বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) বিদেশি খেলোয়াড়রা শুধু টাকার জন্যই আসেন না, এখানকার কন্ডিশনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে জাতীয় দলের হয়ে ভালো খেলাটাও লক্ষ্য থাকে। প্রতিবারের মতো এবারও অনেক তারকা ক্রিকেটার খেলতে এসেছেন বিপিএলে। তাদের মধ্যে অন্যতম একজন মোহাম্মদ নবি। আফগানিস্তানের এই অলরাউন্ডার টেস্ট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেও খেলছেন ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টিতে।
পাকিস্তানে আসন্ন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলে ওয়ানডে থেকেও অবসর নেবেন বলে আগেই জানিয়ে রাখেন তিনি। তাই তো নিজের শেষ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসরটা রাঙিয়ে নিতে চান তিনি। পাকিস্তানে আসর বলেই বাংলাদেশে খেলা অনেকটা সহায়ক। আরব আমিরাতের কন্ডিশন তো আফগানদের মুখস্থ।
বিপিএল চলাকালীন একই সময়ে আরব আমিরাতে চলছে লিগ আইএল টি-টোয়েন্টি। সেখানে খেলারও সুযোগ পেয়েছিলেন নবি। এ ছাড়া আরও কয়েকটি লিগে খেলার সুযোগ পেলেও খেলতে এসেছেন বাংলাদেশে। শনিবার অনুশীলন শেষ করে নবি অতীত মনে করিয়ে দিয়ে জানান, ২০২৪ সালে অন্য দেশের লিগ থেকে প্রস্তাব পেয়েও আফগানিস্তানের কয়েকজন ক্রিকেটার বিপিএলে খেলতে এসেছিলেন, কারণ সেবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ ছিল বিশ্বকাপের জন্য। সেই বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়েছিল আফগানিস্তান। এবার বিপিএলে আসা নিয়ে মোহাম্মদ নবি জানালেন, বিপিএল খেলার পাশাপাশি তিনি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রস্তুতিও সেরে নিচ্ছেন। আফগান ক্রিকেটারদের অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্ব ক্রিকেটের পরাশক্তি হয়ে ওঠার পেছনের গল্প এখানেই স্পষ্ট।
বিশ্বকাপের পরপরই শুরু হবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, যেখানে
প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছে আফগানিস্তান। এর আগে নবি বিপিএলে ফরচুন বরিশালের হয়ে খেলছেন। যদিও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হবে ওয়ানডে সংস্করণে, বিপিএল চলছে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে।
নবি তাই আগে থেকেই সতর্ক, যেন এক ফরম্যাট থেকে অন্য ফরম্যাটে সহজে মানিয়ে নিতে পারেন, ‘এটা পুরো ভিন্ন কন্ডিশন। তবে এখন আমার ফোকাস বিপিএলে। এখান থেকে ফিরে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি নিয়ে ভাবব। তবে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি-শরীর, মন, ফিটনেস সবদিক থেকেই। ফরম্যাটটা ওয়ানডে, যেখানে ১০০ ওভারের কথা ভাবতে হবে। এ জন্য ফিটনেস নিয়ে বেশি কাজ করছি। দীর্ঘসময় ব্যাটিং, বোলিং করছি, যা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে কাজে আসবে।’
বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের জন্য এটি দুশ্চিন্তার বিষয় যে, বিপিএল শেষ হওয়ার পর খুব বেশি প্রস্তুতি ম্যাচের সুযোগ থাকবে না। তবে নবি তার কৌশল ঠিক করে রেখেছেন। তিনি বলেন, ‘এটা পুরোটাই মানসিক প্রস্তুতির ব্যাপার। আমি শরীরকে ওয়ানডের জন্য প্রস্তুত করছি। নিয়মিত জিম করছি, দীর্ঘক্ষণ অনুশীলন করছি; ব্যাটিং, বোলিং দুটোই করছি যাতে বিপিএল এবং চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য প্রস্তুত থাকা যায়। প্রথম লক্ষ্য অবশ্যই বিপিএল, এরপর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি।’