নিজস্ব প্রতিনিধি:- প্রতিনিধিঃ রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় পরিবেশ আইন তোয়াক্কা না করে গড়ে ওঠা অবৈধ করাত কলগুলো গিলে খাচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল (রিজার্ভ ফরেস্ট)। লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে ২০ থেকে ২৫ টি করাত কল অবাধে চলছে। এতে প্রাকৃতিক বন উজাড় হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, লংগদু উপজেলায় পরিচালিত কোনো করাত কলেরই বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের নজর এড়িয়ে নির্বিচারে পাহাড় ও বনাঞ্চল থেকে গাছ কেটে এসব মিলে সরবরাহ করছে। ইতিপূর্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কিছু মিল সিলগালা ও জরিমানা করা হলেও কয়েক দিন পরেই সেগুলো আবারও চালু হয়ে যায়। এ বিষয়ে করাত কল মালিক সমিতির সভাপতি রহমত উল্লাহর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি রহস্যজনকভাবে নিজের পরিচয় অস্বীকার করেন। ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম কুদ্দুস ভুঁইয়া জানান, “করাত কল বিধিমালা-২০১২ অনুযায়ী সংরক্ষিত বনের ১০ কিলোমিটার সীমানার মধ্যে কোনো করাত কল থাকতে পারবে না। অথচ লংগদুতে অবৈধভাবে এসব মিল চলছে। গাছ উজাড় হওয়ার ফলে আগামী ২০-২৫ বছরের মধ্যে পাহাড়ে তীব্র পানীয় জলের সংকট দেখা দেবে। গাছ না থাকলে পানি থাকবে না। তিনি আরও জানান, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় দ্রুতই উচ্ছেদ অভিযান ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্টাছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা জানান, লংগদুতে একটি করাত কলেরও বৈধ লাইসেন্স নেই। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে অচিরেই লংগদু বনশূন্য হয়ে পড়বে। লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহাঙ্গীর হোসাইন জানান, আমি ইতিমধ্যে জেনেছি যে এখানে কোনো করাত কলের বৈধ লাইসেন্স নেই। আমি বিদ্যুৎ বিভাগকে এসব অবৈধ কলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছি। বন বিভাগের সাথে সমন্বয় করে দ্রুতই বড় ধরনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।#