শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬

জাতিসংঘে বাংলাদেশের তথা পাহাড়ে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার প্রতিবাদে রাঙামাটিতে পিসিসিপি’র বিক্ষোভ

  • প্রকাশিত: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৪ ঘন্টা আগে

জাতিসংঘে বাংলাদেশের তথা পাহাড়ে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার প্রতিবাদে রাঙামাটিতে পিসিসিপি’র বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিনিধি:  UNPFII এর ২৫তম অধিবেশনে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক ও অসত্য তথ্য প্রদান করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) রাঙামাটি জেলা শাখা।
শুক্রবার (২৪শে এপ্রিল) জুমার নামাজের পর রাঙামাটি শহরের কাঠালতলী মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে বনরূপা চত্বরে এসে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম তাজ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীব আজম বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে বাংলাদেশের পার্বত্যাঞ্চল, সরকার ও নিরাপত্তাবাহিনী সম্পর্কে একপাক্ষিক ও চরম মিথ্যা চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যা বাস্তবতার সম্পূর্ণ বিপরীত।

পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু রাজনৈতিক প্রতিনিধি বিদেশে বসবাস করে তাদের দেশ সম্পর্কে প্রকৃত ধারনা নেই এবং কিছু রাজনৈতিক দলের হীন উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে বক্তব্য দিয়েছে তা পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মিথ্যাচার এবং ঐতিহাসিক সত্যকে বিকৃত করেছে। জাতিসংঘে এসব বক্তব্যে রাষ্ট্রের উন্নয়ন কার্যক্রম, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও বাস্তবতাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে ভুল ধারণার জন্ম দেবে। এই প্রেক্ষাপটে কুচক্রি মহলের প্রদত্ত বক্তব্য পাহাড়ের প্রকৃত বাস্তবতার সঙ্গে শতভাগ অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

বক্তারা বলেন,সকলের কাছে স্পষ্ট যে, জাতিসংঘে কাদের ইন্ধনে প্রতিবছর এধরণের বক্তব্য প্রদান করে থাকে। রাষ্ট্র বিরোধী এসব বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তিদের রাষ্ট্রের স্বার্থে আইনের আওতায় আনা জোর দাবি জানাচ্ছি।

অন্যদিকে সংবিধান, শান্তি চুক্তি ও প্রচলিত আইনে ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত পার্বত্য চট্টগ্রামের অবাঙালি জনগোষ্ঠীরা ‘আদিবাসী’ নয়, বরং উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।

বক্তারা আরো বলেন,শান্তি চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়নের আগে আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর হাতে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে পাহাড়কে সন্ত্রাসমুক্ত করতে হবে। ভূমি কমিশনে বাঙালি প্রতিনিধি যুক্ত করে বৈষম্যহীন ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে। ২০১৬ সালে সংশোধন করা বিতর্কিত ধারাসমূহ বাতিল করে নিরপেক্ষভাবে ভূমি কমিশন পুনর্গঠন ও ভূমি জরিপ সম্পন্ন করতে হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল অঞ্চল। এর বাস্তবতা জটিল এবং বহুমাত্রিক। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একপাক্ষিক ও মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করা কেবল বিভ্রান্তিই সৃষ্টি করে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই প্রয়োজন তথ্যনির্ভর, ভারসাম্যপূর্ণ এবং দায়িত্বশীল উপস্থাপনা, যা সত্যিকার অর্থেই এই অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে।

আমরা পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকে বলতে চাই রাষ্ট্র, সরকার, পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল যে চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ অব্যহত থাকবে । আর যদি ভবিষ্যতে এধরনের তারা মিথ্যাচার অব্যহত রাখে তাহলে আমরা কঠোর কর্মসূচী দিতে বাধ্য হবো।

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ রাঙামাটি জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, রাঙামাটি আসবাবপত্র ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুস শুক্কুর, অটোরিকশা চালক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিজানুর রহমান বাবু, পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা যুগ্ন সম্পাদক আরিয়ান রিয়াজ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রনি সহ পিসিসিপি’র বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...