আপনি কি জানেন? বেগম খালেদা জিয়া জন্মসূত্রে ভারতীয়! শেখ হাসিনার মেয়ের নাম এবং খালেদা জিয়ার ডাকনাম একই! খালেদা জিয়ার বাবা ইসকান্দার মজুমদারের জন্মস্থান এবং পৈতৃক নিবাস হচ্ছে ফেনী জেলার ফুলগাজী থানার মজুমদার বাড়ি। খালেদা জিয়ার ফুফু থাকতেন জলপাইগুড়িতে। ইসকান্দার মজুমদার ১৯১৯ সালে পড়াশোনার জন্য বোন দুলাভাইয়ের কাছে জলপাইগুড়িতে চলে যান। সেখানে পড়াশোনা করতে করতে একসময় শুরু করেন চা পাতার ব্যবসা। যেহেতু জলপাইগুড়ি এবং দার্জিলিং এর চা তখন জগৎজোড়া বিখ্যাত ছিল। পরে জলপাইগুড়িতেই বিয়ে করেন ১৯৩৭ সালে। তখন ভারত বাংলাদেশ পাকিস্তান একই রাষ্ট্র ছিল। আর জলপাইগুড়ি ছিল বর্তমান বাংলাদেশের অংশ তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বঙ্গ প্রদেশের একটি জেলা। পরপর দুই কন্যা সন্তানের পর ১৯৪৫ সালে বাবা-মা একটি ছেলে সন্তানের আশা করেছিলেন, কিন্তু আবারো কন্যা সন্তান! বাবা-মায়ের মন খারাপ। কিন্তু একদম পুতুলের মত জন্ম নেওয়া কন্যা শিশুটির নানা-নানী আদর করে নাম রাখেন পুতুল! এই মন খারাপ করা পুতুলটি হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়া! পুতুলের জন্মের ২ বছর পর ১৯৪৭ সালে ভারত পাকিস্তান আলাদা হয়ে যায়। জলপাইগুড়ি পড়ে যায় ভারতে, ৪৭ এর দেশ ভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানের অনেক হিন্দু চলে যায় পশ্চিমবঙ্গে, আবার পশ্চিমবঙ্গের অনেক মুসলিম চলে আসে পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশে। বেগম খালেদা জিয়ার বাবা ইসকান্দার মজুমদারও বাংলাদেশ অংশে চলে আসেন। যেহেতু জলপাইগুড়ি জেলা দিনাজপুরের কাছাকাছি, তাই তিনি দিনাজপুরে এসে ব্যবসা শুরু করেন। সন্তানদের ভর্তি করে দেন দিনাজপুরের স্কুলে। পুতুল প্রথমে ভর্তি হয় মিশনারি স্কুলে। পরে ভর্তি হন দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। ১৯৬০ সালে পাকিস্তান সরকারের সেনা অফিসার চাকরি সূত্রে যান দিনাজপুরে, মেট্রিকুলেশনের ছাত্রী তরুণী পুতুলকে দেখে একজন আর্মি অফিসার বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। আর এভাবেই খালেদা খানম পুতুল হয়ে যান খালেদা জিয়া। বিয়ের পরও তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যান, ভর্তি হন দিনাজপুরে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে। পরবর্তীতে স্বামী জিয়াউর রহমান পশ্চিম পাকিস্তানে চাকরি সূত্রে ট্রান্সফার হয়ে গেলে বেগম খালেদা জিয়াকেও স্বামীর সাথে চলে যেতে হয় পশ্চিম পাকিস্তানে। যেহেতু তখন পশ্চিম পাকিস্তান এবং পূর্ব পাকিস্তান একই রাষ্ট্র ছিল, তাই বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত ছিল জিয়া ও পুতুল দম্পতির। আমি আমার পরবর্তী পোস্টে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক স্ট্রাগলের ইতিহাস তুলে ধরবো। আশা করছি পরবর্তী পোস্টের সঙ্গে থাকবেন। ©আহসান আলমগীর