বিশেষ প্রতিবেদক:- টাঙ্গাইল বন বিভাগে ডুপ্লিকেট টিপির মাধ্যমে ইউক্লিপ্টাস চিরাই কাঠের একটি ট্রাক আটক করা হয়েছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানাগেছে, ট্রাক নং ঢাকা মেট্রো ৫-১২-৬৬৪৩ ঘটনা অনুসন্ধান করে জানা জানা যায়, পাবনা সামাজিক বন বিভাগের অধিন সিরাজগঞ্জ এস এফ এন টি সির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ফরেস্টার রফিকুল ইসলাম বিভাগীয় বন কর্মকর্তার পক্ষে ডুপ্লিকেট টিপিতে স্বাক্ষর করেছেন। যাহার টিপি নং ২৯ বহি নং ২১৬০ নোট বই পৃ: নং ৯৯/২০৫ ডুপ্লিকেট টিপির মাধ্যমে অবৈধভাবে চিড়াই কাঠ পাচারের দুঃসাহসিকতা দেখে তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করি। পোস্ট করার পর, কিভাবে কার কাছ থেকে যেন আমার মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে সর্বপ্রথম আমাকে মোবাইল নং 01831134370 থেকে ফোন করে টিপি লেখক বরাত আলী, আউটসোর্সিং স্টাফ সে ভদ্র ভাষায় আমাকে পোস্টটি ডিলেট করার অনুরোধ করে। এবং আমাকে বলে যে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা তাহাকে শাস্তি স্বরূপ অন্যত্র বদলি করেছে। আমি তার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বললাম যে, আপনি আপনার উপরস্ত কর্মকর্তার নির্দেশে ডুপ্লিকেট টিপি লেখেছেন এখানে আপনার দোষ কোথায় ? টিপি বহি যার, নোট বহি যার টিপিতে স্বাক্ষর করেছে যে দায় দায়িত্ব তার। এখানে কারো দুশ্চিন্তার কিছু নেই। কিছুক্ষণ পর মোবাইল নং 01718231726 থেকে আমাকে ফোন করে। তাহার প্রশ্ন ছিল, আপনি কি আবুল কালাম ? আমি জবাবে বললাম হ্যাঁ, আমি বললাম আপনার পরিচয় ? প্রতি উত্তরে বললো আমি ফরেস্টার রফিকুল ইসলাম। সে উত্তেজিত হয়ে বললো আমার জুনিয়র হয়ে আমার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখার দুঃসাহস কোথায় পেলি, তার ভাষা শুনে আমি আশ্চর্য হয়ে গেলাম! আমি বললাম আপনি একজন ফরেস্টার হয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার পক্ষে ডুপ্লিকেট টিপিতে স্বাক্ষর করে অবৈধভাবে চিড়াই কাঠ পাচার করার দুঃসাহস আপনি কোথায় পেলেন ? আমার উত্তর পেয়ে ফরেস্টার রফিকুল ইসলাম তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে আমার বাবা মা তুলে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকলো। এক পর্যায়ে আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়, আরো বলে ডি এফ ও, সি এফ আমার সাথে হিসাব কিতাব করে কথা বলে আর তুই তো চ্যাটের বাল বলে ফোন কেটে দেয়। পরের দিন তার সম্বন্ধে আমি অনুসন্ধান শুরু করলাম।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ শহরে ব্যাঙ পাড়ায় তার বাড়ি। সিরাজগঞ্জের আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র পরবর্তীতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের ক্যাডার ছিলেন। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আশীর্বাদে ও আওয়ামী ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ফরেস্টার রফিকুল ইসলাম দীর্ঘ ১৫ বছর যাবত সিরাজগঞ্জ এস এফ এন টি সির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে । অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে যমুনা ইকোপার্ক ও কামার খন্দ উপজেলা নার্সারী কেন্দ্রের দায়িত্ব পালন করে আসছে। একই ব্যক্তি তিনটি দায়িত্ব পেয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করে তিনটি কেন্দ্রেই দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে। আমার দাবি, সিরাজগঞ্জ এস এফ এন টি সি অফিসে ব্যবহৃত টিপি বহি যাহার নং ২১৬০ নোটবুক নং ৯৯/২০৫ জব্দ করত: চেক করিলে আরো ডুপ্লিকেট টিপির মাধ্যমে অবৈধভাবে গাছ পাচারের প্রমাণ পাওয়া যাইতে পারে। ডুপ্লিকেট টিপির মাধ্যমে চিড়াই কাঠ পাচারের দায়ে বিভাগীয় কার্যধারা প্রণয়ন করা উচিত। যদি করা না হয়, তাহলে ধরে নেওয়া হবে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সম্মতিতে এই অবৈধ ডুপ্লিকেট টিপির মাধ্যমে অবাধে চিড়াই কাঠ পাচার হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী জানায়,যমুনা ইকো পার্কের দায়িত্বে থেকে যমুনা ব্রিজের উপর দিয়ে যতগুলো কাঠের গাড়ি যায় প্রতিটি গাড়ি থেকে ফরেস্টার রফিকুল ইসলামকে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত তাকে ঘুষ দিতে হয়। ইকো পার্কের ভিতরে যানবাহন ঢোকা নিষেধ, প্রতিটি মোটরসাইকেল, প্রতিটি হাইস গাড়ি থেকে তাকে ঘুষ দিয়ে ভিতরে গাড়ি রাখতে হয়। ইকো পার্কের ভিতর কয়েকটি দোকান আছে প্রতিদিন দোকান থেকে তাকে ৫০৯ করে টাকা দিতে হয়! ইকো পার্কের বন্যপ্রাণীদের জন্য খাদ্যের বরাদ্দ থেকে তাকে কমিশন দিতে হয়। আওয়ামী ফ্যাসিবাদি সরকারের সময় আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে দুটি হরিণ বিক্রি করে দেয়। সচেতন নাগরিকদের প্রশ্নে জর্জরিত হয়ে বলে যে ইকো পার্ক থেকে হরিণ দুটো লোকালয়ে চলে গিয়েছিল আবার স্বইচ্ছায় হরিণ দুটো ইকো পার্কে ফেরত এসেছে। যাহা কানার ভাই অন্ধে ও বিশ্বাস করবে না।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে সেই হরিণের মাংস তার বাসায়ও গিয়েছিল। ইকোপার্কে হরিণ বানর অন্যান্য বন্য প্রাণীর কোন তদারকি নেই। উপজেলা মিটিংয়ে ফরেস্টার রফিকুল ইসলাম নিজেই স্বীকার করেছেন ইকো পার্কের বন্যপ্রাণী লোকালয়ে যায়। এটা একটা অজুহাত মাত্র, ফরেস্টার রফিকুল ইসলামের যোগসাজশে হরিণ সহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী চোরা কারবারিদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। ইকো পার্কের দক্ষিণ গাইড বাধে ও উত্তর গাইড বাধে বন বিভাগ কর্তৃক ২০০১ – ২০০৪ সালে রোপিত আকাশমনি, শিশু,জারুল, গর্জন ও ঔষধি গাছ রোপন করা হয়। একশ্রেণীর দুষ্কৃতিকারী চোরাকারবারিদের সাথে যোগসাজশে সৃজিত বাগানের গাছ অবৈধভাবে পাচার করে আর পকেট ভরে নিচ্ছে। আমার দাবি, ইকোপার্কে তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত করে পাচারকৃত গাছের মোথা জব্দ করে তাহার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক কার্যধারা প্রণয়ন করা হোক। কামার খন্দ উপজেলা নার্সারি কেন্দ্রে উৎপাদিত চারা বিনা রশিদে বিক্রয় করে সরকারী রাজস্ব আত্মসাৎ করিতেছে। নার্সারি কেন্দ্রে তদন্ত কমিটি গঠন করে কতগুলো চারা উত্তোলন করা হয়েছিল কতগুলো চারা বিক্রি করে রাজস্ব জমা দেওয়া হয়েছে তদন্ত করলেই ফরেস্টার রফিকুল ইসলামের থলের বিড়াল বেরিয়ে যাবে। ফরেস্টার রফিকুল ইসলাম শহরের ব্যাঙ পাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় অন্যান্য বন কর্মীরা মুখ খুলতে পারে না।
ফরেস্টার রফিকুল ইসলামের অপকর্ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা মুখ বুজে সহ্য করে থাকে। তার অধীনস্থ কর্মচারীদের সাথে চাকর বাকরের মত ব্যবহার করে। একাই তিনটির দায়িত্বে থেকে একহাতে লুটেপুটে খাচ্ছে সরকারি সম্পদ। একজন চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ বদলির নীতিমালা লংঘন করে কিভাবে ১৫ বছর একই জায়গায় থাকে কর্তৃপক্ষ তার সঠিক জবাব দিতে পারবেন কি ? আমার জীবন নাশের হুমকি দেওয়ার দায়ে আগামীকাল তার মোবাইল নাম্বার দিয়ে থানায় জিডি করবো ইনশাল্লাহ। আমার বন্ধু মহল, আমার শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি অনুরোধ এই বেয়াদব, দুর্নীতিবাজ ফরেস্টার রফিকুল ইসলাম কে যদি ঢাকা বন ভবনে কিংবা সেগুনবাগিচা হিসাব রক্ষণ অফিসে দেখা যায় সংবাদটা আমাকে জানাবেন। আমিও দেখে নিবো ও কত বড় ক্যাডার কত বড় অফিসার । ওর সাথে আমার খেলা চলছে -আগামী তো চলবে…..