দেউলিয়াত্ব থেকে ফিরে আসা দ্বীপদেশ শ্রীলংকায় মূল্যস্ফীতি দুই মাস ধরে ঋণাত্মক। অর্থাৎ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমতে থাকায় দেশটিতে এখন মূল্য সংকোচন দেখা যাচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই মূল্যস্ফীতির সর্বোচ্চ হার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) গতকাল প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর শেষে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশে, যা এর আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। গত মাসে দেশে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১২ দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশে। আর সেপ্টেম্বরে এ হার খাদ্যপণ্যে ছিল ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। এ সময় শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে মূল্যস্ফীতির তীব্রতা বেড়েছে। অক্টোবরে শহরাঞ্চলে মূল্যস্ফীতির হার ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ। গ্রামাঞ্চলে তা ১১ দশমিক ২৬ শতাংশে।
বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কয়েক দফায় নীতি সুদহার বাড়ানোর পাশাপাশি নিত্যপণ্যের শুল্কছাড় এবং বাজার তদারকিতে ব্যাপক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর পরও তা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। উল্টো ভোক্তাদের জন্য পরিস্থিতি দিনে দিনে আরো অসহনীয় হয়ে উঠছে। এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদদের বক্তব্য হলো শুধু নীতি সুদহার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বরং এখানে রাজস্বনীতি, বাজার ব্যবস্থাপনা ও পণ্যের সরবরাহ চেইনে শৃঙ্খলা ফেরানোও গুরুত্বপূর্ণ। নইলে শুল্কছাড়ের সুফল ভোক্তার কাছে না পৌঁছে গুটিকয়েক সিন্ডিকেটের পকেটে ঢুকে যাবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য অর্জনও দিনে দিনে আরো কঠিন হয়ে পড়বে।
সূত্রঃ বিআরসি নিউজ