ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরে বেকারত্বের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে গাজায় বেকারত্ব বেড়ে প্রায় ৬৮ শতাংশ এবং পশ্চিম তীরে ২৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
মে দিবস বা আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের আগে বৃহস্পতিবার ফিলিস্তিনের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর (পিসিবিএস) প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া ইসরায়েলি যুদ্ধের কারণে বেকারত্বের এই হার লাফিয়ে বেড়েছে।
ব্যুরো জানায়, পশ্চিম তীরে কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা ২০২৩ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের ৮ লাখ ৬৮ হাজার থেকে কমে ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে প্রায় ৭ লাখ ৩৬ হাজারে দাঁড়িয়েছে। মূলত নির্মাণ, খনি, উৎপাদন, পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় কর্মসংস্থান ১৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
যুদ্ধের সময় গাজায় চাকরিজীবী বা কর্মজীবীদের প্রায় ৭৪ শতাংশ বেকার হয়েছেন অথবা শ্রমশক্তি থেকে ছিটকে পড়েছেন। বিশেষ করে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই বয়সীদের প্রায় ৭৪ শতাংশ শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের বাইরে রয়েছেন।
ইসরায়েল ও অবৈধ বসতিগুলোতে পশ্চিম তীরের শ্রমিকদের কাজ করার হারও ব্যাপকভাবে কমেছে। ২০২৩ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার, যা ওই বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে কমে দাঁড়ায় ২৫ হাজারে। তবে কাজের অনুমতির সংখ্যা ব্যাপক হারে কমলেও ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে এই সংখ্যা ধীরে ধীরে বেড়ে প্রায় ৫১ হাজারে পৌঁছায়।
২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে পশ্চিম তীরে অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের হার ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ। অন্যদিকে, বেসরকারি খাতের কর্মীদের গড় প্রকৃত দৈনিক মজুরি ২০২৩ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের ১২৬ শেকেল (৪২.৪৮ ডলার) থেকে কমে ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে ১২০ শেকেলে (৪০.৪৬ ডলার) নেমেছে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানো হলেও ইসরায়েল তাদের হামলা অব্যাহত রেখেছে। গাজায় খাদ্য, ওষুধ ও আশ্রয় সামগ্রী প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করে রেখেছে তারা। ফলে সেখানকার প্রায় পুরো জনগোষ্ঠী মানবেতর জীবনযাপন করছে।
ফিলিস্তিনিদের হিসাব অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রায় সাড়ে সাত লাখ ইসরায়েলি দখলদার বসবাস করছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের বসতিগুলোতে রয়েছে প্রায় আড়াই লাখ দখলদার।