নিজস্ব প্রতিবেদক। প্রকল্পের মেয়ার দুই দফায় শেষ হলেও শেষ হলোনা কাউখালী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবন নির্মাণের কাজ। অনেকটা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এই ভবন নির্মাণের কাজ।ঠিকাদারদের উদাসীনতা, অবহেলায় ৭ বছরেও শেষ হয়নি ৬৫ শাতংশ। এতে করে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। স্থানীয়দের অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট তথ্যমতে জানাযায়, ২০১৭ সালেই ছ ১৫ কোটি ৫০ লাখ ৮৯ হাজার ৩২০ টাকা ব্যয় ধরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে ঠিকাদার নিয়োগ দেয় সংশ্লিষ্ট দপ্তর।কাজটি পায় চট্টামের প্রভাবশালী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স নাজির হোসেন অ্যান্ড নাহিয়ান এন্টারপ্রাইজ। কাজ পাওয়ার পর থেকে কাজের ধীর গতি, কাজ বন্ধ থাকা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লাপাত্তা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন, একাধিকবার সময় বাড়ানো। স্থানীয়দের প্রশ্ন কবে শেষ হবে কাউখালী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কাজ?
২০১৭ সালের শেষে দিকে কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানটি কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা ছিল ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে।কিন্তু ২০২৪সালে এসেও কাজ বুঝিয়ে দেওয়াতো দূরের কথা, এ সময়ে ৬৫ শতাংশ কাজও করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। প্রথম কাজ শুরুর কয়েক মাস পর বন্ধ হয়ে যায় ভবণ নির্মানের কাজ,কিন্ত জানতেন না সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কৌশলে কাজের দ্বিগুণ টাকা (প্রায় ৩ কোটি টাকা) তুলে লাপাত্তা হয়ে যান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধারৃ ।এর পর কাজ বন্ধ থাকে দুই বছরেরও অধিক সময়। পরে ২০২০ সালের শেষের দিকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স নাজির হোসেন অ্যান্ড নাহিয়ান এন্টারপ্রাইজে খুঁজে বের করে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। তারা কাজ করতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাদেরই মাধ্যমে নতুন ঠিকাদার আব্দুল্লা আল মামুন (সুমন) এর এএইচ এন্টারপ্রাইজকে চুক্তির মাধ্যমে নিয়োগ দেয় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, রাঙামাটি। নতুন ঠিকাদারকে ২০২০ সালের অক্টোবরে কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার পর ২০২২ সালের মার্চের মধ্যে কাজ শেষ করতে বলা হয়।
উক্ত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় পরে একটি বিশেষ চিঠিতে ২০২২ ডিসেম্বরের মাধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর পর আবারো সময় বাড়ানো হই ২০২৪ ডিসেম্বর প্রর্যন্ত কিন্তু এসময়ের মধ্যেও কাজ শেষ হবে ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশের মতো। ২০২৪ সালেও কাজ শেষ করতে পারা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয় সাধারণ মানুষের মনে। এর মধ্যে উক্ত কাজে সময় বাড়ানো হয়েছে একাধিকবার। কাউখালী কলমপতি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যাজাই মারমা বলেন,আজ ৭টা বছর হয়ে যাচ্ছে এখনো কাজটি শেষ হইনি।আমাদের উপজেলার প¦াশের রাউজান উপজেলা আমাদের সাথে একি সময়ে কাজ শুরু করেছিলো ইতিমধ্যে তাদের সকল কাজ শেষ হয়েছে।তাহলে কেন আমাদের কাজটি শেষ হলোনা। আমি এর মধ্যে কয়েকবার দেখতে গিয়েছিলাম কাজের অগ্রগতি কিন্তু গিয়ে দেখি কাজ বন্ধ ।
এমন ভাবে যদি চলতে থাকে আরো ৫বছরেও কাজ শেষ হবেনা। আমাদের দাবী সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে বিষয় গুরুত্বসহকারে যাতে দেখেন। কাজ কেনো ব›ধ সে বিষয়ে জানতে ঠিকাদার এএইচ এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার আব্দুল্লা আল মামুনের (সুমন) ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর রাঙামাটির নির্বাহী প্রকৌশলী বিজক্ক চাকমার কাছে কাজের অগ্রগতি ও ধীরগতির কারণ জানতে চাইলে তিনিও ঠিকাদারের পক্ষে সাফাই গাইলেন ,কাজের ধীরগতির জন্য দুষলেন ও রাস্তা খারাপ হওয়া ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক সমস্যা দেখালেন। পরে কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার সর্বশেষ সময় জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাজ তো এখনো চলমান আছে, উনি (ঠিকাদার) টাইম এক্সটেনশন করে করে কাজ করতেছে আরকি। এ বছরের ডিসেম্বর পর্য ন্তসময় দেওয়া আছে। ঠিকাদারকে ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য প্রেসার দিচ্ছি। ১৮ মাসের কাজ ৭ বছরেও শেষ হলোনা কেনো আবার সময় বাড়ছে কিনা বা বাড়বে কিনা জানতে চাইলে তিনি উওর দিতে চাননি তিনি বলেন প্রকল্পের পিডি জানেন।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর রাঙামাটির নির্বাহী প্রকৌশলী বিজক্ক চাকমার এমন মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ।