রাঙ্গামাটি প্রতিদিন ডেস্ক:- ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প -শুনলেই মানবসেবার একটি মহৎ চিত্র ভেসে ওঠে। দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো, চিকিৎসাবঞ্চিতদের মুখে হাসি ফোটানো-এই বয়ানেই প্রচার হয় এসব আয়োজন। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা বলছে, অনেক ক্ষেত্রে এই ক্যাম্পগুলো কেবল পরিকল্পিত রোগী সংগ্রহের কৌশল। অধিকাংশ ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে রোগ নির্ণয়ের ন্যূনতম শর্তই অনুপস্থিত। নেই পর্যাপ্ত ল্যাব সুবিধা, নেই সময় নিয়ে রোগী দেখার সুযোগ। চিকিৎসা বিজ্ঞানের যেখানে ভিত্তি হলো সঠিক ডায়াগনসিস, সেখানে এসব ক্যাম্পে রোগ নির্ণয় চলে অনুমানের ওপর। উপসর্গ শুনে রোগের নাম লেখা হয়, আর তারপর শুরু হয় আসল প্রক্রিয়া—রোগীকে পাঠানো হয় চিকিৎসকের পছন্দের নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা হাসপাতালে। এখানেই প্রশ্ন ওঠে—রোগীর স্বাধীনতা কোথায়? নিজের সামর্থ্য, পছন্দ বা বিকল্প বিবেচনার সুযোগ রোগী পায় না। ‘ফ্রি’ শব্দটি ব্যবহার করে রোগীকে আকৃষ্ট করা হয়, কিন্তু পরবর্তী ধাপে তাকে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় পুরোপুরি বাণিজ্যিক ব্যবস্থার ভেতরে। ফ্রি ক্যাম্প তখন আর সেবা থাকে না, হয়ে ওঠে একটি Paid Treatment Funnel। আরও উদ্বেগজনক হলো, অনেক ক্ষেত্রে রোগীর ভয়কে পুঁজি করা হয়। “দ্রুত পরীক্ষা না করলে বড় বিপদ”, “এটা সিরিয়াস”—এমন ভাষায় রোগীকে মানসিকভাবে চাপে ফেলে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। চিকিৎসা তখন আর নৈতিক থাকে না; তা পরিণত হয় বাজার সম্প্রসারণের হাতিয়ারে। অবশ্য সব ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পকে এক কাতারে ফেলা অন্যায়। সরকারি উদ্যোগ, মেডিক্যাল কলেজ বা সত্যিকারের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অনেক ক্যাম্প এখনো দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখছে। কিন্তু সমস্যা হলো—ব্যতিক্রম নয়, বরং অপব্যবহারটাই ক্রমে নিয়মে পরিণত হচ্ছে। সোজা কথা হলো—যেখানে রোগ নির্ণয়ের সুযোগ নেই, সেখানে ফ্রি চিকিৎসা আসলে একটি ভাঁওতা। রোগী সেখানে সেবা পায় না, সে হয়ে ওঠে হস্তান্তরযোগ্য একটি সংখ্যা। এখন সময় এসেছে প্রশ্ন তোলার—ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প আমরা মানবসেবার জন্য চাই, নাকি রোগী ধরার লাইসেন্স বা কৌশল হিসেবে? আসলে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্দেশ্য কি ?