রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬

রাঙামাটিতে মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে- বিক্ষোভ পাল্টা পাল্টি অভিযোগ!

  • প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০২৫, ৫:১৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১ বছর আগে

রাঙামাটি শহরে মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ পার্বত্য শহর রাঙামাটিতে মাদকের ব্যবহার বৃদ্ধিতে এবং মাদক ব্যবসায়িদের নানান অপকর্মের কারনে অতিষ্ট্য হয়ে মাদক কেনাবেচার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে এবার বিক্ষোভ করেছে তিন এলাকার বাসিন্দারা। শুক্রবার বিকেলে রাঙামাটি শহরের মেডিকেল কলেজ এলাকায় থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শতাধিক নারী-পুরুষ হাসপাতাল সড়ক হয়ে সুখী নীল গঞ্জের ব্রীজের ওপারে সমাবেশে মিলিত হয়।

এলাকাবাসী সুত্রে জানায়, মাদক ব্যবসায়ি সিন্ডিকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে ।বেশ কিছু ধরে হাসপাতাল ব্রীজের পরিত্যাক্ত ভবনে কিছু বিএনপির স্থানীয় নেতারা বসে নানা ধরনের অপরাধ করার অভিযোগ রয়েছে। বিগত বছরে যুবলীগের নেতারা দখলে ছিল পরিত্যাক্ত ভবনটি। এই ভাবে শহরে বিভিন্ন স্থানে জায়গা ভবন মৎস্য ঘের দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে বিএনপির একাংশ। শিমুলতলী বেতার পাশে নাসিমা খানম ক্রয় কৃত রেজি: জায়গায় পাচ মহল্রার জায়গা ব্যানার দিয়ে দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এই ভাবে  শহরের অন্যতম পরিচিত হাসপাতাল এলাকা, হ্যাচারি এলাকা, মোল্লা পাড়া এলাকায় জনৈক দেলোয়ার হোসেন শাকিলের নেতৃত্বে মাদক ব্যবসায়িদের সিন্ডিকেট চক্র প্রতিনিয়তই মাদক কেনাবেচা করে উঠতি বয়সী যুবকদের নেশা আসক্ত করে গড়ে তুলছে। এদের নিজেদের অভ্যন্তরীন কোন্দলে এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, মাদক কেনাবেচার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে এতোদিন কেউই মুখ খুলতে সাহস করেনি।

বিগত স্বৈরাচারি সরকারের জনৈক আওয়ামীলীগ নেতা, যুবলীগ নেতার প্রত্যক্ষ মদদে উক্ত এলাকাগুলোতে প্রকাশ্য দিবালোকে ইয়াবা, চোলাই মদসহ বিভিন্ন মাদক কেনাবেচার পাশাপাশি ছিনতাইয়ের মতো অপকর্ম করে আসছে। সম্প্রতি মাদক ব্যবসায় বাধা দিতে গিয়ে মাদক কারবারিদের আক্রমণের শিকার হয়েছে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে অন্তত ৮ আটজন আহত ব্যক্তি। এই ঘটনায় তিন এলাকার বাসিন্দারা কোতয়ালী থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করলে ঘটনার মূলহোতা দেলোয়ার হোসেন শাকিলকে গ্রেফতার করেছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। এদিকে সমাবেশ থেকে অবিলম্বে মাদক ব্যবসায়িদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জায়গা দখল, মাদক বিক্রিসহ নানান অপতথ্য প্রচার করে একটি পক্ষ মূলহোতাদের আড়াল করার চেষ্ঠা চালিয়েছে।

শাহিন নামে যুবদল নেতা জানায়, বিগত আওয়ামীলীগ সরকার আমলে স্থানীয় যুবলীগ নেতা বাবু চক্রবতী ভবন ও মৎস্য ঘের দখলে ছিল ১৫ বছর ধরে। যুবলীগ পালিয়ে গেলে আমরা অফিস হিসাবে ব্যবহার করে আসছি ।

এলাকাবাসী জানায়, আমরা কোন দল করি না। অনেকদিন ধরে মাছের ঘের দিয়েছি আমরা কিন্ত চাদা দাবী করে যুবদল নেতারা। তাদের কথামতে না চললে কখনো মাদকের সাজানো মামলা দেয়। থানায় জিডি করতে গেলে নেয় না ।

মূল বিষয় হলো হ্যাচারি এলাকায় অবৈধভাবে জায়গা দখল করে দোকানঘর উঠিয়ে ব্যবসা করছে স্থানীয় আওয়ামীলীগের দোসররা। তাদের প্রত্যক্ষ মদদেই হাসপাতাল, হ্যাচারি ও মোল্লা পাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসা করে আসছে সিন্ডিকেট চক্র। এই ধরনের অপকর্মকারিদের ধারাবাহিক অত্যাচার নীপিড়নে অতিষ্ট্য হয়েই শুক্রবার বিকেলে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষনে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

এই বিষয়ে জেলা যুবদল নেতা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানায়, কিছু ৫ আগষ্টের পরে নেতা কেউ হঠাৎ নেতা মুলত: বিএনপিকে বিপদে ফেলতে এসব ষড়যন্ত্রের বহি:প্রকাশ। যুবদল ও বিএনপি এসব অপরাধ মুলক কাজে কখনো আশ্রয় দেবো না। দলীয় সম্পৃক্ততার  তধ্য প্রমান পেলে দলীয় শৃংখলা মতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...