রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬

 খাগড়াছড়িতে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের নজিরবিহীন বৈষম্যের প্রতিবাদের ঝড়- পিসিসিপি’র

  • প্রকাশিত: ৩১ মার্চ ২০২৫, ১:৩৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১ বছর আগে

  নিজস্ব প্রতিবেদক:- পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের প্রতি এক নজিরবিহীন বৈষম্য চালিয়ে সম্প্রতি যে চাকমা মার্কা বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা বাতিল করে পাহাড়ি-বাঙালি সকল জাতিগোষ্ঠীকে জনসংখ্যা অনুপাতে সমান ভাবে বরাদ্দের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটি।

শক্রবার সকালে পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক জমির উদ্দিনের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় কর্তৃক পাহাড়ের জনগণের সাথে বৈষম্য চালিয়ে সম্প্রতি যে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা সংবিধানের সাম্যের নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত সাম্প্রতিক বাজেট বরাদ্দ তালিকা পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয়, এই বরাদ্দ প্রক্রিয়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, পক্ষপাতদুষ্ট এবং এক বিশেষ জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় কেন্দ্রীভূত। রাষ্ট্রের সম্পদ কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের জন্য নয়, এটি সকল নাগরিকের সমান অধিকার। অথচ সরকার পাহাড়ি অঞ্চলের জনসংখ্যার প্রকৃত চিত্র ও প্রয়োজন উপেক্ষা করে একপাক্ষিক বরাদ্দ প্রদান করেছে, যা চরম বৈষম্যমূলক।

পিসিসিপি’র বিবৃতিতে আরো বলা হয় আমাদের বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার মধ্যে বরাদ্দের যে বিভাজন করা হয়েছে, তা চরম অসামঞ্জস্যপূর্ণ।খাগড়াছড়ি: ১৯৫ ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩ কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা (৭১.০২%)

রাঙামাটি: ৪৪ ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান পেয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ২০ হাজার টাকা (২৭.৭৭%) বান্দরবান: মাত্র ৩ ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান পেয়েছে ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা (১.২০%)এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে যে, বান্দরবানকে পরিকল্পিতভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার মধ্যে বান্দরবান একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল, যেখানে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী বসবাস করে। কিন্তু সেখানে বরাদ্দ মাত্র ১.২০%! এটি সরাসরি বৈষম্যের পরিচায়ক।

বিবৃতিতে জাতিগত বৈষম্য স্পষ্ট উল্লেখ করে বলা হয়-রাঙামাটির বরাদ্দ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়—চাকমা সম্প্রদায় পেয়েছে ৮৬.৫০% বরাদ্দ

বাঙালিরা পেয়েছে মাত্র ৬.৯৫%মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের বরাদ্দ আরও নগণ্য।খাগড়াছড়ির বরাদ্দের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে, চাকমারা পেয়েছে ৭৩.০৯%, যেখানে বাঙালি, মারমা, ত্রিপুরা, সাঁওতালদের বরাদ্দ তুলনামূলকভাবে খুবই কম।এই বরাদ্দে অনিয়মের আরেকটি প্রমাণ হলো একই ব্যক্তি একাধিকবার অনুদান পেয়েছে।যেমন: রাঙামাটির রনজ্যোতি চাকমা দু’বার (৩+৩) মোট ৬ লাখ টাকা পেয়েছে।

বিনৌটি চাকমা ১২টি গ্রুপের নামে ২৫ লাখ টাকা পেয়েছে। খাগড়াছড়ির ত্রিনা চাকমা ১২টি গ্রুপের নামে ২৫ লাখ টাকা পেয়েছেন।

অন্যদিকে, বাঙালি, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর অনেকেই কোনো বরাদ্দ পাননি! এই ধরনের পক্ষপাতমূলক বরাদ্দ সরাসরি সংবিধানের ১৯(১) অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন, যেখানে বলা হয়েছে, “রাষ্ট্র সমাজের সব নাগরিকের মধ্যে সমতা বিধান করবে।”

বিবৃতিতে পিসিসিপি জোর দাবি জানান:-১. এই বৈষম্যমূলক সাম্প্রদায়িক চাকমা বরাদ্দ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

২. বান্দরবানসহ সকল জেলার জন্য ন্যায্য বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।

৩. বাঙালি, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, সাঁওতালসহ সকল জনগোষ্ঠীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

৪. একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে একাধিকবার বরাদ্দ দেওয়ার অনৈতিক প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।

৫. জনসংখ্যার অনুপাতে ও প্রকৃত প্রয়োজনের ভিত্তিতে বরাদ্দ প্রদান করতে হবে।

বিবৃতিতে পিসিসিপি সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি জানিয়ে উল্লেখ করে

পার্বত্য চট্টগ্রাম কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়, এটি সকল জাতিগোষ্ঠীর আবাসভূমি। এখানে বরাদ্দের নামে কোনো পক্ষপাতমূলক আচরণ ছাত্র সমাজ মেনে নেবে না। এই বৈষম্যমূলক বাজেট অবিলম্বে সংশোধন করা না হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে। ইতিহাস সাক্ষী, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ কখনও নীরব ছিল না, এখনো থাকবে না।

বিবৃতিতে পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটি বলেন, আমরা সরকারকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই—

ন্যায়বিচার ও সাম্যের দাবিতে পাহাড়ের জনগণ রাস্তায় নামতে প্রস্তুত! এই বরাদ্দের মাধ্যমে পার্বত্য মন্ত্রণালয় প্রমাণ করল পাহাড়ে চাকমা আধিপত্যবাদ বিদ্যমান রয়েছে, যার পদতলে পিষ্ট হচ্ছে চাকমা ব্যতীত পাহাড়ের অন্য ১২টি নৃ-গোষ্ঠী।

একজন সচেতন সংবাদকর্মী জানায়, বিগত ১৫ বছর হার মানিয়েছে পার্বত্য মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা । এসব স্বজনপ্রীতি আঞ্চলিকতা -আত্বীয়তা বহি:প্রকাশ বেশীর ভাগ ভুয়া প্রকল্পে অদৃশ্য ঠিকানায় কাগজে কলমে সীমাবন্দ । গণমাধ্যমকে মুখ বন্দ রাখতে তিন প্রেস ক্লাব ৯০ মেট্রিক টন খাদ্য শস্য ও কিছু পত্রিকার প্রতিনিধিকে ব্যক্তিগত শতভাগ ভয়া প্রকল্পের নামে বরাদ্দ দিয়ে আলোচনায় ঝড় উঠে। পেশাগত সংগঠনের শীর্ষে অটো পদবী দিয়ে ব্যক্তিগত বরাদ্দ নেওয়া কোন সুযোগ নেই। এসব ফাসিস্ট সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রানোদনা,কল্যান ট্রাস্ট ও পা:চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড  জেলা পরিষদ ও ত্রাণ ও দুর্যেোগ বিভাগ বহু ভুয়া প্রকল্পের সুবিধাভোগী  দলীয় দোসর।  এসব এনজিও ভুয়া সংগঠনের অদৃশ্য প্রকল্প সাম্প্রদায়িক মার্কা বরাদ্দ বাতিল করে পাহাড়ি-বাঙালি সকল জাতিগোষ্ঠীকে জনসংখ্যা অনুপাতে সমান ভাবে বরাদ্দের আওতায় আনতে হবে অন্যথায় পার্বত্য উপদেষ্টা সু-প্রদীপ চাকমাকে পার্বত্য চট্টগ্রামে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হবে।

  সম-অধিকার খাগড়াছড়ি জেলায় প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তরা বলেন-  সুপ্রদীপ চাকমাকে আওয়ামী সুবিধাভোগী, সাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্ব ও উপজাতীয় সশস্ত্র গ্রুপের অন্যতম পৃষ্টপোষক আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি জেলা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে এক বিক্ষোভ প্রতিবাদ সমাবেশ করে সংগঠনটি। এসময় খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ফেরদৌসী বেগম ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রোজলীন শহিদ চৌধুরী নিকট স্মারক লিপি প্রধান করা হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম সম-অধিকার আন্দোলনের নেতা অ্যাডভোকেট করিম উল্ল্যাহ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পাওয়া সুপ্রদীপ চাকমা একজন দুর্নীতিবাজ এবং পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ, স্নেহভাজন ও তার আমলে অন্যতম সুবিধাভোগী ছিলেন। তিনি আওয়ামী সরকারের সময় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন এসময় দূর্নীতির দায়ে দুদকে তার নামে মামলা হয়। যা এখনো চলমান রয়েছে। গত ২০২৩ সালের ২৪ জুলাই সুপ্রদীপ চাকমাকে সচিব মর্যাদায় গুরুত্বপূর্ন প্রতিষ্ঠান পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। এখনো তিনি সে পদেই বহাল রয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘সুপ্রদীপ চাকমা উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়ের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোও তৎপর হয়ে উঠেছে। খাগড়াছড়ির রামগড়ে উপজাতি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কর্তৃক এক বাঙ্গালী গৃহবধূক গণ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। তিনি বাঙ্গালীদের অ-পাহাড়ি বলে বক্তব্য দিয়েছেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম অশান্ত হয়ে উঠছে। অবিলম্বে সুপ্রদীপ চাকমাকে উপদেষ্টা পরিষদ থেকে বাদ দিতে হবে। অন্যথায় পার্বত্য চট্টগ্রামে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেনএই সমঅধিকার নেতা।’
পার্বত্য চট্টগ্রাম সম অধিকার আন্দোলন খাগড়াছড়ি জেলার সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত স্মারক লিপিতে উল্লেখ করা হয়, সুপ্রদীপ চাকমা পাহাড়ে বসবাসরত পাহাড়ি-বাঙালি নাগরিকদের মাঝে বিবেধ ও উস্কানীমূলক কর্মকাণ্ডে ইতিমধ্যে শান্তিপ্রিয় সাধারণ নাগরিকগণ, ছাত্র-জনতা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কারণ, সুপ্রদীপ চাকমা সুশীল সমাজের নামে আওয়ামী লীগ ঘরানা এবং উপজাতীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতাদের সাথে পার্বত্য জেলায় একাধিক বৈঠকের অভিযোগ
উঠেছে। গত ২৩ আগস্ট খাগড়াছড়িতে বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে আসলে, ঐদিন দুপরে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সুশীল সমাবেশে সাথে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। কিন্তু বাস্তবে সুশীল সমাজের আড়ালে ঐ মতবিনিময় সভাটি ছিল “আওয়ামী লীগ” ঘরানার নেতাদের নিয়ে। যারা আওয়ামী লীগের আমলে সুবিধাভোগী। বৈঠকে বাঙালি সুশীল নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকে ডাকা হয়নি। এবং সভার স্থানও জানতে দেয়া হয়নি। এমনও ঘটনা ঘটেছে, একটি বৈঠকে বাঙালি সম্প্রদায়কে অ-পাহাড়ি নামে সম্বোধন করে তার সাম্প্রদায়িক মনোভাব প্রকাশ্যেও প্রকাশ করেছেন। এঘটনায় পাহাড়ে বসবাসরত প্রায় ৫২% বাঙালি জনগোষ্ঠির মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এছাড়াও তিনি আওয়ামী ঘরানার নেতাদের সাথে মতবিনিময় সভা শেষে আবার রাত ২ টায় গোপনীয়তার মধ্যে পাহাড়ের উপজাতীয় সশস্ত্রগোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠকে বসেন। ঐসব বৈঠকে যারা ছিলেন, উপদেষ্টা নিজেই তাদের ফোন করে আনেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সুপ্রদীপ চাকমার খাগড়াছড়ি অবস্থানকালে পুরো সময়টা ঘিরে থাকে আওয়ামী লীগ ঘরানার লোকজন এবং উপজাতীয় সশস্ত্র সংগঠনগুলোর উপদেষ্টা শ্রেণির লোকজন। ফলে পার্বত্য উপদেষ্টার সফর কোনো গোষ্ঠী বা মহলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন কিনা জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্মারক লিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে পাহাড়ের জনগণ, রাজনৈতিক স্টেকহোল্ডার বিভিন্ন জাতীয় রাজনৈতিক সংগঠন, স্থানীয় সংগঠন, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে পাশ কাটিয়ে বৈসম্য করে যাচ্ছেন। তার সফর সম্পর্কে আওয়ামী লীগ ও উপজাতীয় সশস্ত্র সংগঠনের উপদেষ্টাদের ব্যতিত অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কাউকে জানানো হয় নাই। এমনকি গণমাধ্যম মারফত জানতে পেরেছি, খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম
জানিয়েছেন, সরকারি ভাবে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো তালিকাটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হয়নি।
পার্বত্য উপদেষ্টার সহকারী তালিকাটি সরবরাহ করেছেন। সেই তালিকা অনুসারেই আমরা সবাইকে জানিয়েছি। মতবিনিময় সভায় কারা বক্তব্য দিবেন, সে তালিকাও উপদেষ্টা নিজে ঠিক করে দিয়েছেন। এখানে খাগড়াছড়ি
জেলা প্রশাসক বা প্রশাসনের হাত নেই। অপর দিকে রাঙামাটি এবং বান্দরবানেও সুশীল সমাজের সঙ্গে মতবিনিময়ের নামে ‘আওয়ামী লীগ নেতাদের’ সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ২৪ আগস্ট রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় আন্দোলনে আহত হওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় কাউকে ডাকা হয়নি। ডাকা হয়নি বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, সমঅধিকার আন্দোলনের কোনো প্রতিনিধিকেও। অথচ বৈঠকে উপস্থিত ছিল আ’লীগ নেত্রী টুকু তালুকদার, জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের সভাপতি

উল্লেখ্য  ছাত্র জনতা স্বারকলিপি বিক্ষোভ সমাবেশসহ তিন জেলায় একাধিবার প্রধান উপদেষ্টার কাছে দাবী জানিয়ে আসছে।  সুপ্রদীপ চাকমা স্থানীয় পার্বত্য জেলা পরিষদের নতুন নিয়োগ নিয়েও কথা বলেছেন। কিন্তু তার পক্ষপাতমূলক ও সাম্প্রদায়িক মনোভাব প্রকাশ পাওয়ায় এ নিয়ে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। এমতাবস্থায় বিগত স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের অন্যতম সুবিধাভোগী পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা আওয়ামী লীগের এজেন্টা বাস্তবায়ন করছে। ফলে তাকে অপসারণ করা জরুরী হয়ে পড়েছে বলে জানায়

#

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...