শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬

রাঙামাটি সিভিল সার্জন কার্যালয়ে বদলী বাণিজ্য: জনস্বাস্থ্য সেবা ভেস্তে দেওয়ার অভিযোগ

  • প্রকাশিত: ৫ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২ মাস আগে

 

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

রাঙামাটি সিভিল সার্জন কার্যালয়কে ঘিরে গড়ে উঠেছে অনিয়ম ও প্রশাসনিক দুর্নীতির এক বিশাল সিন্ডিকেট। অফিসের প্রধান সহকারী নজরুল ইসলামের ছত্রছায়ায় সরকারি বিধিমালা তোয়াক্কা না করে বছরের পর বছর গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন অসাধু কর্মচারীর বিরুদ্ধে।

জানাগেছে,নজরুল ইসলাম চুয়াডাঙ্গায় অফিস সহকারী হিসাবে যোগদান করে রাঙামাটি পোষ্টিং নিয়ে পদন্নোতি মুলে  জেলা সিএস অফিসে প্রধান অফিস সহকারী। এখন কোন আইন বলে লংগদু পোষ্টিং দিয়েছে। এইভাবে অনেক স্বাস্থ্যসহকারী দেশের বিভিন্ন স্থানে যোগদান করে রাঙামাটি বদলী হওয়ার তথ্য রয়েছে। রাঙামাটি থেকে সমতলে যোগদান করে পদন্নোতি ও বদলী হয়ে আসছে। তেমনি নাছিমা খানম একজন সেনিটারী ইন্সপেক্টর হিসাবে চট্টগ্রাম যোগদান করে সেই ১৯৯৬ সালে।

সেই সুত্রে জানা গেছে, নাছিমা খানম স্যানিটারী ইন্সপেক্টর চট্টগ্রাম  বিভাগে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে স্বা:অধি:/প্রশা-৩/এস,আই ,টি/চট্টগ্রাম বিভাগ-২৭/৫৭৮০/১(৮) তারিখ:-২১/১১/২০১৩ খ্রি:প:স্বা:চ:/৪-৬/৯ রাঙ্গা/খাগড়া/প্রশা-২০২৬/৩৩০১/৮ তাং৪/৩/২০২৬ খ্রি: তিনি ০১/১১/২০২৫ইং থেকে ৩০/১১/২০২৫ইং অসুস্থতা জনিত কারণে নৈমিত্তিক ছুটি ও চিকিৎসা শেষে ৩০/১২/২০২৫ ইং সদর উপজেলা যোগদান করে। অসুস্থ অবস্থায়  চাকরি ২৯ বছর চলছে।  জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবেদন সুত্রে জানা যায়। যেহেতু তিনি শাররিক অসুস্থতা ডায়বেটিস,হাট রোগী, পবিত্র মাহে রমজান মুসলিম নারী দাউদকান্দি উপজেলায় গিয়ে চাকরি করা অসম্ভব বিদায় মানবিক কারণে আমার বদলী আদেশ স্থগিত/বাতিল করার আবেদন করেছে। তিনি রাঙামাটি জেলার স্থায়ী বাসিন্দা ও পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করিয়া আসিতেছে।

তৎকালিন স্থানীয় সরকার পরিষদে অনাপক্তি মুলে রাঙামাটিতে যোগদান করেন। সেই সময়ে রাঙামাটি- বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি নিয়োগ দেয়া হয় চট্টগ্রামে। ১৯৯৭ সালের  অনেক বছর পরে জেলা পরিষদ স্থাস্থ্য সহকারী নিয়োগ করার প্রক্রিয়া শুরু করে। হঠাৎ করে নাছিমা খানম স্যানিটারী ইন্সপেক্টর সদর উপজেলা হতে কুমিল্লা জেলার দিউদকান্দি রমজান মাসে উদ্দেশ্য প্রানোদিত বদলী করা হয়েছে ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাঘাইছড়ির তৎকালীন স্যানিটারী ইন্সপেক্টর  শওকত আলী ২০১৮ সালে ‘নিজ বেতনে’ জেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর হিসেবে বদলি হন। পরবর্তীতে ২০২২ সালে বরকলের স্যানিটারী ইন্সপেক্টর সেলিম সালাহউদ্দিনকে জেলা শহরে সুবিধা পাইয়ে দিতে শওকত আলী আবারও ‘নিজ বেতনে’ জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়কের পদটি দখল করেন। বর্তমানে তিনি উপজেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টরের বেতন নিলেও জেলা পর্যায়ের দুটি উচ্চতর পদ পর্যায়ক্রমে ভোগ করছেন, যা প্রশাসনিক নিয়মের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

জেলা শহরে অনৈতিকভাবে ‘ভারপ্রাপ্ত’ বা ‘অতিরিক্ত দায়িত্ব’ হিসেবে বসিয়ে রাখায় বরকল উপজেলার স্যানিটারী ইন্সপেক্টরের কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছিল। বর্তমানে গতমাসে একজন সেনিটারী ইন্সপেক্টর পোস্টিং দিয়েছেন সিভিল সার্জন। যাদের খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ বা আদালতে মামলা দায়ের করার আইনি কোনো এখতিয়ার নেই। এর ফলে ওই এলাকায় খাদ্যে ভেজাল ও দূষণ বিরোধী অভিযান বন্ধ রয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, সিভিল সার্জন অফিসের সাবেক প্রধান সহকারী নজরুল ইসলামের মাধ্যমেই এই ‘বদলি বাণিজ্য’ পরিচালিত হচ্ছে। যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও টাকার বিনিময়ে পছন্দের ব্যক্তিদের জেলা সদরে পদায়ন এবং তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোকে শূন্য করে রাখার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পরিবর্তে ব্যক্তিগত ফায়দা হাসিল করা হচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য জেলাগুলোতে নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করা হলেও রাঙামাটিতে কেন এমন নিয়মবহির্ভূত পদায়ন চলছে, তা নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল এই সিন্ডিকেট ভেঙে স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ফেরাতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সেলিম সালাহউদ্দিনের পদোন্নতি আদেশে নিজ বেতনে পদায়নের তারিখ থেকে বেতন ভাতাদি পাওয়ার এখতিয়ার না থাকা সত্ত্বেও তার আদেশে আছে আদেশ হয় ৫/১১/২০১৫ কিন্তু তাকে নিজ বেতনে যোগদানের তারিখ থেকে দেকানো হয়, সেহেতু তার স্যানিটারী ইন্সপেক্টরের আদেশ টা এখনো ভুল রয়েছে,অথচ এই বিধিবহির্ভূত আদেশ নিয়ে তিনি এখন মহাপরিচালক স্বাস্হ্য অধিদপ্তরকে ও ম্যানেজ করে বহু আলেচিত বিতর্কিত দুই জন্মনিবন্ধনে দুই পাঃ জেলায় দুই স্থাস্থ্য সহকারী পদে সূজন বড়ুয়ার মতো জেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টরের পদোন্নতির খসড়া তালিকায় নাম তুলে দিয়েছেন,যথাযথ কতৃপক্ষ তার কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করলে সব সত্য বেড়িয়ে আসবে। হঠাৎ বদলী স্থগিত ও বাতিল করতে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার কাছে আবেদন রিসিভ করেনি।  জেলা পরিষদের দুইজন সদস্য মানবিক বিবেচনায় আবেদন সুপারিশ করেছেন। মিনহাজ মুরশীদ আহবায়ক পরিবার পরিকল্পনা বিয়ক কমিটি রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ।

সিভিল সার্জন নুয়েন খীসা স্থানীয়দের অগ্রাধিকারের দোহাই দিলেও সমতলে নিয়োগ হয়েছে সেইখানে চলে যেতে হবে । পরে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আপক্তি রয়েছে বলে জানায়।

৫ মার্চ বৃহম্পতিবার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার কাছে তার কায্যলয়ে জানতে চাইলে- তিনি সিভিল সিভিল সার্জন নুয়েন খীসা বদলীর আদেশ স্থগিত করতে পারবে। আমার কাছে ফাইল আসলে আমি সই করে দিয়েছি । মানবিক কারন ও আইন কানুন আমি দেখি না । সবকিছু  সিভিল সার্জন নুয়েন খীসা জানে।  ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল এই প্রশাসনিক অরাজকতা বন্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।#

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...