ভূমি_অধিগ্রহণ “স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন
প্রকাশিত: ১৫ নভেম্বর ২০২৪, ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ |
আপডেট: ২ বছর আগে
১৪.ভূমি_অধিগ্রহণ “স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭” অনুযায়ী বর্তমানে অধিগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। #অধিগ্রহণ: ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসন অথবা উভয়ের বিনিময়ে প্রত্যাশী ব্যক্তি বা সংস্থার জন্য কোন স্থাবর সম্পত্তির স্বত্ব ও দখল গ্রহণ। ভূমি অধিগ্রহণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করতে হয়। ★ জেলাপ্রশাসক কর্তৃক ভূমি অধিগ্রহণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভূমি মালিক বরাবরে প্রথমে ৪ ধারার প্রাথমিক নোটিশ জারি করা হয়। ★উক্ত নোটিশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা যায় না। ★ সাধারণভাবে ধর্মীয় উপাসনালয়, কবরস্থান, শ্মশান ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত জমি অধিগ্রহণ করা যাবে না। তবে স্থানান্তর ও পুননির্মাণের শর্তে অধিগ্রহণ করা যাবে। ★ নোটিশ জারির ১৫ দিনের মধ্যে অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে জেলাপ্রশাসকের নিকট আপত্তি দায়ের করা যাবে। ★ ভূমি অধিগ্রহণের লক্ষ্যে ৭ ধারার নোটিশ জারির পর সংশ্লিষ্ট জমির মালিককে তার মালিকানার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক বরাবরে দাখিল করতে হবে। ★ জেলাপ্রশাসক কর্তৃক সংশ্লিষ্ট জমির জন্য বিবচ্য ক্ষতিপূরণ এবং মালিকানা চূড়ান্ত করে রোয়েদাদ প্রস্তুত করতে হয়। ★ সংশ্লিষ্ট মালিকগণকে ক্ষতিপূরণের মঞ্জুরির ( award) নোটিশ দিবেন এবং প্রত্যাশী সংস্থা বা ব্যক্তিকে উক্ত প্রাক্কলন প্রেরণ করবেন। ★নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রত্যাশী সংস্থা ক্ষতিপূরণ মঞ্জুরির অর্থ জেলা প্রশাসক বরাবরে জমা দিবেন। ★ ক্ষতিপূরণের জন্য বিবেচ্য বিষয় হলো: সংশ্লিষ্ট জমি এবং বিদ্যমান স্থাপনার বাজার মূল্য, জমিতে দন্ডায়মান বৃক্ষ বা ফসলের মূল্য ইত্যাদি। ★★ বর্তমান আইন অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ নিম্নরুপ: সরকারি প্রয়োজনে অধিগ্রহণ করা হলে স্থাবর সম্পত্তির বাজারমূল্যের অতিরিক্ত দ্বিগুণ অর্থ। বেসরকারি প্রয়োজনে অধিগ্রহণ করা হলে স্থাবর সম্পত্তির বাজারমূল্যের অতিরিক্ত তিনগুণ অর্থ। তবে অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে সম্পত্তির বাজারমূল্যের দ্বিগুণ অর্থ। ★ ৪ ধারার নোটিশ জারির পর শ্রেণী পরিবর্তন করা হলে কিংবা ৭ ধারা নোটিশ জারির পর অন্য কোন ক্ষতিপূরণ দেওয়া যাবে না।। ★ ভূমি মালিককে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। কোন ভূমি মালিক অনুপস্থিত থাকলে কিংবা ভূমির মালিকানা নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা রাখতে হবে। একজনের অর্থ ভুলে অন্য কেউ নিয়ে গেলে তা বৈধ মালিককে ফেরত দিতে হবে। ★ ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদান শেষ হলে সংশ্লিষ্ট স্থাবর সম্পত্তি সরকারের নিকট ন্যস্ত হবে এবং জেলা প্রশাসক তা দখলে নিবে। পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসক গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবেন। ★ উপযুক্ত কারণে অধিগ্রহণ কার্যক্রম বাতিল কিংবা প্রত্যাহার করা যাবে। ★ কোন মালিক তার ঘর বা ইমারতের আংশিক অধিগ্রহণের পরিবর্তে সম্পূর্ণ অধিগ্রহণের দাবি জানালে সে অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করতে হবে। ★ বেসরকারি সংস্থা বা ব্যক্তির জন্য জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে কার্যক্রম শুরুর আগে জেলা প্রশাসকের সাথে নির্ধারিত ফরমে চুক্তি করতে হয় এবং এ পর্য়ায়ে দলিল সম্পাদনের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে হবে। ★ ভূমি মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে অধিগ্রহণের উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্যে জমির ব্যবহার কিংবা বিক্রি বা হস্তান্তর করা যাবে না। এর ব্যতিক্রম হলে সরকারের পূর্বানুমতি নিয়ে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি পুন:গ্রহণ (resume) করবেন এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করবেন। ধারা ২০: হুকুমদখল বিষয়ক। প্রত্যাশী ব্যক্তি বা সংস্থার জন্য ক্ষতিপূরণের বিনিময়ে সাময়িক ভাবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কোন স্থাবর সম্পত্তির দখল নেওয়া। ধারা ২৯: আরবিট্রেটর নিয়োগ। এ আইনের উদ্দেশ্য পূরণ কল্পে সরকার যুগ্ম জেলা জজের নিম্নে নয় এমন কোন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা কে আরবিট্রেটর নিয়োগ দিতে পারেন। জেলা প্রশাসক কর্তৃক ধার্যকৃত ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কোন ব্যক্তির আপত্তি থাকলে আরবিট্রেটরের নিকট মামলা করতে পারেন। তিনি সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ ক্ষতিপূরণ বৃদ্ধির আদেশ দিতে পারেন। ★ এ আইনের কোন আদেশ বা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনের অধিন ব্যবস্থা গ্রহণ ব্যতীত অন্য কোন আদালতে মামলা দায়ের করা যাবে না।
কামরুল ইসলাম ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম। ব্যাচ ২০০৪।।