বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলছে করোনা ভাইরাস, বলছে নতুন গবেষণা

  • প্রকাশিত: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩, ৭:১৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২ বছর আগে

ফের উদ্বেগ বাড়াতে শুরু করেছে করোনা ভাইরাস। সিঙ্গাপুর, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে আবারও করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে।এরমধ্যেই করোনা ভাইরাস নিয়ে নতুন আশঙ্কার খবর জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের দাবি করোনায় আক্রান্ত হলে মানুষের ব্রেনের কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্কার করে বললে, মস্তিষ্কের ওপর বিশেষ প্রভাব ফেলছে করোনা ভাইরাস। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

সম্প্রতি কোপেনহাগেন ও ডেনমার্ক ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা করোনা ভাইরাসের প্রভাব সম্পর্কে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। আমেরিকান মেডিক্যাল জার্নালে গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণা দেখা গেছে, কোভিড আক্রান্ত যে সকল রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন, তাদের স্নায়বিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। অর্থাৎ মস্তিষ্কে স্নায়বিক কাজকর্মের ওপর বিশেষ প্রভাব ফেলছে করোনা ভাইরাস। তাই করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে উঠলেও তাদের মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের বিশেষ যত্ন নেওয়া এবং চিকিৎসা করা জরুরি বলেও গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষকেরা ১২০ জন কোভিড রোগীসহ ৩৪৫ জনের ওপর গবেষণাটি চালিয়েছিলেন। এতে দেখা গেছে, কোভিড আক্রান্ত হওয়ার পর অবসাদ, উত্তেজিত হওয়ার মতো সমস্যা বেড়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই করোনা আক্রান্ত রোগীর শারীরিক অবস্থা গুরুতর না হলেও, হাসপাতালে ভর্তি না হলেও তাদের স্নায়বিক চিকিৎসার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে একাধিক দেশে করোনার নতুন উপধরন জেএন.১ (JN.1) ছড়িয়ে পড়েছে। করোনার এই ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও, চিন্তিত হওয়ার প্রয়োজন নেই বলে উল্লেখ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

জেএন.১ কে ‘ভ্যারিয়্যান্ট অফ ইন্টারেস্ট’ হিসাবে ব্যাখ্যা দিয়ে ডব্লিউএইচওর দাবি, এই উপধরনের সংক্রমণের ফলে মৃত্যুর আশঙ্কা প্রায় নেই বললেই চলে। এছাড়া এটি আগের উপধরনের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর নয়। কোভিডের যেকোনও ভ্যাকসিন নিলেই এর সংক্রমণের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করা যাবে।

এ বিবৃতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত জেএন.১ ভ্যারিয়েন্ট সম্পর্কে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক, এমন কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। এই ভ্যারিয়েন্টের গতি-প্রকৃতির উপরে আপাতত কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, করোনার বিএ২.৮৬ (BA.2.86)-র সাব ভ্যারিয়েন্টেরই একটি অংশ জেএন.১ ।

মার্কিন স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে যে ভ্যাকসিন রয়েছে, তা জেএন.১ ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ ও মৃত্যু থেকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের পক্ষ থেকেও চলতি মাসের শুরুতে জানানো হয়েছিল, নতুন সংক্রমণের ১৫ থেকে ২৯ শতাংশই করোনার জেএন.১ ভ্যারিয়েন্টের কারণে হচ্ছে। চীনেও করোনার একাধিক নতুন ভ্যারিয়েন্টের খোঁজ মিলেছে বলে জানা গেছে।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...