বিশেষ প্রতিবেদক:সারাদেশে বন বিভাগে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীরা প্রতিদিন কোথাও না কোথাও দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভূমিদস্য, বনদস্যু, বন্যপ্রাণী শিকারীদের প্রতিহত করতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত, আহত, অপমানিত লাঞ্ছিত হতে হচ্ছে।
একদিকে জনবলের স্বল্পতা, লজিস্টিক সাপোর্ট না পাওয়া, টহল কার্যে ব্যবহারে যানবহন, জ্বালানি তেল সরবরাহ না থাকায় সঠিক সময়ে দুর্বৃত্তদের প্রতিহত করা যায় না । কর্তৃপক্ষ ও মাঠ পর্যায়ের সমস্যা গুলো সমাধানে সঠিক পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছেন বা প্রয়োজন মনে করছেন না। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারীরা স্বল্প সংখ্যক কর্মচারী নিয়ে সকল বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তারপরও পান থেকে চুন খসলেই উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের রক্ত চক্ষু, গালমন্দ, কৈফিয়ত, সাসপেন্ড হতে হচ্ছে। ভাত দেওয়ার মরদ নেই, কিল মারার গোসাই। কাগজে কলমে বাজেট থাকলেও মাঠ পর্যায়ে শুন্য ! বাজেটের টাকা গুলি কার বাক্সে ঢুকলো ? ভূমিদস্যু, বনদস্যু, বন্যপ্রাণী শিকারীদের মোকাবেলা করতে হলে প্রয়োজনীয় জনবল, দ্রুতগতিসম্পন্ন যানবাহন এবং উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ একান্ত প্রয়োজন।
ডিজিটাল যুগে মাঠ পর্যায়ে বন অপরাধ মোকাবেলায় মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে ও সাহস সঞ্চয়ের জন্য বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের মত বন অপরাধ দমন ইউনিট গঠন করা সময়ের দাবি। বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট বিরাট বাজেট প্রণয়ন করে একজন বন সংরক্ষকের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। সেই আদলে দেশের প্রতিটি ডিভিশনে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার অধীনে টিম লিডার একজন সহকারী বন সংরক্ষকের নেতৃত্বে একজন ফরেস্ট রেঞ্জার, দুইজন ফরেস্টার, ১০ জন চৌকস ফরেস্ট গার্ডের সমন্বয়ে সুসজ্জিত পোশাক, অত্যাধুনিক ১০ টি নাইন শুটার, দ্রুত গতি সম্পন্ন যানবাহন, পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করে ফরেস্ট একশন ব্যাটালিয়ান গঠন করা যেতে পারে । (সংক্ষেপে যার নাম হবে ফ্যাব) প্রতিটি সদস্যের পরিহিত কটিতে ফ্যাব লেখা থাকতে হবে। ফ্যাব গঠনে অতিরিক্ত বাজেটের প্রয়োজন হবে না শুধুমাত্র সদিচ্ছা থাকলেই হবে।
ডিভিশনের যেকোনো ইউনিটে বন অপরাধের সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে তড়িৎ গতিতে একশনে যাবে এই ফ্যাব। এতে স্বল্প সংখ্যক কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঝে যেমন সাহসের উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে অপরদিকে ভূমিদস্যু, বনদস্যু, বন্যপ্রাণী শিকারীদের মাঝে সৃষ্টি হবে ভয়াতঙ্ক। এবং এই ফ্যাব প্রতিটি ইউনিটে সংবাদ বিহীন অতর্কিতে অভিযান পরিচালনা করবে। এতে বন অপরাধ দমনে যেমন প্রশংসিত হবে তেমনিভাবে বন অপরাধ হ্রাস পাবে । মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তা কর্মচারীরাও দায়িত্ব পালন করতে যেয়ে নিহত, আহত, অপমানিত লাঞ্ছিত হওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকবে । বন অধিদপ্তর বিষয়টি ভেবে দেখার কেউ নেই।
অপরদিকে তিন পা:জেলায় সংরক্ষিত বনভুমি বেদখল- কাপ্তাই রাম পাহাড়ে আঞ্চলিক দলের পরিচয়ে প্রকাশ্যে কাঠ পাচার অব্যাহত । উচ্ছেদ মামলা দিয়ে বেদখল ঠেকানো যাচ্ছে না, তেমনি পাহাড়ে ভারী অস্ত্রের মুখে কাঠ পাচার বন্ধ করা যাচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বনভিাগের সংশ্লিষ্টরা জানায় লোকবল অভাবের পাশাপাশি আঞ্চলিক দলগুলোর হুমকির মুখে বনাঞ্চল পাহাড়া দেয়া যায় না। সীতা পাহাড় রাম পাহাড়,নারাইছড়ি এলাকায় কোন প্রকার বাধা দিলে বিপদ প্রাণে মেরে ফেলবে নতুবা অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করবে । কয়েকবার আগে খাগড়াছড়ি বিভাগীয় ……ফরিদ মিয়াকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় দৃশ্যমান।