মঙ্গলবার, ০২ জুন, ২০২৬

পাহাড়ে দুর্গম পশ্চাৎপদ শিক্ষা চলতে বর্গা শিক্ষকদের বাস্তচিত্র !

  • প্রকাশিত: ২০ মে ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ২ সপ্তাহ আগে
পাহাড়ে দুর্গম পশ্চাৎপদ শিক্ষা চলতে বর্গা শিক্ষকদের বাস্তচিত্র !  তেমনি একটি ঘটনা দেখুন- ছয়নালছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোন কোন শিক্ষক সরকারি বেতনভোগী তাদের পরিচয় বের করা হোক। বর্গায় চাকরি করছে কারা কারা তাদের পরিচয় বাইর করা হোক। এরপর এদের কার হাত কতটুকু লম্বা সেটা বেরিয়ে আসবে, তাদের পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড ঘেঁটে দেখলে বের হবে রিঝাংসি’কে কারা হুমকি মেরেছে। কে হুমকি মেরেছে খুঁজে পেলে সবকিছু সমাধান হলো! না বরং কাঁদা ছুড়াছুঁড়িতে আমরা আসল বিষয়টিকে এড়িয়ে যাচ্ছি।
রিঝাংসি’কে কোন দলের লোক সরাসরি হুমকি মেরেছে বলে আমার মনে হলো না। তার নতুন আপলোড করা ভিডিও/ ভয়েজ রেকর্ড থেকে বুঝা যায়। সে মূলত নোংরা ভিলেজ পলিটিক্স এর শিকার। প্রতিটি সমাজে বলবানরা সবসময় নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থে বিভিন্ন পলিটিক্যাল পাওয়ার প্রেক্টিস করে থাকে। ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে অবস্থান করলে সাধারণ মানুষের কি পরিণতি হয় সেটা সবাই জানে। আমি সচরাচর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল টপিক নিয়ে আলোচনা করতে পছন্দ করি না। রিঝাংসি’র বিষয়টি এতদূর গড়িয়েছে সন্ধ্যাবেলা পোস্ট করার সময়ও খেয়াল করি নি। যেদিন তার প্রতিবাদস্বরূপ প্রতিবেদনটি দেখেছিলাম সেদিন আন্দাজ করেছিলাম সে কিসের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। আজ ফেসবুকে ঢুঁ মারতেই সবার আগে তার কান্নার ভিডিও সামনে চলে আসলো। যাক এটি ভাইরাল টপিক হলেও অন্য টপিকের মত দু’দিন পরে সবাই ভুলে যাবে বলে উপহাস করে এড়িয়ে যাবার সুযোগ নেই। রিজাংসি’র টপিক নিয়ে পলিটিক্যাল কাঁদা ছুড়াছুঁড়ি করার কোন প্রয়োজন আমি দেখিই না। আবার নেহাত কিছু লজিক খুঁজে নিজের দলকে ডিফেন্ড করার পলিসিটাও আমার অপছন্দ। পৃথিবীতে কিছু মানুষ নিজেকে বড় ধার্মিক মনে করে এবং অন্যদের পাপী। বই পড়ে কিছু তত্ত্ব গিলে নিজেকে জ্ঞানী ভাবা লোকগুলো নিজেদের অজ্ঞতার সাইডের কথা ভুলে যায়। এখন আপনি উকিল, আপনি জজ। অপরাধী সবসময়ই প্রতিপক্ষ। এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা সোশ্যাল মিডিয়ায় করতে করতে সাধারণ পাবলিকগুলোকে রাজনীতি বিমুখ করে ফেলেছেন। ২১ ও ১৭ বছরে দলীয় কোটায় ভাগিয়ে নিয়েছে পাহাড়ে প্রাথমিক শিক্ষায় চরম অযোগ্য অদক্ষ কিছু শিক্ষকের নামে কলংক ।
রাজনৈতিক দলের কর্মীরা বরং আজ রিঝাংসি’র ইস্যু নিয়ে অন্যভাবে ফায়দা লুটি।
১। পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রাইমারি হোক কিংবা মাধ্যমিক হোক সরকারী বেতনভোগী কিন্তু দায়িত্ব পালন করে না এমন লোকদের তালিকা করি।
২। দুর্বলের উপর প্রয়োগ করা সমস্ত বল তাদের উপর প্রয়োগ করে দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য করতে পারি।
৩। দায়িত্বশীল TNO/ UNO/ DC তাদের সাথে কোলাবোরেশান করে দায়িত্ব পালনে অপারগদের চাকরিচ্যুত/ বাধ্যতামূলক অবসরের ব্যবস্থা করি।
এই তিন রকমের ফায়দা যে লুটতে পারে সে এমনিতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসিত হবে। কিন্তু তার চেয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের বুনো ফুলগুলোর ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হবে। পাহাড়ে হাজারো সমস্যা! এইসব নিয়ে সমালোচনা হবেই। জাতির প্রতি সবারই কমবেশি দরদ থাকে। শুধুমাত্র আমি কাজ করছি আর বাকিরা বেসুরো তাল বাজাচ্ছে এমন তাচ্ছিল্য ভাব আমাদের অজ্ঞতা। দায়িত্বশীল যারা তারা যদি মঞ্চ জমাতে না পারি, দর্শক নিজেদের মতো বেসুরো তাল দিবেই।

আর জাতপ্রেমি পাবলিক যারা, তারাও এগিয়ে আসতে পারেন রিজাংসির মত। শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলছে যারা তাদের নাম ঠিকানা ও কর্মস্থল আমাকে তথ্য দিয়ে দিতে পারেন। সুর যখন উঠেছে সেটা সমাপ্তিও টানা যায়। কথায় কথায় যারা আঞ্চলিক দলগুলোর তুলোধুনো করেন তাদের বলবো আপনি যদি নিজেকে সৎ এবং যোগ্য ভাবেন এবং কাজ করতে আগ্রহী থাকেন তাহলে এগিয়ে আসুন। কারণ আমাদের চারপাশে অনেক সমালোচনা আমরা সবাই। কিন্তু কাজের বেলায় কোন কাজি পাওয়া যায় না। আপনাদের মতন জাতের প্রতি দরদ আছে এমন মানুষ খুঁজে দেখেছি অনেক। কিন্তু একটাও মিলাতে পারিনি। নিঃস্বার্থভাবে জাতির জন্য কাজ করবে সৎ ও শিক্ষিত একটাও পাওয়া যায় না। আপনি যদি থাকেন তাহলে আপনিও ইনবক্সে যোগাযোগ করতে পারেন। জাতি ও সমাজের জন্য কাজ করার অনেক সম্ভাবনা ও সুযোগ খালি পড়ে আছে। আমাদের সমাজে অনেক ভলেন্টিয়ার দরকার। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম নেয়া বাস্তব ঘটনা ।

See less

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...