রাঙ্গামাটি প্রতিদিন ডেস্ক: বাংলাদেশে ব্যাঙ মারা, ধরা এবং বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা সরকারিভাবে নিষিদ্ধ। পরিবেশ ও কৃষির ভারসাম্য রক্ষায় এবং ব্যাঙের উপকারিতা বিবেচনায় সরকার এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। কিন্তু প্রকাশ্যেই ব্যাঙ মারা হচ্ছে, বানিজ্যিক ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা।
ব্যাঙ আমাদের পরিবেশ ও মানবজীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাণী। অনেকেই এর গুরুত্ব বুঝতে পারেন না, কিন্তু প্রকৃতিতে ব্যাঙের অবদান অনস্বীকার্য।
এভাবে নিধন হতে থাকলে একদিন হঠাৎ করেই ব্যাঙের ডাক থেমে যাবে, তখন বুঝবেন আমরা কী হারিয়েছি! একসময় সন্ধ্যা নামলেই পাহাড়, ঝর্ণা, ধানক্ষেত সব জায়গা জুড়ে শোনা যেত ব্যাঙের ডাক।
আজ সেই শব্দ ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে নীরবে, অজান্তেই। কেন? কারণ আমরা নিজেরাই তাদের শেষ করে দিচ্ছি।
পাহাড়ের অনেক জায়গায় এখন ব্যাঙ শিকার হচ্ছে, খাবার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।
কিন্তু আমরা কি একবারও ভেবে দেখেছি-
এই ছোট্ট প্রাণীটি আমাদের জন্য কত বড় ভূমিকা রাখে? একটি ব্যাঙ মানে- একটি প্রাকৃতিক কীটনাশক, একটি মশা কমানো যোদ্ধা, একজন কৃষকের নীরব বন্ধু, একটি সুস্থ পরিবেশের প্রতীক।
একটি ব্যাঙ মরে যাওয়া মানে- শত শত মশার বেঁচে যাওয়া, আরও বেশি রোগের ঝুঁকি, আরও বেশি বিষাক্ত কীটনাশক, আরও ভেঙে পড়া পরিবেশ।
ভাবুন তো…
যদি একদিন আপনার সন্তানেরা জিজ্ঞেস করে-
“বাবা, ব্যাঙ কেমন প্রাণী ছিল?” তখন কি আপনি শুধু গল্পই শুনাবেন? প্রকৃতি কিন্তু প্রতিশোধ নেয় না, সে শুধু ভারসাম্য হারায়। আর সেই ভারসাম্য হারানোর মূল্য দেয় মানুষই। এখনই সময়- আমাদের থামতে হবে। ব্যাঙ ধরা ও খাওয়া বন্ধ করতে হবে। অন্যদের সচেতন করুন। প্রকৃতির এই ছোট্ট প্রাণীগুলোকে বাঁচতে দিন
অনুরোধ রইলো- আমরা যেন নিজের হাতে নিজের বিপদ ডেকে না আনি। আজ ব্যাঙকে বাঁচান, আগামীকাল আপনার সন্তানকে বাঁচান। “ব্যাঙ বাঁচলে প্রকৃতি বাঁচবে, প্রকৃতি বাঁচলে আমরা বাঁচবো।” Deputy Commissioner Khagrachari স্যারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
ব্যাঙের ছবিগুলো আজকের স্বনির্ভর বাজার হতে তোলা। কাউকে ছোট করার জন্য নয়, শুধু সচেতনতার জন্য এই লেখা।