বুধবার, ০৩ জুন, ২০২৬

রাঙ্গামাটিতে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ৯৩ শতাংশ মেধার দাবিতে স্মারকলিপি

  • প্রকাশিত: ১৮ নভেম্বর ২০২৫, ৪:১৫ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ৭ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাঙ্গামাটিতে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ১১-২০ গ্রেডের ৯৩ শতাংশ মেধার দাবিতে স্মারকলিপি পেশ । ১৭ নভেম্বর দুপুর ১২টায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের নিকট স্বারকলিপি পেশ করেন সচেতন নাগরিক ঐক্য। স্বারকলিপিতে উল্লেখ করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খৃী: স্বারক মুলে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের আওতাধীন হস্তান্তরিত বিভাগ সমুহে ১১-২০তম গ্রেডের শুন্য পদের ক্ষেত্রে ৭ শতাংশ কোটা ও ৯৩ শতাংশ মেধার ভিক্তিতে জনবল নিয়োগের দাবী জানান। এই বিষয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার বলেন, জেলা পরিষদের আইনের ভিক্তিতে নিয়োগ করা হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় প্রজ্ঞাপন পাহাড়ে জন্য নয়। জেলা পরিষদের আইনের বাহিরে যেতে পারি না। পরে তারা শ্লোগান দিয়ে উক্তেজনা হয়ে পড়ে। ২৩/৭/২৪ খৃী:১৪১ নং স্বারকে জারীকৃত প্রজ্ঞাপনে সরকার কর্তৃক নতুন কোটা পদ্ধতি নিধারণ করা হয়েছে। সচেতন নাগরিক ঐক্যর আহবায়ক কামাল উদ্দীন বলেন,পার্বত্য উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার আওয়ীলীগের দোসর ছিলেন । সুতারাং আঞ্চলিক দলের কিছু লোকদের নিয়োগ দিয়ে ৮০/৯০ কোটি টাকা বাতাসে উড়তেছে। এসব নিয়োগ ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগের সুরে বলেন কামাল উদ্দীন ।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীনে প্রাথমিক সরকারী শিক্ষক নিয়োগে কোঠা বৈষম্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ জারিকৃত আইন না মেনে পরীক্ষা গ্রহণ বন্ধ করার দাবিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম সম অধিকার যুব পরিষদের ব্যানারে প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

রবিবার ১৬ নভেম্বর ২৫ সকাল ১১ ঘটিকায় রাঙ্গামাটি পৌরসভার প্রাঙ্গন হতে পার্বত্য চট্টগ্রাম সাম অধিকার যুব পরিষদের আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান খান এর নেতৃত্বে রেলি করে জেলা পরিষদের কার্যালয়ে সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও স্মারকলিপি প্রদান করেন। এত উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম সম-অধিকার যুব পরিষদের আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান খান পার্বত্য চট্টগ্রাম সম-অধিকার যুব পরিষদের সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান যুগ্ম আহ্বায়ক: আবুল কাসেম যুগ্ম আহ্বায়ক: মহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ গান। এ দাবির প্রেক্ষিতে আজ জেলা পরিষদের সদস্য মিনহাজ মোর্শেদের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। রাঙ্গামাটি নিয়োগ কমিটি, চেয়ারম্যান, পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সহ শিক্ষক নিয়োগের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ আছে।

তাছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্য করে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। দূর্নীতির অভিযোগে ইতিপূর্বে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া তিনবার স্থগিত ছিল। এখন জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে এই নিয়োগ প্রদান করে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিজের আখের গোছানোর চেষ্টা করছে  বলে অভিযোগ করেন বক্তরা। অনেক সংগঠনের বিভিন্ন দাবিকে উপেক্ষা করা মানে বুঝা যাচ্ছে বিভিন্ন প্রশাসনকে বিভিন্ন কৌশলে ম্যানেজ করা হয়েছে।

এছাড়া এই নিয়োগ প্রক্রিয়া যদি স্থগিত করা না হয় তাহলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার আশংকাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। কারণ ইতিমধ্যে আন্দোলনকারীরা পাহাড়ি বাঙ্গালী হিসেবে বিভক্ত হয়ে গেছে। তাই সবদিক বিবেচনা করে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করে আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করা উচিত।: স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, রাঙামাটি জেলা পরিষদ পরিচালিত প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সংখ্যাগত কোটা বণ্টন বৈষম্যমূলক এবং জাতীয় শিক্ষা নীতিমালার সঙ্গে অসঙ্গত। এতে যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়।

এসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম সম-অধিকার যুব পরিষদের আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান খান বলেন, ২৪ শে’ কোটা বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে কোটা ব্যবস্থা বাতিল হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে এখনো কার্যকর হয়নি। এখানে কোটার নামে একটি জাতিগোষ্ঠীকে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, যা বৈষম্যমূলক এবং যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করছে।তিনি জেলার দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত কোটা ব্যবস্থা বাতিলের আহ্বান জানান। পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব পরিষদের সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান বলেন, কোটা সংক্রান্ত নির্দেশনা না মানা এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় তারা বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি আরও জানান, বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে আগামী দিনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।আন্দোলনকারীরা আশা প্রকাশ করেন, জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ তাদের দাবি বিবেচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে, যাতে রাঙ্গামাটি সাধারণ চাকরি প্রত্যাশীরা দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

উল্লেখ্য যে, তার আগে বিভিন্ন সংগঠনের আপক্তির প্রতিবাদে তৃতীয় দফা শিক্ষক স্থগিত ঘোষনা করেন।প্রায় সাড়ে ৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগের মধ্যে আন্দোলনে নেমেছে মাত্র আনুমানিক শতাধিক । জনশ্রুতি মতে যাদের কাছ থেকে নিয়োগ নিশ্চিত হয়েছে তাদের আন্দোলনে নেমেছে বলে প্রতিবাদকারী সংগঠনের নেতার অভিযোগ। পাশাপাশি ৪র্থ বার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ২১ নভেম্বর নিয়োগ পরীক্ষা ।

বিএনপির সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিবেদককে জানান,নিয়োগ কমিটি, চেয়ারম্যান, পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সহ শিক্ষক নিয়োগের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ আছে। তাছাড়া করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্য করে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। দূর্নীতির অভিযোগে ইতিপূর্বে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া দুইবার স্থগিত ছিল। এখন জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে এই নিয়োগ প্রদান করে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিজের আখের গোছানোর চেষ্টা করছে। অনেক সংগঠনের বিভিন্ন দাবিকে উপেক্ষা করা মানে বুঝা যাচ্ছে বিভিন্ন প্রশাসনকে বিভিন্ন কৌশলে ম্যানেজ করা হয়েছে। তাছাড়া এই নিয়োগ প্রক্রিয়া যদি স্থগিত করা না হয় তাহলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার আশংকাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। কারণ ইতিমধ্যে আন্দোলনকারীরা পাহাড়ি বাঙ্গালী হিসেবে বিভক্ত হয়ে গেছে। তাই সবদিক বিবেচনা করে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করে আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করা উচিত।#

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...