রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬

সবজির স্বস্তি আলু-চালে উধাও

  • প্রকাশিত: ৮ নভেম্বর ২০২৪, ২:০৮ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ১ বছর আগে

দেউলিয়াত্ব থেকে ফিরে আসা দ্বীপদেশ শ্রীলংকায় মূল্যস্ফীতি দুই মাস ধরে ঋণাত্মক। অর্থাৎ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমতে থাকায় দেশটিতে এখন মূল্য সংকোচন দেখা যাচ্ছে।

দেউলিয়াত্ব থেকে ফিরে আসা দ্বীপদেশ শ্রীলংকায় মূল্যস্ফীতি দুই মাস ধরে ঋণাত্মক। অর্থাৎ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমতে থাকায় দেশটিতে এখন মূল্য সংকোচন দেখা যাচ্ছে। বিপরীত চিত্র বাংলাদেশে। এখানে আরো অবনতি হয়েছে মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতির। গত মাসে (অক্টোবর) মূল্যস্ফীতি আবারো দুই অংক ছাড়িয়ে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশে। এর মধ্যে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ১২ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই মূল্যস্ফীতির সর্বোচ্চ হার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) গতকাল প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর শেষে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশে, যা এর আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। গত মাসে দেশে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১২ দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশে। আর সেপ্টেম্বরে এ হার খাদ্যপণ্যে ছিল ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। এ সময় শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে মূল্যস্ফীতির তীব্রতা বেড়েছে। অক্টোবরে শহরাঞ্চলে মূল্যস্ফীতির হার ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ। গ্রামাঞ্চলে তা ১১ দশমিক ২৬ শতাংশে।
দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপদেশ শ্রীলংকা দেউলিয়া হয়ে পড়ে ২০২২ সালের প্রথমার্ধে। ডলার সংকট ও অর্থনৈতিক বিপত্তির প্রভাবে দেশটিতে খাদ্য ও জ্বালানির সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি জর্জরিত দেশগুলোর একটি হয়ে ওঠে শ্রীলংকা। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে দেশটিতে মূল্যস্ফীতির হার ঠেকে ৭০ শতাংশে। সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে এক পর্যায়ে এ বিপত্তি কাটিয়ে উঠতে থাকে বৈদেশিক দায় পরিশোধের ব্যর্থতায় নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করা দেশটি। নিয়ন্ত্রণে চলে আসে মূল্যস্ফীতি। সর্বশেষ গত দুই মাসে দেশটির মূল্যস্ফীতির হার ছিল ঋণাত্মক। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরে এ হার ছিল ঋণাত্মক দশমিক ৫ শতাংশ। অক্টোবরে দাঁড়ায় ঋণাত্মক দশমিক ৮ শতাংশে।

বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কয়েক দফায় নীতি সুদহার বাড়ানোর পাশাপাশি নিত্যপণ্যের শুল্কছাড় এবং বাজার তদারকিতে ব্যাপক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর পরও তা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। উল্টো ভোক্তাদের জন্য পরিস্থিতি দিনে দিনে আরো অসহনীয় হয়ে উঠছে। এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদদের বক্তব্য হলো শুধু নীতি সুদহার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বরং এখানে রাজস্বনীতি, বাজার ব্যবস্থাপনা ও পণ্যের সরবরাহ চেইনে শৃঙ্খলা ফেরানোও গুরুত্বপূর্ণ। নইলে শুল্কছাড়ের সুফল ভোক্তার কাছে না পৌঁছে গুটিকয়েক সিন্ডিকেটের পকেটে ঢুকে যাবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য অর্জনও দিনে দিনে আরো কঠিন হয়ে পড়বে।

সূত্রঃ বিআরসি নিউজ

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...