মঙ্গলবার, ০২ জুন, ২০২৬

জাতিসংঘে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে পিসিসিপির বিক্ষোভ

  • প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ৫:২৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১ মাস আগে

 

বিশেষ প্রতিনিধি:   জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরাম (UNPFII)-এর ২৫তম অধিবেশনে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক ও অসত্য তথ্য প্রদান করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটি।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ৩.৩০ টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে পিসিসিপি কে কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ সভাপতি আসিফ ইকবালের সভাপতিত্বে,পিসিসিপি চট্টগ্রাম মহানগর সভা ইন্জিনিয়ার মোঃ গিয়াস উদ্দিনের সঞ্চালনায়
প্রধান অতিথির হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মজিবর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য মো. হাবীব আজম, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের স্থায়ী কমিটির সদস্য এডভোকেট পারভেজ তালুকদার, খাগড়াছড়ি জেলা পিসিএনপি সভাপতি আব্দুল মজিদ, পিসিএনপি চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আল আমিন সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে দেওয়া বক্তব্যে বাংলাদেশের পার্বত্যাঞ্চল, সরকার ও নিরাপত্তাবাহিনী সম্পর্কে একপাক্ষিক ও চরম মিথ্যা চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যা বাস্তবতার সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিয়ে আসছে। এ নিয়ে ভুল তথ্য ও মিথ্যাচার নতুন নয়। আপনারা সরেজমিনে গিয়ে দেখুন—কারা আপনাদের নিরাপত্তা দিচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু রাজনৈতিক প্রতিনিধি বিদেশে বসবাস করে দেশের বাস্তবতা সম্পর্কে প্রকৃত ধারণা না রেখেই পাহাড় নিয়ে মিথ্যা ও ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। তারা জানেন না যে পাহাড়ে জেএসএস, ইউপিডিএফ ও কেএনএফ সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজিতে স্থানীয় নিরীহ মানুষ অতিষ্ঠ। কিছু রাজনৈতিক দলের হীন উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মিথ্যাচার এবং ঐতিহাসিক সত্যের বিকৃতি। তিনি আরও বলেন, এসব বক্তব্য রাষ্ট্রের উন্নয়ন কার্যক্রম, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও বাস্তবতাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে ভুল ধারণার সৃষ্টি করবে। তিনি অভিযোগ করেন, পাহাড়ে আধিপত্যের নামে নিজস্ব গ্রুপের মধ্যেই সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ড নিত্যদিনের ঘটনা, অথচ সেসব বিষয়ে কারও দৃষ্টি নেই।
বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে যারা জাতিসংঘের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্লাটফর্মে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে দেশের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রদান করে তাদের সনাক্ত করে রাষ্ট্রের স্বার্থে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান। অন্যদিকে সংবিধান, শান্তি চুক্তি ও প্রচলিত আইনে ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত পার্বত্য চট্টগ্রামের অবাঙালি জনগোষ্ঠীরা ‘আদিবাসী’ নয়, বরং উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী।
বাংলাদেশে ২০০৭ সালের পর থেকে বিচ্ছিন্নতাবাদী “আদিবাসী” শব্দের প্রচারণা ব্যাপকভাবে চলছে। এর কারণ হচ্ছে, ২০০৭ সালের আদিবাসী বিষয়ক একটি ঘোষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়, যাতে এমন কিছু বিতর্কিত অনুচ্ছেদ রয়েছে, যেগুলো বাস্তবায়ন করতে গেলে আদিবাসী অঞ্চলের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ও অখণ্ডতা থাকে না। যে কারণে বাংলাদেশ এই ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেনি।
জিয়া আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের আদি নিবাস হচ্ছে মিয়ানমার, ভারত, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড ইত্যাদি রাষ্ট্র। তারা ওখানকার আদিবাসী বা আদি বাসিন্দা, বাংলাদেশের নয়। শান্তি চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়নের আগে আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর হাতে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে পাহাড়কে সন্ত্রাসমুক্ত করতে হবে। ভূমি কমিশনে বাঙালি প্রতিনিধি যুক্ত করে বৈষম্যহীন ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে। ২০১৬ সালে সংশোধিত বিতর্কিত ধারাসমূহ বাতিল করে নিরপেক্ষভাবে ভূমি কমিশন পুনর্গঠন এবং ভূমি জরিপ সম্পন্ন করতে হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল অঞ্চল। এর বাস্তবতা জটিল ও বহুমাত্রিক। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একপাক্ষিক ও মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন কেবল বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই প্রয়োজন তথ্যনির্ভর, ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল উপস্থাপনা, যা সত্যিকার অর্থে এই অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে।
রাষ্ট্র, সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল যে চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতেও যদি এ ধরনের মিথ্যাচার অব্যাহত থাকে, তাহলে তারা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...