রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬

রাঙ্গামাটির উপজেলাগুলোতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, প্রস্তুত ২৪৬ আশ্রয় কেন্দ্র

  • প্রকাশিত: ১ জুন ২০২৫, ১২:০২ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১১ মাস আগে

নিজস্ব  প্রতিনিধি:-সাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে লাগাতার বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে রাঙ্গামাটির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলার জুরাছড়ি, বাঘাইছড়ি, লংগদু ও সদর উপজেলার বেশকিছু এলাকায় পানি উঠেছে বলে জানাযায়। এসব এলাকায় গত ৫ দিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে, ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
খোঁজ নিয়ে জানাযায় জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার লাইল্যাঘোনা নামক একটি ওয়ার্ডের ৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে উপজেলার মাস্টারপাড়া, মধ্যমপাড়া, বটতলী, বাবুপাড়া, রুপকারী ও পশ্চিম লাইল্যাঘোনা। প্লাবিত এলাকার মানুষজন আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসন।
বাঘাইছড়ির স্থানীয় বাসিন্দা শংকর বড়ুয়া জানান, কয়েকদিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বাঘাইছরির কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আরো বেশকিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার শংকা রয়েছে। বাঘাইছড়িতে প্রতিবছরই পাহাড়িঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শিরীন আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, পৌর এলাকার আশেপাশে কয়েকটি গ্রামে পানি উঠেছে। আমার ৫৫টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা রেখেছি। তবে আশ্রয়কেন্দ্রে দূর্গতদের উপস্থিতি কম।
এদিকে জেলার লংগদু ও জুরাছড়ি উপজেলার বেশকিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। লংগদু সদর ইউনিয়নের দজরপাড়া এলাকার সড়ক, সেতু ও মানুষের বসতঘরে পানি উঠেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। জুরাছড়ির উপজেলার জুরাছড়ি, বনযোগীছড়া, মৈদং ও দুমদুম্যা ইউনিয়েনের বেশ কিছু এলাকায় বসতঘর, কৃষিজমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। স্রোতে ভেসে গেছে সড়ক।
লংগদু উইনিয়ন পরিষদের সদস্য বিনয় চাকমা বলেন, পাহাড়ি ঢলে আমাদের দজরপাড়া এলাকার রাস্তা, সেতু ও বসতঘরে পানি উঠেছে। কৃষি জমির ফসল ও সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আরো মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, গত বৃহস্পতিবার (২৯ মে) থেকে বিরতিহীন বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জুরাছড়ি উপজেলার মৈদং ইউনিয়নের জামুরাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিলছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও উপজেলা সদরের ধামাইপাড়া হতে বড়ইতলি সড়কের একাংশ ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। জুরাছড়িতে ১১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রাখা হয়েছে বলে জানান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাসুদ রানা। তিনি বলেন, আমরা দূর্গত মানুষের জন্য ১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছি তবে এসব আশ্রয়কেন্দ্রে এখনো কেউ আশ্রয় নেয়নি।
এ বিষয়ে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক হাবিব উল্লাহ জাগো নিউজকে জানান, প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসনের পক্ষ হতে সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা মিলিয়ে মোট ২৪৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এছাড়াও রেড ক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ হতে মাইকিং করে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে আসার আহবান করা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে আসা দূর্গত মানুষের জন্য খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

্এদিকে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার মুসলিম ব্লক বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৪৬ জন ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকদের মাঝে “আয়নামতি ফাউন্ডেশন” এর চেয়ারম্যান ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ সচিবালয় এর সাবেক অতিরিক্ত সচিব আবু সৈয়দ এম হাশিমের পক্ষ থেকে নগদ ২৫০০টাকা করে সহয়তা প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার (৩০মে) জুমার নামাজের পর মুসলিম ব্লক বায়তুল আবরার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির কার্যালয় কক্ষে এই নগদ আর্থিক সহয়তা প্রদান করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে মুসলিম ব্লক বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডাক্তার আবুল কাশেম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঘাইছড়ি পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মো: রহমত উল্লাহ খাঁজা। এসময় বিশেষ অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাঘাইছড়ি উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো: হাবিব উল্লাহ,মুসলিম ব্লক বায়তুল আবরার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো: ওমর ফারুক মাস্টার ও সাধারণ সম্পাদক মো: জহিরুল ইসলাম, বাজার পরিচালনা কমিটির সদস্য সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এসময় বাঘাইছড়ি পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মো: রহমত উল্লাহ খাঁজা বলেন,অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের দুঃখ আমরা গভীর ভাবে উপলব্ধি করছি। তিনি আরো বলেন,আপনাদের অত্র এলাকার কৃতি সন্তান আবু সৈয়দ এম হাশিম সাহেবের ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে এই সামান্য কিছু উপহার নিয়ে এসেছি আপনাদের মাঝে। ভবিষ্যতেও এই ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

Enter

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...