শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

রাঙামাটিতে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ২০ হাজার টাকা জরিমানা

  • প্রকাশিত: ১১ মার্চ ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ১ মাস আগে

 নিজস্ব প্রতিনিধি:- রাঙামাটি পার্বত্য জেলার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালত স্ত্রী হত্যার মামলায়  আদেইধন চাকমা(৩৮) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা  অনাদায়ে আরো ৬ মাসে কারাদন্ড  দিয়েছেন। দুপুর ১টায় সিনিয়ার দায়রা জজ মো: আহসান তারেক  আদালতে রায় ঘোষনা করেছেন। এস.সি ৫৫/২৪ বরকল থানার মামলা নং ০২ তাং২৫/০৮/২০২৩  জিআর ৫/২৩ ধারা দন্ডবিধি সাক্ষী ধারা প্রমানিত হওয়ায় এবং আসামী ১৬৪ ধারা জবান বন্দীতে স্বীকার করেছে রাগের  মাথায় দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি এ্যাডভোকেট প্রতিম পাম্পু রায় বলেন ,পরিবার সকলের সাক্ষ্য প্রমাণিত হওয়ায় যাবজীবন কারাদণ্ড ২০ হাজার টাকা জরিমানা  অনাদায়ে চয় মাসের কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত।

রাঙামাটি জেলা লিগ্যাল এইড আইনজীবী এ্যাডভোকেট মিলন চাকমা বলেন ,আমরা ন্যায় বিচার পাইনি উচ্চ আদালতে আপিল করবো ।

কালাচাঁদ চাকমা  আসামীর ছোট ভাই সাক্ষী দিয়েছে,১৬৪ ধারা জবানবন্দী দিয়েছে, রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে পোষ্ট মডেম রিপোর্ট এ ডাঃএন্টনী চাকমা ও ডাঃ শওকত আকবর হত্যার আলমত পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন ।

বাদীর এজাহার সুত্রে জানা গেছে, কিরণ বিকাশ চাকমা (৩৮), পিতা-মৃত লেঙ্গা চাকমা, সাং- দেবাছড়া, ৮নং ওয়ার্ড, জুরাছড়ি সদর ইউপি, থানা- জুরাছড়ি, জেলা- রাঙামাটি পার্বত্য জেলা। আসামী আদেইখন চাকমা (৩৫), পিতা- সুবৃতি চাকমা, সাং- পিপড়াছড়ি পিক্কাছড়ি পিগিরাছড়ি, ৬নং ওয়ার্ড, ১নং শুভলং ইউপি, থানা- বরকল, জেলা- রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।সাক্ষী : ১। রত্ন বিজয় চাকমা (৪৯) (কার্বারী), পিতা- শরৎ কুমার চাকমা, মোবাইল- ০১৮৩৪-১৬২৬১৪। সাং- বেতছড়ি, ৪নং ওয়ার্ড, ১নং শুভলং ইউপি, ২। কালামনি চাকমা (৪৮) (ইউপি মেম্বার), পিতা-ঘটিকার মৃত ফুলমনি চাকমা,

আসামী আদেইধন চাকমা আমার ভাতিজিকে চাকমা হেসডি চাকমা’কে ধারালো দা দিয়া কোপাইয়া মারাত্মকভাবে জখম করার ফলে ঘটনাস্থ মৃত্যুবরণ করে। উক্ত সংবাদ পাইয়া আমি জুরাছড়ি সদর ইউপির ৮নং ওয়ার্ডের স্থানীয় ইউপি সদস্য কিক চন্দ্র চাকমাসহ ২৪/০৮/২০২৩খ্রিঃ তারিখ দিবাগত রাত অনুমান ১০.২০ ঘটিকার সময় আসিয়া আমার ভাতিজি শেফালি চাকমা (ঘ) হেঙ্গডি চাকমার ঘাড়ের দুই পাশে গভীর ও বড় আকারের মারাত্মক রক্তাক্ত কাটা কখমপ্রাপ্ত এবং মৃত অবস্থায় দেখিতে পাই। আমরা পৌছার পূর্বেই পুলিশ আমার ভাতিজি শেফালি চাকমা হেজডি চাকমা’র লাশের সুরতহাল প্রস্তুত করিয়া ময়নাতদন্তের জন্য রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন এবং আমরা পৌঁছার পরপরই ময়নাতদন্তের জন্য লাশ প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে পুলিশ আসামী আদেইধন চাকমাকে খোঁজাখুঁজি করিয়া পিপড়াছড়ি ও পিক্কাছড়িও পিগিরাছড়ি এলাকা হইতে আটক করিয়া হেফাজতে নেন। আসামী আদেইধন চাকমা (৩৫) ঘটনার তারিখ ও সময়ে ঘটনাস্থলে পারিবারিক কলহের জের ধরিয়া আমার ভাতিজি শেফালি চাকমা (ঘ) হেঙ্গডি চাকমাকে ধারালো দা দ্বারা ঘাড়ের দুই পাশে একাধিক কোপ মারিয়া মারাত্মক গভীর ও বড় আকারের রক্তাক্ত কাটা জখম করিয়া হত্যা করে। আমরা সংবাদ পাওয়ার পর অনেক দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এবং ঘটনাস্থল এলাকায় খোঁজ খবর নিয়া থানায় আসিয়া এজাহার দায়ের করিতে কিছুটা বিলম্ব হইল।#

 

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...