নিজস্ব প্রতিনিধি:- রাঙ্গামাটির কুতুকছড়ি এলাকায় সশস্ত্র হামলায় ধর্মসিং চাকমা নামে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর এক নেতা নিহত হয়েছেন। এ সময় তার দুই বোন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।
নিহত ধর্মসিং চাকমা ইউপিডিএফের সহযোগী সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তার বাবার নাম ধনঞ্জয় চাকমা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র ও এলাকাবাসীর বরাতে জানা যায়, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ছয়টার দিকে কুতুকছড়ি উপরপাড়া এলাকায় একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত ধর্মসিং চাকমার বাসায় গিয়ে তাকে বাইরে ডাকে। তিনি পালানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এ সময় এলোপাতাড়ি গুলিতে তার দুই বোন ভাগ্যসোনা চাকমা ও কৃপাসোনা চাকমা গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। পরে সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। জানা গেছে, দুই নারীই হাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
রাঙ্গামাটি কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিমউদ্দিন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি। সেখানে পৌঁছে বিস্তারিত জানানো যাবে।
রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শওকত আকবর জানান, সকালে গুলিবিদ্ধ দুই নারীকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তারা বাড়ি ফিরে গেছেন।
এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে ইউপিডিএফের নেতাকর্মীরা রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
বিবৃতিতে তিনি এ হত্যার ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক ও কাপুরুষোচিত উল্লেখ করে বলেন, আজ ভোর সকালে রাঙামাটি সদর উপজেলার কুদুকছড়ি উপর পাড়ায় (আবাসিক) সন্তু লারমার লেলিয়ে দেওয়া একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী যুবনেতা ধর্মশিং চাকমাকে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করেছে। এ সময় তার দুই বোন কৃপা সোনা চাকমা ও ভাগ্য শোভা চাকমা ভাইকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে সন্ত্রাসীরা তাদেরকেও গুলি করে গুরুতর জখম করেছে।
বিবৃতিতে ইউপিডিএফ নেতা ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, জেএসএসের সভাপতি সন্তু লারমা আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারে বসে খুনি বাহিনী লালন পালন করে পার্বত্য চট্টগ্রামে খুনের রাজত্ব কায়েম করেছেন। রাষ্ট্রীয় বিশেষ মহলের পৃষ্ঠপোষকতায় গদি রক্ষার্থে তিনি এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।#

