- বিশেষ প্রতিনিধি:- পাহাড়ে ভ্রাতৃত্ব ঘাতি সংঘাত আধিপত্য লড়াইয়ে মাসের ব্যবধানে তিনজনের প্রাণহানি! ৯ মে শনিবার উপিডিএফ সদস্য হেগেরা চাকমা (৫০) লেত্তবাপকে) গুলিতে হত্যা করা হয়েছে। ভারতের মীজুরাম সীমান্তে হত্যাকান্ড ঘটনা ঘটে।
- রাঙ্গামাটির সীমান্তবর্তী বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে ইউপিডিএফ সদস্য হেগেরা চাকমা (৫০) লেত্তবাপকে) গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি।হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে সোমবার (১১ মে) দীঘিনালা-সাজেক-বাঘাইছড়ি সড়কে আধবেলা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
- খোজ নিয়ে জানাগেছে, পাহাড়ে এক মাসে তিন প্রাণহানি: আধিপত্যের লড়াইয়ে রক্তাক্ত জনপদ।শান্ত পাহাড়ের আবারও প্রতিধ্বনিত হচ্ছে অস্ত্রের গর্জন, যা জনমনে সৃষ্টি করেছে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা। পর্যটন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কেন্দ্রবিন্দু পাহাড়ে এখন আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ভ্রাতৃত্বঘাতি সংঘাতের ভয়াবহ চিত্র উঠেেএসেছে। মাসের ব্যবধানে জেলায় তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা পাহাড়ের পার্বত্যচুক্তি-পরবর্তী স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
শনিবার (৯ মে ২০২৬) সংবাদ মাধ্যমে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে ইউপিডিএফের খাগড়াছড়ি জেলা ইউনিটের সংগঠক অংগ্য মারমা এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
- বিবৃতিতে তিনি দীঘিনালার কবাখালী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের জোড়াব্রীজ এলাকার শুকনোছড়া গ্রামে উক্ত হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে জানিয়ে বলেন, “ইউপিডিএফ সদস্য হেগেরা চাকমা ওরফে তরুণ (৪৯)-সহ দুই জন শুকনোছড়া গ্রামের একটি বাড়িতে রাত যাপন করেন। সেখান থেকে আজ ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে সাংগঠনিক কাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা ঠ্যাঙাড়ে সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।”
- নিহত ইউপিডিএফ সদস্য হেগেরা চাকমা (তরুণ) রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের রেতকাবা গ্রামের রঙ্গমনি চাকমার ছেলে বলে তিনি জানান।
- অভিযোগ উঠেছে প্রসীত খীসার নেতৃত্বে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)- ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) এই দুই সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে প্রতিহিংসা, অধিপত্য লড়াইয়ে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ এবং এলাকা দখল নিতে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার সাধারণ মানুষের জীবনকে অতিষ্ট করে তুলেছে।
- স্থানীয় সুত্রে জানিয়েছে , দীঘিনালা উপজেলার শুকনোছড়া গ্রামে শনিবার (৯ মে) ভোরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত । নিহত হেগেরা চাকমা ওরফে তরুণ (৪৯) ছিলেন বাঘাইছড়ির সাজেক ইউনিয়নের রেতকাবা গ্রামের বাসিন্দা এবং ইউপিডিএফের (প্রসীত) সশস্ত্র গ্রুপের একজন সক্রিয় সদস্য। ঘটনার পূর্ব রাতে হেগেরা ও তাঁর এক সহযোগী শুকনোছড়া গ্রামের একটি সাধারণ বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু শত্রু যে ছায়ার মতো তাঁর পেছনে ছিল, তা তিনি বুঝতে পারেনি। ভোর আনুমানিক ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে যখন তিনি দিনের সাংগঠনিক কাজ শুরু করার উদ্দেশ্যে বাড়ী থেকে বের হয়েছিলেন, ঠিক তখনই ওত পেতে থাকা একদল দুস্কৃতিকারী তাঁকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করে। ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয় তাঁর পুরো শরীর। ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।
- ঘটনার আকস্মিকতায় পুরো গ্রাম স্তব্ধ হয়ে যায়। ইউপিডিএফের (প্রসীত) অভিযোগ, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিল খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে আসা একটি বিশেষ দল, যারা জেকশন চাকমা ও আশীষ ত্রিপুরার নেতৃত্বে ভোরেই এলাকায় পৌঁছে অবস্থান নিয়েছিল বলে সুত্রে জানায়।
- ইউপিডিএফ খাগড়াছড়ি সংগঠক অংগ্যা মারমা এক বিবৃতিতে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিককে দায় করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে খুনিদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
- এই ঘটনায় রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক উজোবাজার বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইউপিডিএফ সহযোগী অঙ্গসংগঠন। বিক্ষোভ কর্মসূচী থেকে জানা গেছে, হেগেরা চাকমা তরুণের হত্যার প্রতিবাদে আগামী সোমবার (১১ মে ২০২৬) সাজেক পর্যটনের প্রধান সড়কে আধাবেলা অবরোধ পালন করবেন।
- ইউপিডিএফ সংগঠক কালো বরণ চাকমার সভাপতিত্বে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের সহযোগী অঙ্গসংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম কঠোর অবরোধ পালন করবেন।
- সাজেক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, নিহত হেগেরা চাকমার লাশ উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে পোষ্টমর্টেমের জন্য পাঠানো হয়েছে, তিনি আরো জানান, সম্ভাব্য সহিংসতা এড়াতে পুলিশের পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোড়দার করা হয়েছে।
- এই হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই বেরিয়ে আসছে অতীতের ঘটনাক্রম। মাত্র দুই দিন আগে, (৭ মে) ভোরে পানছড়ি উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় সশস্ত্র হামলায় প্রাণ হারান আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের সদস্য মোঃ ইমন হোসেন (২৫) নামে এক যুবক। প্রশ্ন উঠেছে বাঙালি যুবক কেন পাহাড়ি সংগঠনে?
- এ্রই ধরণের অনেক বাঙালি হিন্দু ও বড়ুয়া যুবক পাহাড়ি সংগঠন গুলোতে যুক্ত হওয়ার অভিযোগ দিনদিন জোড়ালো হচ্ছে। বাঙালি যুবক ইমন ছিলেন উপজেলার মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা। এই হত্যাকাণ্ডের পর ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) এর অমর চাকমা এক বিবৃতিতে দাবি করে যে, ইমন তাদের সংগঠনের একজন নিবেদিতপ্রাণ সদস্য ছিলেন এবং ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের সশস্ত্র ক্যাডাররা তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। এই ঘটনার ফলে পাহাড়ের সংঘাত কেবল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, সকল সম্প্রদায়ের লোকজন। পানছড়ির মতো শান্ত জনপদেও এখন দিনদুপুরে অস্ত্র হাতে মহড়া দিতে দেখা যায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে, যার ফলে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের নিরাপত্তা এখন হুমকির মুখে।এক মাসের এই রক্তক্ষয়ী উৎসবের শুরু হয়েছিল
- গত (৮ এপ্রিল) খাগড়াছড়ি জেলা শহরের অতি নিকটবর্তী আকবাড়ি এলাকায়। সেখানে প্রকাশ্য দিবালোকে খুন করা হয়েছে একজনকে। এইভাবে পাহাড়ের শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করে তুলেছে পাহাড়ী জনপথ।

