শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

সোজা আঙ্গুলে যদি ঘি না উঠলে – আঙ্গুল বাঁকা করতে হয়-

  • প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২৫, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ১২ মাস আগে
ফ্যাক্টঃ ফরেস্টারদের পদোন্নতি।
বন বিভাগের ফরেস্টারদের পদোন্নতি জটিলতা নিরসনে সমস্যা ছিলো জৈষ্ঠ্যতা নির্ধারনে বিদ্যমান মামলা। ইতিপূর্বে বার বার মিটিং করেও কোন সমঝোতা হয়নি। কিন্তু গত ১৩/০৪/২৫ তারিখে সকল পক্ষের সমন্বয়ে বন ভবনে পদোন্নতি সমস্যা নিরসনে এক যুগান্তকারী সমস্যা সমাধানে মিটিং হয়। মিটিং এ সিদ্ধান্ত হয় সরকার পক্ষ ও বিভিন্ন মামলার বাদীগণ মামলা উঠিয়ে নিবেন এবং কর্তৃপক্ষ কোন প্রক্রিয়ায় জৈষ্ঠ্যতা নির্ধারন করবেন সে বিষয়েও আলোচনা হয়। সকলে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের সাথে একমত পোষণ করে । সকলে কর্তৃপক্ষের কাছে মামলা উঠিয়ে নেওয়ার ওয়াদা করে। ইতিমধ্যে কয়েকটি গ্রুপ মামলা উঠিয়েও নিয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় থেকে মামলা উঠিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিলেও গ্রীন বেল্ট প্রকল্পের কিছু মামলাবাজ ফরেস্টার এখনও মামলা উঠায়নি এমনকি মামলা উঠাবেন না বলে সিদ্ধান্ত ও নিয়েছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য করা অসদাচরণের সামিল অপরাধ। সেই অপরাধের দায়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই কেল্লাফতে। আম ছালা দুটোই হারাবে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ কেন শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না ? কিসের ভয় ? তাদের ইন্ধনদাতা কারা ? তারা এত বড় স্পর্ধা কোথা থেকে পায় ? ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এত দুর্বল কেন ? স্বৈরাচারী পাকিস্তান ও তার দোসর রাজাকার, আল বদর, আল শামস এর উত্তরসূরী এরা। রাজাকার, আল বদর, আল শামস যেমন চায়নি বাংলাদেশ স্বাধীন হউক। ঠিক তেমনি গ্রিন বেল্টের ফরেস্টাররাও চায় না ফরেস্টারদের পদোন্নতি হউক। রাজাকার,আল বদর, আল শামস সুবিধা ভোগ করেছে পাকিস্তানী স্বৈর শাসকদের কাছ থেকে আর গ্রিন বেল্টের ফরেস্টাররা সুবিধা ভোগ করছে তথাকথিত বন অধিদপ্তরের নীতি নির্ধারকদের নিকট থেকে। সুবিধা ভোগ করতে করতে তাদের শরীরে তেল জমে গেছে। তেল না কমালে এরা সোজা হবে না। আমার মনে হয় এরা বর্তমানে সুবিধাজনক স্থানে পোষ্টিং এ আছে। তাই চেয়ার চলে যাওয়ার ভয়ে মামলা না তুলে পদোন্নতিকে বিঘ্নিত করে তারা নিজেদের সুবিধা হাছিল করে প্রয়োজনে অবসরে যাবে তবুও তারা পদোন্নতি হতে দিবে না। আমি সকল ফরেস্টারদের উদ্দেশ্যে বলছি- আমি দীর্ঘদিন যাবত ফরেস্টার ও ফরেস্ট গার্ডদের পদোন্নতি সমস্যা ও সমাধান নিয়ে লিখছি। আপনারা কে কি করেছেন আপনারা নিজেদেরকে প্রশ্ন করুন। তাই আপনাদেরকে বলছি-যদি গ্রীন বেল্ট মামলা না উঠায় তবে তাদের বর্তমান ও অতীত পোষ্টিংগুলোর তালিকা প্রকাশ করুন। আর তারা যদি কোন রেঞ্জের দায়িত্বে থাকে তবে তাদের অধীনে যদি ২০১৬ সালের খসড়া গ্রেডেশন তালিকার যদি কেউ তাদের সিনিয়র থাকেন তবে কালকেই কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করুন। জুনিয়র এর অধীনে কোন সিনিয়র চাকরি করবে না। সিনিয়ররা জুনিয়রের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে দিন প্রতিবাদ করুন দেখবেন তাদের পাছার চেয়ারগুলো নড়বড়ে হয়ে যাবে। তাদের একযোগে বয়কট করুন। দেখবেন “ছেড়ে দে মা কাইন্দা বাঁচি” অবস্থা হবে। আর তাদের রেঞ্জের অনিয়ম বা প্রকল্পের হরিলুটের কাহিনী যদি থাকে, তাদের অবৈধ সম্পদের তথ্য আর সার্ভিস বুক কি লাল না কালো একটু খোঁজ নিন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করুন অথবা আমাকে দিন। আমি তাদের মুখোশ খুলে দিবো। আগামীকাল ২২/০৪/২৫ তারিখ বন অধিদপ্তর সরকার পক্ষের ৩টি মামলা তুলে নিবে বলে বিশ্বস্তসূত্রে জানতে পেরেছি। আমি চাই গ্রীন বেল্ট প্রকল্পের ফরেস্টারগণও তাদের মামলা তুলে নিবেন। আর যদি তারা মামলা না তুলে নেয় তবে বন অধিদপ্তরের নীতি নির্ধারকগণের নিকট অনুরোধ তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
♦ ডিপ্লোমা ১১ জন ফরেস্টারকে চাকুরীচ্যুতির ভয় দেখিয়ে কর্তৃপক্ষ ( বন মন্ত্রী ও প্রধান বন সংরক্ষক) ফরেস্ট রেঞ্জার নিয়োগের মামলা তুলতে নিতে বাধ্য করা হয়েছিল। আপনারা তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আগে ৭০% পদোন্নতি পরে ৩০% সরাসরি নিয়োগ। আপনারা কিন্তু কথা রাখেননি। তাদের উজ্জল সম্ভবনাময় ভবিষ্যতকে আপনারা ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন।
তাদের ক্ষেত্রে যদি পারেন তবে গ্রিন বেল্টের ক্ষেত্রে কেন পারবেন না! তাহলে কি ধরে নিবো আপনারাই এদের পৃষ্ঠপোষক। যদি তাই না হবে তবে এদের ব্যাপারে আপনারা এতো দূর্বল কেন? তাদের হাত এতই লম্বা যে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। ১০/১২ জন গ্রিন বেল্ট এর ফরেস্টার ৭/৮ শত ফরেস্টারের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারেন না।
পদোন্নতি বঞ্চিত ফরেস্টার ভাইয়েরা, কে কি করলো সেটা না দেখে আপনি কি করলেন বা করেছেন সেটাই দেখার বিষয়। আপনাদের বুকের ভিতরের জ্বলন্ত অগ্নিকে বিপ্লব আর বিদ্রোহে রুপ দিন। প্রয়োজনে তেলবাজ, দালাল, সুবিধাবাদী, মামলাবাজদের বয়কট করুন। তাদের বাদ দিয়ে বৈষম্যের শিকাররা মিলে একটি “বৈষম্য বিরোধী ঐক্য পরিষদ” গড়ে তুলুন। নিজেদের অধিকার আদায়ে আপনারা ঐক্যের ডাক দিন। ঐক্যের বিকল্প কিছু নাই। ঐক্যকে কেউ দমাতে পারবে না। আপনাদের বিজয় দ্বার প্রান্তে। এটি যদি কারো মীরজাফরী আর বিশ্বাসঘাতকতায় যদি হাত ছাড়া হয় তবে মনে রাখবেন পলাশীর প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতা যেমন অস্তমিত হয়েছিল আপনাদের পদোন্নতিও কিন্তু অস্তমিত হবে। তাই চোখ কান খোলা রাখুন। আমি আবুল কালাম আছি আপনাদের সাথে আপনাদের বিজয় মানে আমার বিজয় আর আপনাদের পরাজয় মানে আমার পরাজয়। আমার লেখনি তখনি থামবে যখন ফরেস্ট গার্ড ও ফরেস্টারদের পদোন্নতি হবে, বৈষম্যহীন বন বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হবে, সকলে ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে।
আমি কথা দিচ্ছি আমি আছি আপনারই সাথে। যেখানে অনিয়ম, যেখানে বৈষম্য, যেখানে দূর্নীতি তার বিরুদ্ধে আমার কলম কথা বলবে। লুটপাট করে কাউকে বন বিভাগকে কলঙ্কিত করতে দিবো না। একজনের জন্য বন বিভাগের বদনাম হতে পারে না। তাই আপনারা আমাকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করুন।
ফরেস্ট গার্ডদের ২০১৬ সালের ব্যাচরা ছাড় দিয়ে পদোন্নতি সমস্যা সমাধানে সহযোগীতা করছে আমি তাদের সাধুবাদ জানাই। আর আপনারা গ্রীন বেল্ট প্রকল্পের ফরেস্টারদের মুতে আছাড় খাবেন এটা মেনে নেওয়া যায় না। সকলে মিলে তাদের প্রতিহত করুন প্রয়োজনে তাদের অবরুদ্ধ করুন। তারা যদি কোন রেঞ্জের দায়িত্বে থেকে থাকে সকলে সম্মিলিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। দশে মিলে করি কাজ হারি জিতি নাহি লাজ। সাহসিকতার সহিত এগিয়ে চলুন কামিয়াব হবেন ইনশাল্লাহ। মামলা বাজদের চিনে রাখুন। তাদের ছবিগুলো সর্বত্র প্রচার করুন। তাদের ভালো মানুষের মুখোশগুলো সমাজে উন্মোচন করুন। তাদের পরিবার-পরিজন ছেলে মেয়েরা জানুক বনবিভাগের মীরজাফর ও মিথ্যাবাদী। কথা দিয়ে কথা রাখে না। তারা বৈষম্যের শিকার ফরেস্টারদের শত্রু। গ্রিন বেল্টের ফরেস্টাদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ ব্যক্তি স্বার্থ বাদ দিয়ে ছোট ভাইদের স্বার্থ রক্ষা করুন। মনে রাখবেন ভোগে শান্তি নাই ত্যাগেই শান্তি। ছবি সম্মিলিত ফরেস্টাররাই মামলা না উঠিয়ে পদোন্নতিতে জটিলতা সৃষ্টি করছে। যে যেখানে আছে তাদের সকলেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে বয়কট করুন। অতিথি লেখক: আবুল কালাম

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...