নিজস্ব প্রতিনিধি। রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট (বিএসপিআই) এর শিক্ষক এজাবুর আলম কর্তৃক কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় ফেল করার হুমকি দিয়ে প্রায় সময় শিক্ষার্থীদের হয়রানি ও নাজেহাল করার অভিযুগে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলনে নামে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা।
বুধবার সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা তাদের ক্যাম্পাসে আন্দোলন কর্মসূচী শুরু করলে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে সুইডেন পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন হাওলাদার পদত্যাগে বাধ্য হন। একই সময়ে অভিযুক্ত যৌন নীপিড়ক শিক্ষক জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর(টেক-সিভিল-উড) এজাবুর আলমকে সুইডিশ থেকে সরিয়ে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে সংযুক্তির জন্য বদলির আদেশের প্রজ্ঞাপন আসে ঢাকা থেকে।
বুধবারের এই ঘটনার দুইদিন আগে থেকেই অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর শিক্ষক এজাবুর আলম এর বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির সুনির্দিষ্ট্য অভিযোগ এনে ঐ শিক্ষকের পদত্যাগের দাবীতে বিএসপিআই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ প্রদর্শনের আন্দোলন শুরু করে।
এসময় অভিযুক্ত শিক্ষক এজাবুরের বিরুদ্ধে বুূধবার (২১আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকা কারিগরি অধিদপ্তরে বদলি ও পদায়ন বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন আসে। অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন হাওলাদার প্রজ্ঞাপনটি নিয়ে এসে বিক্ষোভ সমাবেশে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থামানোর অনুরোধ করতে আসলে তাঁর বিরুদ্ধেও শিক্ষার্থীরা পদত্যাগের স্লোগান দিতে থাকে। এক পর্যায়ে অধ্যক্ষের কার্যালয় ঘেরাও করে অবস্থান করতে থাকে শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য: ২০২২ সালের ২৭ আগস্ট ইনস্টিটিউটের ৫২ ব্যাচের এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সিভিল উড বিভাগের জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর এজাবুর আলমের (৩৫) বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ এর নিকট অভিযোগ দেন। অভিযোগ পাওয়ার পর একই বছরের ৩০ আগস্ট সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি সাত কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেন এবং ঐ ছাত্রীর সাথে কথা বলে অভিযুক্তের সত্যতা পান।
পরবর্তীতে যৌন হয়রানি অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক মো.এজাবুরকে একই বছরের ৮ সেপ্টেম্বর ভোলা পলিটেকনিক্যালে বদলি করা হলেও চলতি বছরের মে মাসে তিনি কাপ্তাই বিএসপিআই এ আবারও যোগদান করেন বলে জানা গেছে।#