মঙ্গলবার, ০২ জুন, ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ

  • প্রকাশিত: ১৮ মে ২০২৬, ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ২ সপ্তাহ আগে

পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোণা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সাম্প্রতিক বক্তব্য ইতিহাস বিকৃত, উস্কানিমূলক এবং সংবিধানবিরোধী।

সংগঠনটি দাবি করেছে, তার এ বক্তব্য দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় ঐক্যের বিরুদ্ধে অপতৎপরতাকে উৎসাহিত করতে পারে।

সোমবার (১৮ মে) সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে পিসিসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৫ মে এক বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “বাংলাদেশে আদিবাসীরা একসময় সমস্ত সম্পদের মালিক ছিল, এরপর বাঙালিরা এসে ধীরে ধীরে তাদের ভূমিতে বসবাস শুরু করে।”

পিসিসিপির মতে, একজন দায়িত্বশীল সাংবিধানিক পদে আসীন ব্যক্তির মুখে এমন বক্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক, দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী।

সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ বলেন, এ বক্তব্যের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক বাঙালি জনগোষ্ঠীকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে।

এর ফলে পাহাড়ে বসবাসকারী সাধারণ বাঙালিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে এই বক্তব্য বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার শামিল বলেও মন্তব্য করা হয়।

বিবৃতিতে পিসিসিপি দাবি করে, “বাঙালিরাই এ ভূখণ্ডের প্রকৃত ও অকৃত্রিম ভূমিপুত্র। বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সভ্যতার ধারাবাহিকতা হাজার বছরের পুরোনো।

অন্যদিকে পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর আগমন বিভিন্ন সময়ে পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও দেশ থেকে ঘটেছে।”

সংগঠনটি আরও দাবি করে, ঐতিহাসিক বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা, মারমা, বম ও ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠী বিভিন্ন সময়ে পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে এসে বসতি স্থাপন করেছে।

অথচ বর্তমানে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে ইতিহাসকে বিকৃত করে বাঙালিদের বহিরাগত হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করা হয়।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সনদ ও কনভেনশনের আওতায় কোনো জনগোষ্ঠীকে ‘আদিবাসী’ হিসেবে স্বীকৃতি দিলে ভবিষ্যতে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন ও ভূখণ্ডগত দাবি উত্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

এতে দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও দাবি করে সংগঠনটি।

পিসিসিপি নেতারা আরও বলেন, “বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।

তবে ইতিহাস বিকৃতি, জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নবিদ্ধ করার কোনো অপচেষ্টা কখনোই মেনে নেওয়া হবে না।”

বিবৃতিতে ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে অবিলম্বে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে দেশবাসীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

অন্যথায় পার্বত্য অঞ্চলে ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেয় সংগঠনটি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...