প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে মুক্ত সাংবাদিকতা প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি, উদারনীতি ও উত্তরাধিকারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষন ++++++++++++++++++++++++++++++++ এম,সফিউল আজম চৌধুরী:-গণমাধ্যম একটি রাষ্টে্রর হৃৎপিন্ড,যা কেবল তথ্যের প্রবাহই নিশ্চিত করে না, বরং সমাজের স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র এবং জবাবদিহিতার মেরুদন্ড হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের (১৯৭৫—১৯৮১) শাসনামলটি মুক্ত সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এক জটিল, তবুও ঐতিহাসিক মোড় হিসেবে চিহ্নিত। দীর্ঘদিনের একদলীয় স্বৈরশাসনের শিকল থেকে গণমাধ্যমকে মুক্ত করে তিনি কেবল স্বাধীনতাই দেননি, বরং এর বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক, অর্থনৈতিক ও পেশাগত ভিত্তি সুদৃঢ় করতে সুদূর প্রসারী কৌশল অবলম্বন করেন। তাঁর নীতি ছিল জটিল—একদিকে স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার, অন্যদিকে সামরিক শাসনের আবহে নিয়ন্ত্রণের সুক্ষ্ম ভারসাম্য তৈরি।তর”ন প্রজন্মের সাংবাদিক হিসেবে, এই সময়ের পূর্ণাঙ্গ বিশেষণ আপনার জন্য অপরিহার্য। কারণ এটি আপনাকে শেখাবে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংকটের মাঝেও কীভাবে স্বাধীনতার বীজ রোপণ করা সম্ভব এবং অর্জিত স্বাধীনতার মূল্য কীভাবে নিরন্তর রক্ষা করতে হয়। এই ঐতিহাসিক পাঠ আপনাকে বর্তমান ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দিকনির্দেশনা দেবে।১.অন্ধকারের অবসান, চরম নিবর্তন ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষা১৯৭৫ সালের পূর্বে, একদলীয় শাসন ‘বাকশাল’ প্রবর্তনের মাধ্যমে ১৯৭৫সালের জুন মাসে দেশের প্রায় সব বেসরকারি সংবাদপত্র নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি চারটি পত্রিকা ছাড়াবাকি সব পত্রিকার ডিক্লারেশন পর্যন্ত বাতিল করে দেন।এই নিবর্তনমূলক ব্যবস্থার অধীনে শুধুমাত্র চারটি রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদপত্র চালু রাখা হয়েছিল। এই চারটি পত্রিকা হল(১)দৈনিক বাংলা (২)দৈনিক ইত্তেফাক(৩)বাংলাদেশ অবজার্ভার(৪)দি বাংলাদেশ টাইমস,এই চরম নিবর্তনমূলক ব্যবস্থার অধীনে হাজার হাজার সাংবাদিক রাতারাতি পেশাচ্যুত হন এবং মুক্তবুদ্ধির চর্চা প্রা বিলুপ্ত হয়ে যায়। এই পরিস্থিতি ছিল স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্ত গণমাধ্যমের চরম বিপর্যয়। এটি কেবল সাংবাদিকতা নয়, বরং দেশের সামগ্রিক বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতাকে রুদ্ধ করে দিয়েছিল।প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ক্ষমতা গ্রহণের পর উপলব্ধি করেন, দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং তাঁর অর্থনৈতিক দর্শন, ‘উৎপাদনের রাজনীতি’—কে সফল করতে হলে অবশ্যই মুক্ত তথ্য প্রবাহকে উৎসাহিত করতে হবে। তাঁর কাছে, গণমাধ্যম ছিল ‘জাতির চোখ ও কান’ স্বরূপ, যা সরকারকে ভুল শুধরে নিতে সহায়তা করে। তিনি বিশ্বাস করতেন, সাংবাদিকতা কেবল পেশা নয়, এটি জাতীয় পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অন্যতম স্তম্ভ ।২. স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার ও আইনি সংস্কারের ভিত্তি: তরুণদের জন্য শিক্ষা,জিয়াউর রহমান সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে কেবল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেননি, বরং দীর্ঘমেয়াদী আইনি ও কাঠামোগত পরিবর্তন আনেন।২.১. প্রেস ট্রাস্ট বিলুপ্তি এবং মালিকানা হস্তান্তর:— ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী এবং বাকশাল (বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ) ব্যবস্থা প্রবর্তন হয়। এই সময় “নিউজপেপার্স (অ্যানালমেন্ট অফ ডিক্লারেশন) অ্যাক্ট, ১৯৭৫”—এর মাধ্যমে মাত্র চারটি সরকারি পত্রিকা রেখে বাকি সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়, যার সঙ্গে প্রেস ট্রাস্টও বিলুপ্ত হয়ে যায়। ন্যাশনাল প্রেস ট্রাস্ট বিলুপ্তির প্রধান আইনি ভিত্তি ছিল দুটি আইন:১. দ্য গভর্নমেন্ট—ওউনড নিউজপেপার্স (ম্যানেজমেন্ট) অ্যাক্ট, ১৯৭৫( The Government -owned Newspapers (Management) Act,1975 অ্যাক্ট নং XLI of 1975 (এই আইনটি মূলত সরকারি মালিকানাধীন সংবাদপত্রসমূহের ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নের জন্য এবং সংবাদপত্র প্রকাশনা ও মুদ্রণ ব্যবসার জন্য প্রতিষ্ঠিত নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানি বিলুপ্ত করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।এই আইনের অধীনেই ন্যাশনাল প্রেস ট্রাস্টের মালিকানাধীন সংবাদপত্রগুলোকে সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয় এবং ট্রাস্টটি কার্যত বিলুপ্ত হয়।২. নিউজপেপার্স (অ্যানালমেন্ট অফ ডিক্লারেশন) অ্যাক্ট, ১৯৭৫ (Newspapers (Annulment of Declaration act,1975) এই আইনটি ব্যবহার করে ১৯৭৫ সালে সরকার চারটি পত্রিকা বাদে দেশের অন্যান্য সকল সংবাদপত্র ও সামীয়কীর ডিক্লারেশন (প্রকাশনার অনুমতি) বাতিল করে দেয়।যদিও এই আইনটি সরাসরি প্রেস ট্রাস্টকে বিলুপ্ত করেনি, কিন্তু এটি প্রেস ট্রাস্টের বিলুপ্তির প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল— কারণ এর ফলে সংবাদপত্র শিল্পে সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ট্রাস্টের প্র্রয়োজন ফুরিয়ে যায়।মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাক—স্বাধীনতা: জিয়াাউর রহমান প্রায়শই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলতেন। তাঁর মতে, মুক্তিযুদ্ধের একটি মূল চেতনা ছিল গণতন্ত্র ও বাক—স্বাধীনতা। প্রেস ট্রাস্ট বিলুপ্তির মাধ্যমে তিনি সেই চেতনা আংশিকভাবে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন।তরুণদের জন্য শিক্ষা: স্বাধীনতা রাতারাতি অর্জিত হয় না, এটি আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে সুরক্ষিত হয়। আপনার কাজ হলো, সম্পাদকীয় স্বাধীনতা রক্ষার জন্য সর্বদা সজাগ থাকা এবং রাষ্ট্রীয় প্রভাব থেকে নিজেদের মুক্ত রাখা।২.২. নতুন প্রকাশনার জোয়ার ও আঞ্চলিক প্রসার:—তাঁর উদার নীতির ফলে প্রিন্ট মিডিয়ায় এক বিশাল ‘নিউজপেপার বুম’ আসে। নতুন দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্রিকার অনুমোদনে উৎসাহ সৃষ্টি হয়।আঞ্চলিক গণমাধ্যমের প্রসার: দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের খবর প্রচারে উৎসাহ দিতে সরকারি উদ্যোগে ‘দৈনিক বার্তা’—র মতো পত্রিকা প্রকাশ করা হয়।তরুণদের জন্য শিক্ষা:— সাংবাদিকতার সুযোগ কেবল রাজধানীতে সীমাবদ্ধ নয়। আপনার দৃষ্টি থাকতে হবে তৃণমূলের খবর সংগ্রহে, কারণ মফস্বল সাংবাদিকতাই দেশের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে।৩. সাংবাদিকদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপন ও পেশাগত উন্নয়ন:—জিয়াাউর রহমান সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব, নৈতিকতা এবং কল্যাণের জন্য নিম্নলিখিত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো সৃষ্টি ও শক্তিশালী করেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল ।এই স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানটি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা করে এবং নৈতিক আচরণবিধি তৈরি ও তার প্রয়োগ নিশ্চিত করে।তরুণদের জন্য শিক্ষা: পেশাদার বিতর্কে আইনি ও নৈতিক মানদন্ড বজায় রাখতে প্রেস কাউন্সিলের ভূমিকা জানুন। আইনি লড়াাইয়ে নিজেকে প্রস্তুত করার জন্য নৈতিকতার ভিত মজবুত কর”ন।প্রেস ইনস্টিটিউট অফ বাংলাদেশ সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক সাংবাদিকতার কলাকৌশল সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়ারর জন্য পিআইবি—র কার্যক্রমকে গতিশীল করা হয়।তর”ণদের জন্য শিক্ষা: সাংবাদিকতাকে কেবল চাকরি হিসেবে না দেখে, পেশা হিসেবে দেখুন। পিআইবি—র মতো প্রতিষ্ঠান বা আধুনিক অনলাইন কোর্সের মাধ্যমে আপনার দক্ষতাকে নিয়মিত শাণিত করুন বিশেষত ডেটা জার্নালিজম এবং প্রযুক্তিগত বিষয়ে।সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সক্রিয়তা বৃদ্ধি: জাতীয় প্রেস ক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়ন সহ অন্যান্য সংগঠনগুলো সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে আলোচনার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ শুরু করে।তরুণদের জন্য শিক্ষা: আপনার পেশাগত অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকুন এবং সেই অধিকার রক্ষার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করুণ। ঐক্যবদ্ধ সংগঠনই সাংবাদিকদের সুরক্ষার অন্যতম ঢাল ৪. সরকারের পক্ষ থেকে প্রদত্ত সুনির্দিষ্ট সুযোগ—সুবিধা ও অর্থনৈতিক প্রণোদনা,জিয়াউর রহমানের সরকার সাংবাদিকদের পেশাগত মান ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে নিম্নলিখিত বিশেষ সুবিধাগুলো প্রদান করে, আর্থিক বিকেন্দ্রীকরণ: মফস্বল কোটা: সরকারি বিজ্ঞাপনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ (৪০ শতাংশ পর্যন্ত) মফস্বল থেকে প্রকাশিত পত্রিকার জন্য বরাদ্দ করা হয়।সাংবাদিকতার দার্শনিক দিক: এই নীতি ছিল গণমাধ্যমকে বিকেন্দ্রীভূত করার একটি সরাসরি অর্থনৈতিক উদ্যোগ, যা দেশের অর্থনীতির সঙ্গে গণমাধ্যমের সম্পর্ককে জোরালো করেছিল।তরুণদের জন্য শিক্ষা: এই নীতি প্রমাণ করে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া সম্পাদকীয় স্বাধীনতা ভঙ্গুর। আপনার রিপোর্টিং এমন হওয়া উচিত যাতে তা কেবল সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার ওপর নির্ভরশীল না হয়ে জনস্বার্থই আপনার মূল অর্থনৈতিক ভিত্তি হওয়া উচিত।পেশাগত মর্যাদা ও মিথস্ক্রিয়া: প্রেসিডেন্ট জিয়া নিজেই সাংবাদিকদের সাথে নিয়মিত আলোচনা করতেন এবং বিদেশে সফরের সময় তাদের সঙ্গী করতেন।তরুণদের জন্য শিক্ষা: ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা ভালো, তবে ক্ষমতার কাছে জিম্মি হওয়াা খারাপ। সরকারি সুবিধা গ্রহণ করুন, কিন্তু কখনও যেন তা আপনার বস্তু নিষ্ঠতাকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে। আপনার কলমকে আপস করতে দেবেন না ৫. জবাবদিহিতার সংস্কৃতি ও সামরিক—বেসামরিক সম্পর্কের জটিলতা:—জিয়াউর রহমানের আমলের মুক্ত সাংবাদিকতার সবচেয়ে শক্তিশালী দিক ছিল ক্ষমতার সমালোচনা করার সুযোগ, তবে তা ছিল জটিল সামরিক—বেসামরিক সম্পর্কের মধ্যে আবদ্ধ।দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার সংবাদপত্রগুলো মন্ত্রী, এমপি এবং সরকারি আমলাদের দুর্নীতির খবর নির্ভয়ে প্রকাশ করত। জিয়াউর রহমান এই সমালোচনাকে গঠনমূলক হিসেবে দেখতেন।ঐতিহাসিক উদাহরণ: এই সময়ে প্রকাশিত অনেক রিপোর্টে সরকারের বিভিন্নঅংশের অনিয়ম তুলে ধরা হতো, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে একধরনের ধারণা তৈরি করেছিল।তরুণদের জন্য শিক্ষা: দুর্নীতি রিপোর্টে ভয় পাবেন না। তবে তথ্য এমন হতে হবে যা আদালতে প্রমাণ করা যায়। ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমকে নিজের প্রধান হাতিয়ার কর”ন।সামরিক শাসনের আইনি ব্যাখ্যা: সামরিক আইনের কারণে হ্যাবিয়াস কর্পাস —এর মতো মৌলিক অধিকারগুলো প্রায়শই স্থগিত থাকত।তরুণদের জন্য শিক্ষা: দেশের সাংবিধানিক আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং সামরিক ফরমান সম্পর্কে আপনার গভীর জ্ঞান থাকা জরুরী। আইনি সীমাবদ্ধতা জানা থাকলে আপনি কৌশলগতভাবে রিপোর্ট করতে পারবেন এবং নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারবেন।৫.৩. আত্ম—নিয়ন্ত্রণ ও অলিখিত সেন্সরশিপের কৌশল (বিশেষ মনোযোগ):—সামরিক শাসনের আবহে, সাংবাদিকরা নিজেরাই সামরিক বাহিনী, রাষ্টে্রর মৌলিক রাজনৈতিক আদর্শ বা স্পর্শকাতর সামরিক অভ্যুত্থান সংক্রান্ত খবর প্রকাশ থেকে বিরত থাকতেন। এটি ছিল সেন্সরশিপের কৌশলগত প্রয়োগ সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ না করলেও, আইনি ও নিরাপত্তার ঝুঁকি সাংবাদিকদেরকে ‘আত্ম—নিয়ন্ত্রন’ বা ‘স্ব—আরোপিত সেন্সরশিপে’ বাধ্য করত।তরুণদের জন্য শিক্ষা: আত্ম—নিয়ন্ত্রণ সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় শত্রু । যদি আপনি সত্য জেনেও ভয়ে প্রকাশ না করেন, তবে আপনি আপনার পেশার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করছেন। তবুও, জীবনের ঝুঁকি এড়িয়ে যাওয়ার জন্য বিকল্প প্রকাশনার পথ বা আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করার কৌশল শিখে নিন। সাহসের সঙ্গে কৌশল প্রয়োগ করেন।৬. অর্থনৈতিক উদারীকরণের ফলাফল ও গণমাধ্যম শিল্পে নতুন চ্যালেঞ্জ:—জিয়াউর রহমান তার অর্থনৈতিক নীতিতে বাজার উদারীকরণ ও বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করেন। এই নীতির প্রভাব গণমাধ্যম শিল্পেও পড়ে,বেসরকারি পুঁজির অনুপ্রবেশ: বেসরকারি মালিকানায় আসার ফলে পুঁজির অনুপ্রবেশ বাড়ে। এটি একদিকে যেমন নতুন বিনিয়োগ ও পেশাগত মান বাড়ায়, অন্যদিকে তেমনি ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট বা মালিকপক্ষের স্বার্থ রক্ষা করার একটি প্রবণতাও তৈরি করে।ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: এই সময়েই বাংলাদেশে কর্পোরেট মিডিয়া মালিকানার প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি হয়, যা পরবর্তী দশকগুলিতে সম্পাদকীয় স্বাধীনতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে।তরুণদের জন্য শিক্ষা: কর্পোরেট স্বার্থ এবং সম্পাদকীয় স্বাধীনতার মধ্যে বিভাজন রেখা বজায় রাখা আপনার নৈতিক দায়িত্ব। মালিকের স্বার্থের ঊর্ধ্বে জনস্বার্থকে স্থান দিন।কর্মসংস্থান ও বেতন কাঠামো: অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নতুন পত্রিকার প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়। তাঁর সরকার সাংবাদিকদের বেতন কাঠামো ও সুযোগ—সুবিধা উন্নত করারও উদ্যোগ নেয়।তরুণদের জন্য শিক্ষা: পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করে নিজের বাজারমূল্য তৈরি করেন। বেতন বা সুবিধা নিয়ে আপস করার চেয়ে দক্ষতা দিয়ে দর কষাকষি করুণ।৭. আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া এবং উত্তরাধিকারের মূল্যআন্তর্জাতিক মূল্যায়ন: জিয়াউর রহমানের নীতি আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। একদলীয় শাসন থেকে মুক্তি ইতিবাচক হলেও, সামরিক শাসনের কারণে পূর্ণ গণতান্ত্রিক অবস্থান নিয়য়ে বিতর্ক ছিল।তরুণদের জন্য শিক্ষা: আপনার রিপোর্ট যেন আন্তর্জাতিক মানদন্ড বজায় রাখে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের অবস্থান নিয়ে সচেতন থাকুন এবং বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষার লড়ায়ে নিজেদের যুক্ত রাখুন।দীর্ঘমেয়াদী উত্তরাধিকার: তাঁর সময়ে প্রতিষ্ঠিত ইচঈ, চওই, এবং মফস্বল কোটার নীতি পরবর্তী সামরিক ও বেসামরিক সরকার গুলোর সময়ে ও বিদ্যমান ছিল। এই প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে চরম সংকটের সময়ও পুরোপুরি ধসে যাওয়া থেকে রক্ষা করেছিল। বহু তরুণ সাংবাদিক ও কলামিস্ট যারা পরবর্তীকালে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন, তারা এই সময়েই তাদের পেশাগত জীবন শুরু করেছিলেন।৮. উপসংহার ও তরুণদের জন্য চূড়ান্ত নির্দেশনা:—শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দাঁড়িয়ে, গণমাধ্যমকে কেবল একদলীয় নিবর্তন থেকে মুক্তই করেননি, বরং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান (BPC,PIB) প্রতিষ্ঠা এবং অর্থনৈতিক নীতি (মফস্বল কোটা) প্রণয়নের মাধ্যমে এর পেশাদার ভিত্তি সুদৃঢ় করেছিলেন। তাঁর এই পদক্ষেপগুলো বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় প্রাতিষ্ঠানিক উত্তরাধিকার রেখে গেছে।তরণ সাংবাদিক হিসেবে আপনাদের কর্তব্য হলো, এই ঐতিহাসিক শিক্ষা ধারণ করে, সুবিধা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা। মনে রাখবেন, আপনার নির্ভীকতা , বস্তুনিষ্ঠতা এবং দায়িত্বশীলতা——এই তিনটিই হলো মুক্ত সাংবাদিকতার চূড়ান্ত মাপকাঠি। তাই আপনার অঙ্গীকার হোক:“কখনোই সত্য প্রকাশে পিছ পা না হওয়া,পেশাগত মানদন্ডে আপস না করা”,এবং জনস্বার্থকে নিজের ব্যক্তিগত বা কর্পোরেট স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া।##লেখক—সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী.
Sent 4m ago
Write to Meherab Chowdhury