চায়না আয়তনের দিক থেকে তাইওয়ানের তুলনায় প্রায় ২৬৬ গুণ বড়। চায়নার জনসংখ্যা তাইওয়ানের তুলনায় প্রায় ৬০ গুণ বেশি। চায়নার ইকোনমি তাইওয়ানের চেয়ে প্রায় ২২.৬ গুণ বেশি শক্তিশালী। সাধারণভাবে চিন্তা করলে চায়নার মতো একটি শক্তিশালী দেশ পুরো তাইওয়ান দখল করতে সর্বোচ্চ একদিন সময় নেওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে, বহু বছর ধরে তারা কেবল কিছু হুমকি-ধমকি এবং তাইওয়ানের চারপাশে কিছু সামরিক মহড়া চালানো ছাড়া কার্যত কিছুই করতে পারেনি। যদিও চায়না বরাবরই তাইওয়ানকে তাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে। প্রশ্ন হলো, চায়না কেন তা করতে পারছে না?
তাইওয়ান, মাত্র ৩৬ হাজার বর্গকিলোমিটারের একটি ছোট্ট দেশ বা টেরিটরি হলেও, একে বলা যায় বিশ্বসভ্যতা তথা আধুনিক বিশ্বের প্রাণকেন্দ্র। সেমিকন্ডাক্টর ছাড়া আধুনিক বিশ্বের সকল কার্যক্রম কার্যত অচল। সারাবিশ্বের মোট সেমিকন্ডাক্টরের ৬০% উৎপন্ন হয় শুধু তাইওয়ানে। সারাবিশ্বের প্রায় ৭০% সেমিকন্ডাক্টর মার্কেট শেয়ার তাইওয়ানের বিভিন্ন কোম্পানির দখলে। সর্বাধুনিক মাইক্রোচিপের ৯০% এর বেশি উৎপাদন করে তাইওয়ান। তাই, যদি তাইওয়ানের এই ইন্ডাস্ট্রি কোন কারণে কলাপ্স করে, তাহলে পুরো বিশ্ব অন্তত একশো বছর পূর্বের বিশ্বে ফিরে যাবে!
শিক্ষা, প্রযুক্তি, চিকিৎসা এবং সামরিক শক্তিতে তাইওয়ান এতটাই অগ্রসর যে, পুরো পশ্চিমা বিশ্ব এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় উন্নত দেশগুলো নিজেদের উন্নতি ধরে রাখতে তাইওয়ানের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য বদ্ধপরিকর। মজার ব্যাপার হলো, এত কিছুর পরও তাইওয়ানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক পার্টনার হচ্ছে চায়না। চায়না প্রতিবছর ৯০-১০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য তাইওয়ান থেকে আমদানি করে। অপরদিকে চায়না তাইওয়ানে রপ্তানি করে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। অর্থাৎ এই দুই দেশের বাণিজ্যে তাইওয়ানের সারপ্লাস প্রতিবছর প্রায় ২০-৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার!
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উসকানি সত্ত্বেও চায়না এবং তাইওয়ান কখনো একে অপরের সাথে যুদ্ধে জড়ায়নি। আমার ধারণা, ভবিষ্যতেও তারা এমন কোনো সংঘাতে যাবে না। এর অন্যতম কারণ হলো, এই দুই দেশের মানুষের হাই আইকিউ। বিশ্বব্যাপী আইকিউ ইনডেক্সে তাইওয়ানের অবস্থান দ্বিতীয় (স্কোর: ১০৬.৪৭) ও চায়না রয়েছে পঞ্চম অবস্থানে (স্কোর: ১০৪.১)। বুদ্ধিমত্তা ও কৌশলগত চিন্তাভাবনা এই দুই দেশের নেতৃত্বকে সংঘাত থেকে বিরত রাখছে।
অন্যদিকে, আমেরিকার ফাঁদে পা দিয়ে ইউরোপের দেশ ইউক্রেনের বর্তমান অবস্থা পুরো বিশ্ব জানে। বুদ্ধিমত্তা পরিমাপের এই ইনডেক্সে ইউক্রেনের অবস্থান ৫৭তম (স্কোর: ৯০.০৭)। একইসাথে এটি ইউরোপের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ।
আর বাংলাদেশ? আইকিউ ইনডেক্সে আমাদের অবস্থান আলহামদুলিল্লাহ, ১৫০তম (স্কোর: ৭৪.৩৩)। শিক্ষা, চিকিৎসা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সুশাসন, অর্থনীতি এবং সামরিক শক্তির দিক থেকে বাংলাদেশের বৈশ্বিক প্রভাব অতি নগণ্য। তাই পতাকা মাড়ানো (তাও দেশের টপ র্যাংকড সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে!!) আর অতিমাত্রায় আমদানিনির্ভর দেশ হয়েও বয়কটের রাজনীতি এদেশ ছাড়া পৃথিবীর আর কোথায়ই বা জন্ম নিবে! সংগ্ৰহীত মাহবুব আলম