শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

বন বিভাগে (চট্টগ্রাম অঞ্চল) কর্মরত পদোন্নতি বঞ্চিত ফরেস্টার ও  গার্ডদের মনববন্ধন

  • প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০২৫, ৫:২৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১ বছর আগে

দীর্ঘ ২০ থেকে ৩৫ বছর ধরে পদোন্নতির সকল যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তা না দেওয়ার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ফরেস্টার ও ফরেস্ট গার্ডরা আন্দোলনে নেমেছেন।
গত (৮ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম নগরের নন্দন-কানন এলাকায় ফরেস্ট অফিসের সামনে ‘‘বাংলাদেশ ফরেস্টার ও ফরেস্ট গার্ড পদোন্নতি বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ’’- এর ব্যানারে তারা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
মানববন্ধনে অংশ নেন চট্টগ্রাম অঞ্চলে কর্মরত প্রায় তিন শতাধিক বনকর্মী। এদিকে, মানববন্ধন থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়- দাবি আদায় না হলে আগামী ২৮ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সব বনাঞ্চলে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ বিভাগীয় কার্যালয়ে জমা দেওয়া হবে এবং ৪মে থেকে ৮মে পর্যন্ত টানা অবস্থান ধর্মঘট পালন করা হবে বিভাগীয় দপ্তর ও অঞ্চল/সার্কেল পর্যায়ের দপ্তরগুলোতে। চূড়ান্ত কর্মসূচি হিসেবে জানানো হয়, আগামী ১৫ মে ঢাকার আগারগাঁওয়ে বন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় ঘেরাও করে আমরণ অনশন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন তারা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলেও ঘোষণা দেন পরিষদের নেত্রীবৃন্দ।
পরিষদের নেত্রীবৃন্দ জানান, গত ৬ মার্চ কর্তৃপক্ষকে এক মাস সময় দিয়ে সমস্যার সমাধান চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়সীমা পার হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করেনি কর্তৃপক্ষ। তাই তারা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
পরিষদের নেত্রীবৃন্দ আরও বলেন, দেশের বনভূমি, বন্যপ্রাণী ও বনজ সম্পদ রক্ষার পরিবার পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকে ফরেস্টার ও ফরেস্ট গার্ডগণ। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক বনকর্মী বনদস্যু ও ভুমিদস্যূদ্বারা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন। কিন্তু তারাই অবহেলিত, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। অনেকে হতাশা নিয়ে অবসরে গেছেন, কেউ কেউ রাগে, ক্ষোভে, অভিমানে স্বেচ্ছায় অবসরে চলে গেছেন। বন বিভাগ এমনই একটা জায়গা যেখানে সমতলে চাকুরী করার সুযোগ অতি:নগন্য। এখানে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থেকে পরিবার-পরিজন তথা জন-বিচ্ছিন্ন থেকে দায়িত্ব পালন করতে হয় অধিকাংশ ফরেস্টার ও ফরেস্ট গার্ডকে।
এখন বন বিভাগ একটি হতাশার নাম। অথচ এ বন বিভাগ একটি শতাব্দী প্রাচীন সরকারি সংস্থা যা ১৮৬২খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়ে অধ্যাবধি চলমান। এক সময় সংরক্ষিত বনে বিনা অনুমুতিতে প্রবেশ করার অপরাধে যে কাউকে গ্রেফতারসহ গুলি করার ক্ষমতা ছিল বন কর্মীদের! সে বন বিভাগ কালের পরিক্রমায়, রাষ্ট্রীয় হঠকারিতায় আজ ভুমিদস্যু, বনদস্যুদের লালসার শিকার হয়ে প্রায় নিস্তেজ, খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের আহ্বায়ক, সরোয়ার জাহান, সদস্য সচিব, জসিম উদ্দিন, মোস্তফা কামাল, মোস্তাফা জামাল, আরিফুল আলম, নাসিরুল আলম, সুলতান মাহমুদ টিটু, নাজমুল হাসান প্রমুখ।

ফরেস্ট গার্ড এর পদোন্নতি !
সম্প্রতি প্রধান বন সংরক্ষকের দপ্তরে ফরেস্ট গার্ডদের পদোন্নতি সমস্যা নিরসনে সকল পক্ষের উপস্থিতিতে মিটিং হয়। যার ধারাবাহিকতায় আগামীকাল ১৯/০৪/২৫ তারিখে ২০১৬ সনে (১ম ও ২য় ব্যাচ) নিয়োগপ্রাপ্ত ফরেস্ট গার্ডদের নিয়ে বন সংরক্ষক, চট্টগ্রাম অঞ্চল এর মিলনায়তনে মিটিং। পদোন্নতির একমাত্র সমস্যা এখন জৈষ্ঠ্যতা নির্ধারনে। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় সঠিক সময়ে নিয়মিতকরন না করার কারনে ৩০/৩২ বছর চাকুরী করার পরও ২০১৬ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত ফরেস্ট গার্ডদের নিম্নে তাদের জৈষ্ঠ্যতা নির্ধারন হয়েছে। এর দায়ভার কর্তৃপক্ষ কখনও এড়াতে পারেন না। তাই ফরেস্ট গার্ডদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে মামলা জটিলতা। মামলা কারা করেছে? যাদের অধিকার খর্ব হয়েছে তারাই মামলা করেছে। আপনি আমি ঐ জায়গায় থাকলে নিজের অধিকার রক্ষায় তাই করতাম। আমি কখনও কারো পক্ষ নিয়ে লিখি না বা কাউকে সন্তুষ্ট করার জন্যও লিখি না। যেটা যৌক্তিক ও ন্যায় সংগত তাই লেখার চেষ্টা করি। কথায় আছে “উদোর পিন্ডি বুদুর ঘাড়ে”। দোষ করলো কর্তৃপক্ষ আর খেসারত দিচ্ছে ফরেস্টার আর ফরেস্ট গার্ডরা। তাই দফায় দফায় মিটিং করেও কোন যৌক্তিক সমাধান হচ্ছে না। এখন কথা হলো ক্যালকুলেশন এর বিষয়। আপনার যে ভাই ৩০/৩২ বছর পদোন্নতি না পেয়ে মানসিক কষ্ট নিয়ে একই পদে চাকুরী করছে অনেকে মনোকষ্টে স্বেচ্ছায় অবসরে যাচ্ছে তাদের জৈষ্ঠ্যতা আপনার আগে মেনে নিলে তিনি যদি ১/২/৩ বছর ফরেস্টার পদে পদোন্নতি পেয়ে চাকুরী করে অবসরে যান তারা যেমন মানসিক ভাবে শান্তি পাবে, সামাজিকভাবে সম্মান পাবে আর আল্লাহও খুশি হবেন। আর আপনারাও মহানুভবতা বা মানবিকতার পরিচয় দিয়ে দোয়ার ভাগীদার হবেন। ফরেস্টারগনের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাদের উদ্দেশ্যে সফল। মামলার প্রক্রিয়া সৃষ্টি করে পরস্পরের মধ্যে মামলা জটিলতা তৈরী করে এমন অবস্থা করেছে সরাসরি ফরেস্ট রেঞ্জার নিয়োগ দিয়ে তাদের ষোলআনা আশা পূর্ন করেছে। এখন ফরেস্টাররা সর্বোচ্চ ফরেস্ট রেঞ্জার পর্যন্ত পদোন্নতি পাবে। বড় ক্ষতি কাদের হয়েছে! ডিপ্লোমা ফরেস্টারদের। অথচ ইন সার্ভিস ডিপ্লোমা ও এডহক এর ফরেস্টারও কিন্তু ডিভিশনের চার্জে গিয়েছে। আল্লাহ সম্মান দেওয়ার মালিক আর নেওয়ারও মালিক। নিজের পায়ে কুড়াল মেরে কিছু ডিপ্লোমা ফরেস্টার (২০০৪,২০১৪) এর কারনে আজ এমন করুন পরিনতি। সেটা কেউ অস্বীকার করার সুযোগ নাই। ইতিপূর্বে যখন ২০০৫ সালে ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল তখন যদি ২০০৪ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত ডিপ্লোমা ফরেস্টারগন ভেটো না দিতো তবে আজ এমন করুন পরিনতি হতো না। ডেপুটি রেঞ্জার পদ বিলুপ্ত করবে, সরাসরি ফরেস্ট রেঞ্জার বানাবে, তারা ডিএফও, সিএফ হবে কতইনা রঙ্গিন স্বপ্ন দেখিয়েছে আর তারা স্বপ্নে বিভোর থেকেছে আর শেষ পরিনতি —-!
এখন কোনো সুরাহা না হলে শেষে মামলা জটিলতার দোহাই দিয়ে ফরেস্টার পদে পদোন্নতি না দিয়ে শেষে সহকারী ফরেস্টার হতে হবে বিষয়টি মাথায় রাইখেন। তাই নিজের পায়ে কুড়াল মেরে অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করার মানসিকতা বাদ দিন তাতেই আপনাদেরই মঙ্গল।
আরেক বিষয় বাপের আগে হাটার অভ্যাস বন বিভাগে পুরাতন রীতি। পুরান চাল কিন্তু ভাতে বাড়ে। আর সম্মান পেতে হলে সম্মান করতে জানতে হয়। ৩০/৩২ বছর চাকুরী করে স্টেশন/শহর রেঞ্জে চাকুরী করতে না পারার আনুপাতিক হার কিন্তু ক্যালকুলেশন এ আপনাদের চেয়ে কম ছাড়া বেশী হবে না। তাই ধরাকে সরাজ্ঞান করার অভ্যাস পরিত্যাগ করুন। ইদানিং বয়োজ্যেষ্ঠ্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও আকারে ইঙ্গিতে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হচ্ছে। তাদের অফিসিয়াল ও ম্যানেজমেন্ট এর অভিজ্ঞতা অনেক উর্ধ্বে। তাই বয়োজ্যেষ্ঠদের অবজ্ঞা করা বন্ধ করুন। অনেক জায়গায় সিনিয়ররা দাড়িয়ে থাকে সিনিয়ররা চেয়ারে পায়ের উপর পা দিয়ে বসে থাকে। এমন নোংরা মনমানসিকতা থেকে বেড়িয়ে আসুন। জৈষ্ঠ্যতা তালিকায় আপনি সিনিয়র তাই বলে কি পিতৃসমতুল্য বড় ভাইদের অশ্রদ্ধা করবেন! মনে রাখবেন আল্লাহ দাড়া কামলা শোধ করে। আপনার কর্মফলই আপনাকে একদিন এমন পর্যায়ে নিয়ে যাবে অন্য কারো দ্বারা আপনি অস্মানিত হবেন। মাইন্ড ইট।
ধাদায়োতাই ১৯/০৪/২৫ তারিখের মিটিংটাকে ফলপ্রসূ করে পদোন্নতি সমস্যা নিরসনে সহযোগীতা করুন। সকলের জন্যই তা কল্যানকর হবে।
May be an image of studying and text

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...