বিশেষ প্রতিনিধি:-রাঙামাটির বরকল উপজেলার বরকল রাগীব রাবেয়া কলেজ ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দে কাজ শুরু হলেও মাত্র ১০টি পিলার নির্মাণ করে কাজ অসমাপ্ত অবস্থায় ফেলে রেখেছে ঠিকাদার। শুধু তাই নয়, পিলারের ব্যাস ঢালাইয়ে রড ব্যবহার না করা এবং নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে কম রড দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, দুর্গম এলাকা থেকে আসা দরিদ্র ও অসহায় ছাত্রীদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে পার্বত্য জেলা পরিষদের ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ৪তলা বিশিষ্ট একটি হোস্টেল ভবন অনুমোদন দেওয়া হয়।প্রথম ধাপের কাজের জন্য ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলে কাজ শুরু হয়। কিন্তু কাজ শুরুর পর থেকেই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।
কলেজ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ,ভবনটির প্রতিটি পিলারে ৬টি করে রড ব্যবহার করার কথা থাকলেও ঠিকাদার মাত্র ২টি করে রড দিয়ে কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করেন।বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কলেজ পক্ষ থেকে আপত্তি জানালে মিস্ত্রি দিয়ে পিলারের মাঝখানে ৬টি রড কোনোমতে গুঁজে দিয়ে কাজ চালিয়ে নেওয়া হয়। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, পিলারের ব্যাস ঢালাইয়ে কোনো প্রকার রড ব্যবহার করা হয়নি। বর্তমানে মাত্র ১০টি নিম্নমানের পিলার দাঁড় করিয়ে কাজ পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে।
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, “ছাত্রীদের নিরাপদ আবাসন এবং শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই ভবনটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যেভাবে দায়সারা ও নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে,তাতে পরবর্তী ৪তলা ভবন নির্মাণ করা হলে এটি যেকোনো সময় ধসে পড়ে জীবনহানির কারণ হতে পারে।”
নিম্নমানের এই অবকাঠামো নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও কলেজ প্রশাসনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের দাবি—অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কাজের গুণগত মান যাচাই করতে হবে এবং দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে মানসম্মতভাবে হোস্টেল ভবনটি পুনরায় নির্মাণ করতে হবে।অন্যথায়, সরকারি অর্থ অপচয় এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করার দায়ে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।