রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬

রাঙামাটিতে দুর্নীতির আখড়া দলীয় পৃষ্টপোষকতায় 

  • প্রকাশিত: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪, ১১:০০ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ১ বছর আগে

আরজিএ ডেস্ক:- রাঙামাটিতেদুর্নীতির আখড়া দলীয়  সিন্ডিকেট চলছে নীরবে লুটপাট ।
টেন্ডারবাজি, ভর্তি ও নিয়োগবাণিজ্য ছিল দলীয় সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রনে । এছাড়া রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ ও বাজার ফ্রন্টের জমি এবং লেক দখলের প্রতিযোগিতা । দলীয় কার্যালয়ে পরিণত হয়েছিল বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, রাঙামাটি পৌরসভা, এলজিডি, সড়ক ও জনপদ বিভাগ, গণপূর্ত, পর্যটন, সড়কের টোল, বনবিভাগ, মৎস্য ভবন,বিএডিসি,কৃষি বিভাগ, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট ও পাবলিক হেলথসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিণত হয় তার বাণিজ্যিক কেন্দ্রে। পক্ষান্তরে জিম্মি ছিলেন সাধারণ মানুষ। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এসব দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে ।এসব দুর্নীতির অনুসন্ধানে নেমেছে জাতীয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)এরপরেও দলীয় সিন্ডিকেট নড়ে চড়ে বসেছে ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিগত ১৬ বছর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার কারণে  রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান ছিল দলীয় নেতাদের নিয়ন্ত্রনে ওটিএম টেন্ডার। এসব দলীয় নেতাদের  ছত্রছায়ায় বেড়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী-মাদকসেবী যুবক।  নানা দুর্নীতি, অনিয়ম ও নানামুখী অপরাধ। এদের ক্ষমতার সামনে অসহায় ছিলেন বিএনপির নেতা-কর্মীসহ অধিকাংশ সাধারণ মানুষ। রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার এসপি অফিসে সম্প্রীতি সভায় অভিযোগ করে বলেন, রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের দুর্নীতির মহাৎসব পরিণত হয়েছে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান। এমনকি শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগেই উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির (ওটিএম) মাধ্যমে লোপাট হয়েছে এক হাজার কোটি টাকা। তার মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডে ২শতাধিক কোটি, জেলা পরিষদে ৪শতাধিক কোটি, পাবলিক হেলথে ১ শতাধিক কোটি, এলজিডিতে ২শতাধিক কোটি এবং সড়ক ও জনপদ বিভাগে ২শতাধিক কোটি ও মৎস্য ভবনের ক্রীক বাধ  প্রায়শতাধিক কোটি টাকার ওটিএম টেন্ডারের মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন ক্ষমতাশীন দলের নেতা-কর্মীরা।

বিএনপির সভাপতি আরো বলেন,আওয়ামীলীগের মনোনীত পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান সুদীপ্ত চাকমা ৭৬ কোটি টাকা নয়ছয় করার অভিযোগ উঠেছে,রাষ্ট্রদুত থাকাকালিন সময়ে তুরুস্কসহ তিনটি দেশে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল । পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান থেকে এক দৌড়ে পাহাড়ে উপদেষ্টা হয়ে নিজের ইচ্ছামত আত্তীয়করণ স্বজনপ্রীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাহাড়ে কোন বরাদ্ধ দেওয়ার আগে নাকি উপদেষ্টার এপিএস সাথে কথা বলতে হবে।

রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাভোকেট মো. মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, ক্ষমতায় থেকে জেলা আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা কি-না করেনি। সবখানে তাদের দুর্নীতিতে টইটম্বুর ছিল। শহরের মানিকছড়ি এলাকায় বিএনপির অফিস দখল করে নিজেদের দলীয় কার্যালয় বানিয়েছেন। রাঙামাটি শহরের ফিসারি বাঁধ এলাকায় কাপ্তাই হ্রদের জলাশয় দখল করে বানিয়েছেন আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয়।  রাঙামাটির ১০টি উপজেলাও বাদ পড়েনি। ভূমি দখল ও দুষন, টেন্ডারবাজি, ভর্তিবাণিজ্য ও নিয়োগবাণিজ্য ছিল তাদের অবৈধ টাকার উৎস। সাধারণ মানুষ ছিল আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে জিম্মি। পৌরসভার দুর্নীতির কারণে সাধারণ নাগরিকরা ছিলেন সুবিধাবঞ্চিত। দুর্নীতির সংবাদ একাধিক জাতীয় পত্রিকা অনলাইনসহ বিভিন্ন মিডিয়া ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এতকিছুর পরেও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে অপরাধীরা ।

এসব ঘটনায় দুর্নীতির মামলা হলেও ক্ষমতার দাপটে কার্যকর হয়নি। রাঙামাটিতে ঘরে ঘরে সাধারণ শিক্ষিত ছেলেমেয়ে বেকার। কারণ টাকা কিংবা ঘুষ ছাড়া চাকরি পাওয়া অসম্ভব ছিল। এসব ঘুষবাণিজ্যে লিপ্ত ছিল ছোট থেকে শীর্ষ নেতারাও। প্রকাশে ঘুষের লেনদেন চললেও মুখ খুলতে পারতেন না কেউ। প্রতিবাদ করলে হামলা-মামলা হয়রানির শিকার হতেন। দুর্নীতির কারণে রাঙামাটির বিভিন্ন সড়ক, সেতু ও কালভার্টের বেহাল দশা।  স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির কারণে সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত ছিলেন রাঙামাটির সাধারণ মানুষ। এসবই হতো শীর্ষ নেতাদের  ছত্রছায়ায়। তার বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক। শীর্ষ নেতাদের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক , সহসভাপতি ও পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা,রাঙামাটি পৌর মেয়র আকব্বর হোসেন চৗধুরী, আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাওয়াল উদ্দিন এবং সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক ও পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য রেমলিয়ানা পাংখোয়া আরো অনেকে। সুত্র বাংলাদেশ প্রতিদিন একাংশ ও রাঙ্গুনিয়া থানার মামলা থেকে।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...