বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

কনকনে ঠাণ্ডায় কাঁপছে উত্তরের জনপদ, দুর্ভোগে কর্মজীবীরা

  • প্রকাশিত: ২০ ডিসেম্বর ২০২৩, ৪:১৮ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ২ বছর আগে

সোনালি ধানের নুয়ে পড়া শীষে মুক্তদানার মতো শিশির বিন্দু জানান দিচ্ছে শীত চলে এসেছে। একটু একটু করে কমতে শুরু করেছে তাপমাত্রা। আর হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত হওয়ায় উত্তরাঞ্চলে শীত আসে একটু আগে-ভাগেই। ডিসেম্বরের শুরু থেকে এই জনপদে ঘন কুয়াশা আর হিম বাতাসের কারণে শীত জেঁকে বসে।

এবারে একটু দেরিতে হলেও উত্তরবঙ্গে শীত পড়তে শুরু করেছে। ডিসেম্বরেও শৈত্যপ্রবাহ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শৈত্যপ্রবাহ শুরু হলে তাপমাত্রা এক অঙ্কে নামতে পারে বলে ধারণা আবহাওয়া অফিসের।

প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র না থাকায় ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষ শীত নিয়ে ভাবনায় পড়েছেন এখনই। আর নিম্নবিত্ত মানুষগুলো শীত নিবারণের জন্য কম দামে শীতবস্ত্র কিনতে ভিড় করছেন শহরের ফুটপাতের দোকানগুলোতে। তীব্র শীতের কারণে ঠাণ্ডাজনিত রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন বয়স্ক ও শিশুরা।

এদিকে তীব্র শীতেমেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে বয়স্ক এবং শিশুরা ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন বেশি। কয়েকদিন থেকে শীতের কারণে অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগিরা

তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায় বলে এই মার্কেটগুলোতে একসময় নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা বেশি এলেও এখন ভিড় করছেন উচ্চবিত্তরাও। ক্রেতাদের ভিড় বাড়ায় দম ফেলার ফুরসত নেই বিক্রেতাদের। এসব মার্কেটগুলোতে জ্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা। মানভেদে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত।

নগরীর স্টেশন এলাকার ইস্পাহানি ক্যাম্পের শীতবস্ত্র কিনতে আসা আতিকুর রহমান বলেন, ‘গত কয়েকদিনের তুলনায় শীত বেড়েছে। পরিবারে বৃদ্ধ এবং শিশুদেরকে নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়েছি। তবে সাধ্যের মধ্যেই অনেক কাপড় পাওয়া যাচ্ছে।’

এদিকে তীব্র শীতে ছিন্নমূল মানুষেরা পড়েছেন বিপাকে। নগরীর  বাসিন্দা মদন  মিয়া বলেন, ‘আমরা কোনোমতো স্টেশনের পাশে পরিবার পরিজন নিয়ে থাকি। পুরনো একটি কাঁথায় গা মুড়িয়ে শীত নিবারণের ব্যর্থ চেষ্টা করি। প্রতিদিনের রাত কাটে শীতের তীব্রতায়। আমাদের কেউ একটা কম্বল পর্যন্তও দিলো না।’

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...