৫ বছরের তদন্ত শেষে দুই মামলায় আসামি ৬
প্রচলিত বাজারদরে আসবাবপত্রের প্রকৃত মূল্য ৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা। অথচ সেই আসবাবপত্রের দাম দেখানো হয় ২০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। দুই ঠিকাদারের সঙ্গে মিলে এভাবে ১৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় ছিলেন কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মো. রেজাউল করিমসহ তিনজন ডাক্তার। এর মধ্যে দেড় কোটি টাকা মেরেই দেওয়া হয়।১৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় ছিলেন কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মো. রেজাউল করিমসহ তিনজন ডাক্তার।
এমনই অবিশ্বাস্য দুর্নীতির ঘটনা ঘটে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ঘিরে। অথচ দেখা গেছে, ওই কলেজে আসবাবপত্র কিংবা যন্ত্রপাতি— কোনোটিরই ছিল না বাড়তি চাহিদা। এমনকি বিভাগীয় প্রধানদের কাছে চিঠি পাঠিয়েও কোনো চাহিদা পাওয়া যায়নি। শেষমেশ দুর্নীতিবাজ চক্রটি নিজেরাই তৈরি করে কৃত্রিম চাহিদা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের তোয়াক্কা না করে সে অনুযায়ী আসবাবপত্র ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কেনার জন্য নিজেরাই আহ্বান করে দরপত্র। সেই দরপত্রে কাজও পায় নিজেদের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানই। পরে শুধু ব্যবহারের অনুপযোগী নন-ব্রান্ডের আসবাবপত্র সরবরাহের নামেই সাড়ে ১৩ কোটি টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়। এর বাইরে আত্মসাতই করে ফেলা হয় দেড় কোটি টাকা। শুধু তাই নয়, দুর্নীতির পথ সুগম করতে তৈরি করা হয় দুটি ভুয়া জিও বা সরকারি আদেশও।
এমন ঘটনায় প্রায় ৫ বছরের দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর সাড়ে ১৩ কোটি টাকা আত্মসাতের চেষ্টা ও দেড় কোটি টাকা টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রেজাউল করিমসহ তিন চিকিৎসক ও দুই ঠিকাদারসহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। চট্টগ্রাম প্রতিদিন থেকে নেয়া।