মঙ্গলবার, ০২ জুন, ২০২৬

রাঙামাটির লংগদুতে করাত কলে ঘিলে খাচ্ছে বনের কাঠ ও রিজার্ভ ফরেষ্ট

  • প্রকাশিত: ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, ৫:৩৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৫ মাস আগে
 নিজস্ব প্রতিনিধি:-  পার্বত্য জেলা রাঙামাটির লংগদুতে করাত কলে খিলে বনের কাঠ ও রিজার্ভ  ফরেষ্ট।  পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে পাহাড়ের প্রাকৃতিক বনজ সম্পদ ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই এসব করাত কলে বন শুন্য ও পরিবেশের ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে বলে জনৈক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ।‎
‎ করাত মিল মালিক সমিতির সভাপতি রহমত উল্লাহ মুঠোফোন 01553124417 যোগাযোগ করলেও তার নাম রহমত উল্লাহ অস্বীকার করে।
‎অনুসন্ধানে জানা গেছে, লংগদু উপজেলায় পরিচালিত কোনো করাত কলেরই বৈধ লাইন্সেস নেই। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র  নেই। অবৈধ ভাবে  নির্বিচারে পাহাড় ও বনাঞ্চল থেকে গাছ কেটে কাঠ সরবরাহ করা হচ্ছে, যা বনের কাঠ উজার হচ্ছে ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এ বিষয়ে উল্টাছড়ি রেঞ্জ এক কর্মকর্তা  মুঠোফোনে জানান, লংগুদুতে আমার জানামতে  করাত কলের কোন বৈধ লাইন্সেস নেই ।
তিনি বলেন, ‎এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে লংগদুতে  রিজার্ভ  ফরেষ্ট কাঠ শুন্য হয়ে  পরিবেশ বিপর্যয়ে আশংকা  রয়েছে।
স্থানীয় জনৈক ব্যক্তির নুরুনবী লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি না থাকায় অবৈধ করাত কল মালিকরা  বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।তার আগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কয়েকটি অবৈধ করাত কল মালিককে জরিমানা ও কিছু করাতকল সিলগালা করা হয়, অল্প সময়ের মধ্যেই সেগুলো পুনরায় চালু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।  প্রশাসনের নজর এড়িয়ে আবারও চালু হচ্ছে অবৈধ করাত কলগুলো ।চাপের মুখে অভিযোগ প্রত্যাহার করেছে বলে জানাগেছে।
এই বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে সহকারী পরিচালক মোমিনুল ইসলাম বলেন,আমরাও অভিযোগ পেয়েছি,স্থানীয় প্রশাসন ও বনবিভাগ অবৈধ করাত কলের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে। পরবর্তী পরিবেশ অধিদপ্তর রাঙামাটি সতর্কী‎করণ নোটিশ প্রেরণ করবে।
‎এ বিষয়ে লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহাঙ্গীর হোসাইন মুঠোফোনে প্রতিবেদককে বলেন,আমার জানামতে করাত কলের বৈধ লাইন্সেস নেই। প্রয়োজনে  বন বিভাগকের সাথে আলোচনা করে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে।  এবং  অবৈধ করাতকলের বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে অনুরোধ করেছি। তিনি আরও জানান, পরিবেশ ও বন রক্ষায় প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
 ঝুম নিয়ন্ত্রন বনবিভাগের  বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম কুদ্দুস ভুঁইয়া প্রতিবেদককে বলেন, এটা আমাদের ঝুম নিয়ন্ত্রন বনবিভাগের অধীনে উল্টাছড়ি রেঞ্জ থেকে কার্যক্রম দেখা হয়। সেখানে অবৈধ লাইন্সেসবিহীন করাত কল রয়েছে, সেই গুলো স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও আইন শৃংখলাবাহিনী নিয়ে সেখানে উচ্ছেদ অভিযান বা মোবাইল কোর্ট চলছে। এমনি প্রত্যেকটা করাত কলের বিরুদ্ধে আমার অধীনে যেই সমস্ত উপজেলায় করাত কল রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন নিয়মিত কার্যক্রম চলছে। সেখানে উপজেলা প্রশাসন মোবাইল কোর্টে জরিমানা সিষ্টেম আছে। বাট আমরা যেইটা চাইবো আইন শৃংখলা বাহিনী দিয়ে উচ্ছেদ করা হবে। লাইন্সেস ব্যতীত করাত কল চালাইতে না পারে। ‎পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা ও মামলা দায়ের করবো। তিনি আরো বলেন,করাত কল বিধিমালা -২০১২ / ৭( ১) ধারায় ১০ কিলোমিটার সীমানায় করাত কল থাকতে পারে না।
‎আগামী ২০ /২৫ বছর পাহাড়ে রিজার্ভ ফরেস্ট এলাকায় পানীয় জলের সংকটে পড়বে। গাছ না থাকলে পানি থাকবে না।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...