পানছড়িতে করুল্ল্যছড়িতে ধর্মযুদ্ধে : চুক্তি পক্ষে-বিপক্ষে দুই গ্ৰুপের কমান্ডারসহ ৪ জন নিহত
পানছড়ি, খাগড়াছড়ি |
পানছড়ির করুল্ল্যছড়ি এলাকায় আঞ্চলিক দলের সশস্ত্র গ্রুপ গতকাল ভোরে কমান্ডার সঞ্জীবন চাকমা ওরফে পিকলু ও পূর্ণ্য মুনি চাকমার ৩৫-৪০ জন নেতৃত্বে আঞ্চলিক দলের দুই গ্ৰুপের ভ্রাতৃত্ব ঘাতি সংঘাত চালায়। এতে পাহাড়ী জনগণের প্রতিরোধ শক্তি পাল্টা জবাব দিলে আঞ্চলিক দলের পানছড়ি দায়িত্বে থাকা কমান্ডার পিকলুসহ ৪ জন সন্ত্রাসী নিকেশ হয়েছে ও আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১২ জন।
পানছড়ির করুল্লাছড়ি ও মাচ্ছ্যোছড়া এলাকায় গত রোববার সংঘটিত তথাকথিত ধর্মযুদ্ধের ঘটনায় দায় কার- এ প্রশ্ন এখন পুরো এলাকায় নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
মাঠপর্যায়ের সূত্র ও স্থানীয়দের বর্ণনায় জানা গেছে,পাহাড়ে আঞ্চলিক জলের সশস্ত্র কমান্ডার সঞ্জীবন চাকমা ওরফে পিকলু এবং পূর্ণ্য মুনি চাকমা ওরফে হনা তাদের অধীনস্থ সশস্ত্র সদস্যদের প্রথমে নারাইছড়ি গাল্লোমৌন যাওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু মধ্যপথে গিয়ে হঠাৎ পরিকল্পনা পরিবর্তন করে আঞ্চলিক দলের এক গ্ৰুপের সাথে অন্য গ্ৰুপের সদস্যদের ওপর হামলার সিদ্ধান্ত নেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিকল্পনা পরিবর্তনই শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষ ও নিজের কর্মীদের প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি করে এবং পুরো এলাকা আতঙ্কগ্রস্ত করে তোলে পরে টিকতে না পেরে সেনা সহায়তায় এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন। যুদ্ধে আঞ্চলিক দুই দলের সশস্ত্র অধিকাংশ সদস্যরা মাদক সেবন করেছে বলে জানা গেছে।
আঞ্চলিক দলের মাঠপর্যায়ের কাঁটা সরানোর নির্দেশ রয়েছে ও নেতৃত্বের ব্যর্থতা যতটা দায়ী, তার চেয়েও বড় প্রশ্ন-এই ঘটনার রাজনৈতিক দায় কে নেবে। রাজনৈতিক দায়’ গ্রহণ করতে হবে। কারণ মাঠপর্যায়ের সশস্ত্র কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নীতি নির্দেশনার সম্পর্ক অস্বীকার করা যায় না।
১০ নভেম্বর মাস এখনো শেষ হয়নি, এম এন লারমার প্রয়াণ দিবসে পাহাড়ে আঞ্চলিক দলের অন্য গ্ৰুপের হত্যার নির্দেশ ও প্রতিপক্ষকে কাঁটা মনে করে যেকোন মূল্য সরাতে বলেছে। না পারলে অস্ত্রের ভাষায় জবাব দিতে হুমকি ধামকি দিয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। আঞ্চলিক দলের এক গ্ৰুপে চুক্তি বিরোধী সুপ্রীমো প্রসীত খীসাকে ব্যাঙ্গাত্মকভাবে (ক্যবলা বেটা) অশ্লীলভাষায় গালিগালাজ করেছে, প্রসীত খীসার কি হেডাম আছে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে? পাহাড়ের রাজনীতিকে উতপ্ত করেছে।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়, করুল্লাছড়ি, মাচ্ছ্যেছড়ায় আঞ্চলিক দলের সশস্ত্র বাহিনীর আহতদের সীমান্তে পথে উদ্ধার করেন নুনুমনি চাকমার ভাই জনির বাপ এবং আঞ্চলিক দলের- ঘনিষ্ঠ বোটচালক দিগন্ত চাকমার সহযোগিতায় উত্তর দুদুকছড়া হয়ে গন্ডাছড়া সীমান্তের ২ নম্বর গেট দিয়ে মন্দিরঘাট দিকে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে নিহত আহতদের সরিয়ে নেওয়ার সময় জনগণ দেখতে পেয়েছে এবং সবাই মু কালা অবস্থায় দেখতে পেয়েছে।
ইঞ্জিন বোট চালক দিগন্ত চাকমা ও জনির বাপকে একাধিকবার ফোন বা সং সংযোগ করার চেষ্টা হলেও মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। গন্ডাছড়ায় নুওআদাম এডিসি ভিলেজে আরেক সশস্ত্র সদস্য নুনুমনি চাকমা ওরফে বিপ্লব গতবারের ধর্মযুদ্ধে আহত হয়ে অসুস্থ অবস্থায় রয়েছে তার দুই জন কানে শুনতে পাচ্ছে না এখন।