উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মনোনীত চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার। এছাড়া প্রধান অতিথি ছিলেন চাকমা সার্কেল চিফ রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, প্রাক্তন সাংসদ ঊষাতন তালুকদারসহ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উদযাপন পরিষদের আহবায়ক অবসরপ্রাপ্ত উপ-সচিব প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা।
প্রধান অতিথির বক্তেব্যে রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় বলেন, সংবিধানে আদিবাসীদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার যে ন্যায্য দাবি ও আন্দোলন দীর্ঘদিন যাবৎ চলে আসছে, তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি। আমরা আশা করি সংবিধান সংস্কার হলে হয়তো এই দাবি পূরণ হবে। তিনি আরো বলেন, আমরা আমাদের কিশোর যুবকদের নিরাশা, হতাশা, বঞ্চনার কথা শোনাতে চাই না। আগামীর বাংলাদেশে তারা যাতে এই সামাজিক উৎসবগুলো আরো আনন্দের সাথে উদযাপন করতে পারে, আমরা সেই আশাই করি।
উদ্বোধনের বক্তব্যে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার বলেন, পার্বত্যাঞ্চলের ১৩টি জনগোষ্ঠী তাদের স্ব স্ব নামে বাংলা বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে থাকে। এই উৎসব ঘিরে এখানকার মানুষের মাঝে ভ্রাতৃত্বভাব তৈরি হয়। এবছর আনন্দোল্লাসে পাহাড়ের মানুষ বর্ষবরণ অনুষ্ঠান পালন করতে পারছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও সাবেক সংসদ সংসদস্য ঊষাতন তালুকদার বলেন, আমাদের কৃষ্টি প্রথা সংস্কৃতি আমরা ভুলে যেতে বসেছি। আমরা একদিন হারিয়ে যাবো। আমাদের যদি বৈসাবি বলা হয় বিজু, সাংগ্রাই ভুলে যাবো। আমাদের নৃ-গোষ্ঠী বলা হয় তাহলে চাকমা, মারমা, ত্রিপুারা ভুলে যাবো। ভুলে যাওয়ার জন্যই এই ব্যবস্থা। আমাদেরকে আমাদের আমাদের মতো থাকতে দিন। এই শুভ দিনে কোথাও কোন গোলযোগ না হয়, সুন্দর ভাবে আমার আমাদের উৎসব পালন করতে চাই।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বিভিন্ন জনগোষ্ঠী তাদের স্ব স্ব ঐতিহ্যবাহী পোশাকে শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। শোভাযাত্রাটি পৌরসভা চত্ত্বর থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শিল্পকলা একাডেমির সামনে গিয়ে শেষ হয়।

