মঙ্গলবার, ০২ জুন, ২০২৬

রাঙামাটিতে ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতিনিধিদের জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান

  • প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১:০৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১ মাস আগে

 

নিজস্ব প্রতিনিধি:
রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভদের কাছ থেকে মাসিক চাঁদা দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন ড্রাগ ব্যবসায়ী সমিতির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো।
বুধবার ২৯ এপ্রিল ২০২৬ দুপুর ১টা ২০ মিনিটে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর নিকট এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এতে ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাসোসিয়েশন ও এরিয়া ম্যানেজারস ফোরামের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৫ এপ্রিল রাত ৮টা ৪৬ মিনিটে তবলছড়ি এলাকার একটি ফার্মেসির মালিক ফোন করে ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলামকে পরদিন একটি বৈঠকে উপস্থিত থাকতে বলেন। পরদিন ২৬ এপ্রিল সকালে পৌরসভার নিকটবর্তী একটি রেস্টুরেন্টে বৈঠকে অংশ নিতে গেলে সেখানে কয়েকজন ফার্মেসি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, বৈঠকের একপর্যায়ে রিজার্ভবাজার এলাকার এক ফার্মেসি মালিক  ড্রাগ সমিতির সভাপতি মো. হারুনুর রশীদ (বিহারী হারুন) ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতিনিধিদের কাছে মাসিক ৫০ হাজার টাকা হারে চাঁদা দাবি করেন। এ সময় উপস্থিত অন্য ব্যবসায়ীরাও তার দাবির প্রতি সমর্থন জানান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিনিধিদের ভাষ্য অনুযায়ী, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের রাঙামাটিতে ব্যবসা বা চাকরি করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি চার দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরবর্তীতে বিষয়টি ফার্মাসিউটিক্যালস এরিয়া ম্যানেজারস ফোরামকে অবহিত করা হলে সংগঠনের এক নেতা অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ফোনালাপেও চাঁদা দাবির বিষয়টি স্বীকার করা হয় এবং পুনরায় হুমকি প্রদান করা হয়। সংশ্লিষ্ট কথোপকথনের অডিও রেকর্ড সংরক্ষণে রয়েছে বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাসোসিয়েশন ও এরিয়া ম্যানেজারস ফোরামের নেতারা বলেন, এ ধরনের চাঁদাবাজি অব্যাহত থাকলে পার্বত্য অঞ্চলে ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
তারা আরও বলেন,আমরা মানবিক সেবার অংশ হিসেবে ওষুধ সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালনা করি। কিন্তু চাঁদার চাপ ও হুমকির কারণে নিরাপদে কাজ করা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।

তম্ময় ফার্মেসীর মালিক রতন জানায়, চাঁদা দাবির বিষয়টি আমরা জানি না, সমিতির সভাপতি মো.হারুনুর রশিদ ভাল বলতে পারবে। কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ

মুহাম্মদ জসিম উদ্দীন  বলেন,চাঁদা দাবির বিষয়টি আমরা তদন্ত করে মোবাইল টেকিং দেখবে। উভয় পক্ষকে থানায় ডেকেছি  অতিরিক্ত পুলিশ সুপারে পরামর্শ করে আলোচনা করে সমস্যা সমাধান করতে চেষ্টা করবে।

স্মারকলিপিতে জেলা প্রশাসকের কাছে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
তবে সচেতন মহল মনে করছেন, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে জেলার ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারে এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।#

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...