নিজস্ব প্রতিনিধি:-
বদলির আদেশ ঠেকানোর জন্য জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন এক ভারপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক। তিনি বদলিকৃত কর্মস্থলে (পিরোজপুর জেলায়) অফিস না করে বর্তমানে সচিবালয়ে মন্ত্রী ও সচিবদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তাঁর বদলির আদেশ বাতিল করার জন্য।
গোপন সূত্রে জানা গেছে, বদলিকৃত কর্মস্থলে অফিস না করে কাকে দিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবদের কিভাবে ম্যানেজ করা যায় সাগর সেই পথটি খুঁজছেন হন্নে হয়ে।
পিরোজপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (রুটিন দায়িত্ব) তহিদুর রহমান মুঠো ফোনে জানান, সেলিম মাহমুদ সাগর গত ১৪ এপ্রিল সেখানে যোগদান করেছেন। কিন্তু যোগদানের পর সাগর সেখানে একদিনও অফিস করেননি বলেছেন তহিদুর।
এখানে প্রশ্ন থাকে যে, গত ১৪ এপ্রিল ছিল বাংলা নববর্ষ সরকারী ছুটির দিন। তাই ছুটির দিনে সাগর কিভারে সেখানে যোগদান করেছেন।
গত ৬ এপ্রিল খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য অধিদপ্তরাধীন উপসচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবু নাসার উদ্দিন এর স্বাক্ষরিত এক আদেশে (স্মারক নং-১৩,০০,০০০০,০০০,০২২.১৯,০০০১,২৪-২২, তারিখ ০৬/০৪/২০২৬ইং) সাগরকে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা থেকে পিরোজপুর জেলায় বদলি করা হয়। তাঁর পরিবর্তে রাঙ্গামাটিতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় কুমিল্লা জেলার ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো:খায়রুল আজিজ খোকনকে। তিনি (সাগর) গত ৯ এপ্রিল মো:খায়রুলকে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে বদলিকৃত রাঙ্গামাটি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেলিম মাহমুদ সাগরের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতি, অনিয়ম ও রাতারাতি ফ্লাটবাড়ি ও জায়গাসহ একতলা ভবণের মালিক এবং রাঙ্গামাটি জেলা শহরে বিভিন্ন স্থানে একাধিক জায়গা ক্রয়সহ কাঠব্যসার সাথে জড়িত, খোলা বাজারে চাল ও আটা বিক্রি (ওএমএস) ডিলার ও মিলারগণের কাছ থেকে, পরিবহণ ঠিকাদারদের কাছ থেকে, গুদামে নিয়োজিত শ্রমিকদের বিল থেকে, জেলার দশ উপজেলার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের খবর বিভিন্ন জাতীয় পত্রপত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ফলে তাঁকে রাঙ্গামাটি থেকে পিরোজপুরে বদলি করা হয়।#