নিজস্ব প্রতিবেদক:-যথাযোগ্য মর্যাদায় বাঙ্গালী জাতির গৌরবের দিন মহাণ বিজয় দিবস পালন করছে পার্বত্য রাঙামাটিবাসী। দিবসটি পালনে সোমবার কাকডাকা ভোরে সূর্যোদয়ের সাথে সাথেই ৩১বার তোপধ্বনি দিয়ে রাঙামাটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে মহাণ মুক্তিযোদ্ধে বীর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ জানিয়ে সোমবার সকাল সাড়ে ৬টায় পুষ্পমাল্য অর্পণ কার্যক্রমের শুরু করেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিব উল্লাহ।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সদস্যদের সংবর্ধনা সভায় জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিব উল্লাহ বলেন, ২০২৪ সালের আগষ্ট মাসের গণআন্দোলনের কথা তুলে ধরেন। এই দেশ যত দিন থাকবে ততদিন এই দেশের মানুষ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ রাখিবে। তাই আমি রাঙামাটি সহ সারা দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের আজকের দিনে স্মরণ করছি। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিদান দেওয়া সম্ভব নহে।
পুলিশ সুপার এসএম ফরহাদ হোসেন বলেন, গণতন্ত্রকে বিভিন্ন ভাবে হরন করতে দেখেছি। সকল প্রকার দলীয় দিকগুলো বাদ দিয়ে দলমত নির্বিশেষে এদেশ গড়তে সবাইকে একত্রিত হয়ে কাজ করার আহবান জানান।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, রাঙামাটির বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন নেতা শরীফুল ইসলাম শাকিল। তিনি বলেন, ছাত্র জনতার আন্দোলনের মূখে ফ্যাসিস্ট হাসিনা এখনো দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র চলছে। ফ্যাসিস্ট ও দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রকারী শেখ হাসিনা ভারতে বসে এই দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে।
মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সৈকত রঞ্জত চৌধুরী বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা এদেশের সূর্য সন্তান। জীবন বাজি রেখে মুক্তিযোদ্ধারা এই দেশ স্বাধীন করেছে। তাই সুন্দর বাংলাদেশ বিনিমাণে মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব শ্রেষ্ঠত্ব অবদানের কথা বলে শেষ করা যাবে না। এই দেশ আমার এই সবার এই দেশের প্রতি সকলের অজস্র ভালোবাসা থাকা একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করি।
পরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে পুরস্কার বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিব উল্লাহ ও পুলিশ সুপার এসএম ড. ফরহাদ হোসেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানিয়েছেন এবার বিজয় মেলায় ৫৫টি স্টল বসানো হয়েছে। এই মেলা চলবে ৩দিন ব্যাপী।
পরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও দলটির অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতৃবৃন্দ, জামায়াতে ইসলামী, এলডিপিসহ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদ বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করার পাশাপাশি দলীয় শপথপাঠ করা হয়।
তার আগে শহীদ মিনারের বিপরীত দিকে অবস্থিত স্মৃতিসৌধ, শহীদ এম আব্দুল আলীর স্মৃতিস্তম্ভে এবং শহীদ আব্দুস শুক্কুরের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করা হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাটে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
এদিকে এদিন সকাল ৮ টায় রাঙামাটি সার্কিট হাউজে জাতীয় উত্তোলন করা হয়। রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ, পুলিশ সুপার ড. ফরহাদ হোসেনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন লোকজন জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন।
মহান বিজয় দিবস ঘিরে এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে তিনদিনের বিজয় মেলা জিমনেশিয়াম মাঠে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ১০ টায় এবং তিনদিনই রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা খোলা থাকরে। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সদস্যদের সংবর্ধনা, সেখানে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিকাল ৩টায় মারি স্টেডিয়ামে আয়োজন থাকছে ক্রীড়া অনুষ্ঠানের। একই স্থানে মহিলা ক্রীড়া অনুষ্ঠান।পরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে পুরস্কার বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিব উল্লাহ ও পুলিশ সুপার এসএম ড. ফরহাদ হোসেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানিয়েছেন এবার বিজয় মেলায় ৫৫টি স্টল বসানো হয়েছে। এই মেলা চলবে ৩দিন ব্যাপী।
সন্ধ্যা ৬টায় রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন জন সমাগম স্থলে মুক্তিযুদ্ধভিত্তি চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনী। সুবিধাজনক সময়ে জেলার সকল মসজিদ মন্দির ও গির্জায় বিশেষ মুনাজাত ও প্রার্থনা। এছাড়া হাসপাতাল, জেলখানা, এতিমখানা, শিশু পরিবার ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানসমূহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন। বিনোদনমুলক স্থান ও পর্যটন কেন্দ্র শিশুদের জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিনা টিকেটে উন্মুক্ত রাখা হবে।
অপরদিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সময় উপস্থিত ছিলেন পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো: খলিলুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান, যুগ্ন সম্পাদক রবিউল ইসলাম, সহ- সাধারণ সম্পাদক সজিব ফিরোজ, মো: নুহাশ, প্রচার সম্পাদক মো: ইসমাঈল গাজী, অর্থ সম্পাদক মো: আরিফুল ইসলাম সহ জেলা শাখার বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
