আমার বাবা কান্তি লাল আচার্য্য।৩৫ বছর ভাটিয়ারী হাজী তোবারক আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।আমার বাবাকে গতকাল ১৬.০৪.২৫ তারিখে কোন রকম প্রমানিত অভিযোগ ছাড়া বলপূর্বক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে পদত্যাগ করানো হয়।আমার বাবার কি অপরাধ, কি সমস্যা কিছু বলা হয়নি।
জানেন, স্কুলে ঝামেলা হওয়ার আগে বাবাকে মানা করা হয় স্কুল যেতে।বলছিল,স্কুলে গেলে অপমান হতে হবে।
বাবা সেই কথার উত্তরে বলেন, ” আমি কোন অন্যায় করিনি,আমার কোন অপরাধ নেই।আমাকে পদ থেকে সরে যেতে বল্লে নির্দ্বিধায় আমি সরে যাবো।তবুও আমি স্কুলে যাব।আমি কেন পালিয়ে বেড়াবো।কেউ আমার অপরাধের প্রমাণ আনতে পারলে আনুক।”
বাবাকে পদত্যাগ করার আগেও স্কুলে ককটেল ফাটানো হচ্ছিল। আমার বাবা তখনো নির্ভীক।জোড় করে সাইন করতে বলছিলএমন একটি কাগজে যেখানে লেখা ছিল,দুর্নীতির অভিযোগে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছি।বাবা নির্ভয়ে বলে ছিল,”আমি দু্নীতি করিনি,এই পেজে আমি সাইন করবো না।এমনিতেই পদত্যাগ করছি।” সেই সময় বাবাকে একদল মারতে যায়।
পরবর্তীতে, আরেকটি কাগজে লেখা হয় :”ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছি”।।
কি সুন্দর তাই না! আমার বাবা কত মানুষকে ঘরে রেখে পড়িয়েছেন, কত মানুষকে টাকা ছাড়া পড়িয়েছেন, কত মানুষের ফি মওকুফ করেছেন।আজ একজন শিক্ষকের এই পরিনতি! আমার বাবা অসুস্থ হয়ে গেছে বিশ্বাস করেন।আমার বাবা এবং আমরা কেউ মানতে পারছিনা যে,একজন মানুষ ৩৫ বছর চাকরিরত থাকার পর তাঁর এই পরিনতি।
আপনারা উগ্র হয়ে একজন জলজ্যান্ত মানুষকে কবর দেয়ার মতো যন্ত্রণা দিয়েছেন।এতোদিন অন্য মানুষের এমন ঘটনা দেখতাম।আজ আমার বাবার সাথে এই হেন কাজ হয়েছে।
জানেন, আমরা মেয়েরা বাবার অপদস্ত হওয়ার ভিডিও দেখে রাতে ঘুমাতে পারছিনা।ভাবুন উনি শিক্ষক নয় শুধু,উনি আপনার বাবা।আপনার বাবার সাথে এমন হলে আপনার কেমন লাগবে বলুন!
একজন শিক্ষকের এই অপমান!পৃথিবীতে একমাত্র হীন জাতি আমরা যারা পদে পদে শিক্ষকদের টার্গেট করে এই অপমানজনক পরিস্থিতি উপহার দিচ্ছি।
আজ আমাদের সাথে হলো।কাল ঠিকই সবার পাল্লায় এই মব এসে উপস্থিত হবে।ঈশ্বর ছেড়ে দেইনা ভাই।বিশ্বাস করেন,আমার বাবার দীর্ঘশ্বাস,চোখে এক আতঙ্কের আভাস এই সব কখনো ভালো ফল বয়ে আনবেনা। খোজ নিয়ে জানাগেছে- দুই দলের সুবিধাভোগী কিছু দুস্কৃতিকারী এই ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটিয়েছে।
লেখক কন্যা ভবানী আর্চায্য !