে বাংলাদ বাসদ পাশে থাকবে।
শিক্ষাবিদ শিশির চাকমা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে জনগণের সাথে যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে সেটি এতদাঞ্চলে বসবাসকৃত শান্তিপ্রিয় বাঙালি-পাহাড়ী সকলের জন্য। পাহাড়ে দীর্ঘ দিনের যে সমস্যা বিরাজ করছে সেই সমস্যাকে রাজনৈতিকভাবে সমাধানের জন্য চুক্তি করা হয়েছিল। সে চুক্তিকে আজকে যুগ যুগ ধরে অবাস্তবায়িত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। তাই চুক্তি পুনোপুরি বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে এগিয়ে আসার আজ্বান জানান শিশির।
মুক্তা বাড়ৈ বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগণের যে সংগ্রাম সেটি সারা বাংলাদেশের জনগণের সংগ্রাম। অনতি বিলম্বে পাহাড় থেকে সেনাশাসন প্রত্যাহার করার জন্য জোর দাবী জানান। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে পার্বত্য অঞ্চলকে আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল হিসেবে যে বৈশিষ্ট্য স্যরক্ষণের কথা বলা হয়েছে সেটি সংরক্ষণ করতে হবে। তাই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য তিনি সরকারের কাছে জোড় দাবী জানান।
মাহির শাহরিয়ার রেজা বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর প্রায় তিন দশক হতে চলেছে কিন্তু সেই চুক্তি এখনও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা হয়নি। যে রাজনৈতিক দল তাদের সরকারের সময়ে সেই চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল সেই রাজনৈতিক দল ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিল। তারা জুম্ম জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সে প্রতিশ্রুতি রাখেননি। সমস্ত সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হবে, ভূমি কমিশন গঠনের মাধ্যমে পাহাড়ীদের ভূমি অধিকার ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু বিগত আওয়ামীলীগ সরকার এসবের কোন কিছু বাস্তবায়ন করেনি।
বর্তমান বিএনপি সরকারকে উদ্দশ্য করে রেজা আরো বলেন, বর্তমান সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে যদিও পাহাড়ীদের থেকে একজন পূর্ণ মন্ত্রী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কিন্তু সেই একই মন্ত্রণালয়ে একজন বাঙালিকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে চুক্তিকে লঙ্ঘন করা হয়েছে। তাই বছতমান সরকারও বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের একই পথে হাঁটছেন। তিনি পাহাড়ী জনগণের সাথে ছাত্র ইউনিয়নের যে সম্পর্ক সে সম্পর্ক চিরকাল থাকবে এবং ছাত্র ইউনিয়ন জুম্ম জনগণেন সকল আন্দোলনের সাথে রাজ পথে থাকবে বলে আশ্বাস দেন।
রুমেন চাকমা বলেন, পাহাড়ীদের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম অঘোষিত কারাগারে পরিণত হয়েছে। শাসক গোষ্ঠীর যে অত্যাচার, নির্যাতন ও নিপীড়ন তা অসহনীয় পর্যায়ে চলে এসেছে। তাই আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শহরে-বন্দরে, গ্রামে-গন্জে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ চুক্তি বাস্তবায়নের যে লড়াই-সংগ্রাম সে লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে সেটি সামনের দিনগুলিতে ঐক্যবদ্ধভাবে আরো জোড়দার করা হবে বলেন রুমেন। তিনি চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে কর্মপরিকল্পনা ও রোডম্যাপ ঘোষণা করাসহ ৪ টি দাবী উপস্থাপন করেন।
আজ বৃহস্পতিবার জেলা শহরে জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে পিসিপি’র প্রতিনিধি সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে।