রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬

রাঙামাটি শহরে জামায়াতের বিশাল কর্মীসম্মেলন

  • প্রকাশিত: ৩০ নভেম্বর ২০২৪, ১০:১০ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ১ বছর আগে

নিজস্ব প্রতিনিধি:- রাঙামাটি শহরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিশাল কর্মী সম্মেলন। শনিবার সকাল থেকে শুরু হয়ে এই সম্মেলন  ও সন্ধ্যায় সাস্কৃতিক অনুষ্টান।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জামায়াত চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান ,  প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন, সাবেক সংসদ সদস্য চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমীর ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী।  এ্যাডভোকেট রহমত উল্লাহর  উপস্থাপনায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক জেলা শিবির সভাপতি ও পৌর আমীর মুহাম্মদ আব্দুস সালাম।

বক্তরা বলেন, মরহুম  শেখ মুজিবুর রহমান ৭১ সাল থেকে ৭৫ সাল দেশ পরিচালনা করতে নীরহ নেতাদের করে দু :শাসন করে নিকৃষ্টভাবে বিদায় নিয়েছেন। শেখ হাসিনা ওয়াজেদ ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে ১৫ বছর ধরে গণতন্ত্রকে হত্যা করে পালিয়ে যেতে হয়েছে। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি হচ্ছে সবচেয়ে বড় রাজনীতি দল আ:লীগ।

সাবেক সংসদ সদস্য চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমীর ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ৭২ থেকে ৭৫ পর্যন্ত বাংলাদেশে ইসলামের উপর সবচাইতে বেশি আঘাত করেছে শেখ মুজিব। জামায়াতকে দাবায়ে রাখতে গিয়ে শেখ মুজিব নিজেই ইতিহাস হয়ে গেছেন। তারই কন্যা শেখ হাসিনাও বিগত ১৮ বছরে দেশের জামায়াতের নেতাকর্মীদের উপর চরম নির্যাতন অত্যাচার চালিয়েছে।

দেশ বিক্রি করে দিয়েছে বিদেশী প্রভুদের কাছে। সেই শেখ হাসিনা যেই সময়ে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করেছিলো ঠিক সেই একই সময়ে জনগণের ধাওয়ায় শেখ হাসিনা গণভবন ছেড়ে নয় শুধু দেশ ছেড়েই পালিয়েছে। এটাই আল্লাহর বিচার।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বিরাজমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, আওয়ামীলীগের সাথে সন্তু লারমার পার্বত্য শান্তিচুক্তি হওয়ার কথা ছিলো না। সেই ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া সরকারের সাথে শান্তি চুক্তি হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু সেসময় ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ষড়যন্ত্রের কারনে খালেদা জিয়া সরকারের সাথে চুক্তিটি হতে পারেনি।

পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেএসএস নেতা সন্তু লারমার প্রতি ইঙ্গিত করে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ভারতের ত্রিপুরায় সন্তুলারমার সাথে দেখা করতে বাংলাদেশ থেকে কেউ যেতে আগ্রহী ছিলো না। কিন্তু আমি হেলিকপ্টার নিয়ে ত্রিপুরায় গিয়ে সন্তু লারমাকে সাথে করে খাগড়াছড়িতে নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু সন্তু লারমা আজ সে কথা ভূলে গেছেন। আজকের কর্মী সম্মেলনে সন্তু লারমার উপস্থিতি কামনা করেছিলাম। কিন্তু তিনি আসেননি।

উক্ত কর্মী সম্মেলনে  কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য মুহাম্মদ জাফর সাদেক, বান্দরবানের আমীর মাওলানা আব্দুস সালাম আযাদ, রাঙামাটি জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আব্দুল আলীম, রাঙামাটির নায়েবে আমীর মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, জেলা সেক্রেটারি মোঃ মনছুরুল হক।  রাঙামাটি জেলা, পৌর ও থানা জামায়াতের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

প্রসঙ্গত: জামায়াতের রাঙামাটির নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, দীর্ঘ অন্তত ১৮ বছর পর শনিবার রাঙামাটি শহরে জামায়াত ইসলামীর কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বিগত ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী সরকারের আমলে চরম নির্যাতন, মামলা-হামলার মাঝেও  কাজ করে প্রায় ৮০ হাজার কর্মী সমর্থক নিয়ে টিকে থাকা রাঙামাটি জামায়াতে ইসলামী জেলা শহরের পৌর এলাকায় এবার গণতান্ত্রিক পরিবেশে জাঁকজমকপূর্নভাবেই আয়োজন করেছেন  কর্মী সম্মেলন।

উল্লেখ্য জামায়াতের পৌরকর্মী সম্মেলনকে কেন্দ্র করে গতকাল শুক্রবার রাঙামাটি শহরে মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে শো-ডাউন করেছে জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা। এসময় রাঙামাটি ইসলামিক সেন্টারে চেয়ারম্যান সিনিয়র আইনজীবি এ্যাডভোকেট মোখতার আহমদ, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মনছুরুল হক, জামায়াত নেতা এ্যাডভোকেট হারুনুর রশিদ, পৌর আমির আব্দুস সালাম, পৌর সেক্রেটারি মাঈন উদ্দিন, জেলা জামায়াতের সূরা সদস্য এ্যাডভোকেট রহমত উল্লাহর নেতৃত্বে শুক্রবার বিকেলে আসরের নামাজের পর রাঙামাটি শহরের বনরূপা থেকে দুই শতাধিক মোটর সাইকেল নিয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীরা কালেমা খচিত দলীয় পতাকা নিয়ে শোভা যাত্রা বের করে পুরো শহর প্রদক্ষিণ করে ইসলামিক সেন্টার প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ। #

 

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...