বিশেষ প্রতিবেদক:- মুষ্টিমেয় কিছু রেঞ্জ অফিসার, ফরেস্টার (রেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত), এসিএফ, ডিএফও, সিএফ আর সিসিএফ আর পিডি’র পকেটবারী। পর্ব-১ সুফল প্রকল্প প্রায় শেষ পর্যায়ে আগামী জুন/২৫ মাস পর্যন্ত সুফল প্রকল্পের মেয়াদ আছে কিন্তু সুফল প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কি আদৌ বাস্তবায়ন হয়েছে? সুফল প্রকল্পে শত শত কোটি টাকা দুর্নীতি হয়েছে তার সচিত্র প্রতিবেদন বিভিন্ন পত্র পত্রিকায়,টিভি মিডিয়ায়, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় , সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলাও করে প্রচারিত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ কি ব্যবস্থা নিয়েছে? সুফল প্রকল্প ছিল ১৬০০ কোটি টাকার এক বিশাল মেগা প্রকল্প। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে বনায়ন ও অবকাঠামো নির্মানকাজে বরাদ্দকৃত টাকার কত পারসেন্ট কাজ হয়েছে সেটাও তো দেখার বিষয় আছে। সুফল প্রকল্পে হরিলুট হয়েছে তা কর্তৃপক্ষ কি আদৌ বিশ্বাস করতে পারবে ?
কারণ কর্তৃপক্ষ সহ এক নজরে দেখে নিন কার পকেটে কত % গিয়েছে : (মন্ত্রীর ছেলে জুম্মন কসাই ২%+পিডি ২%+সিসিএফ ২%+সিএফ ৩%+ডিএফ ও ১৭%+ ডিএফও অফিস ২%+অডিট১%+এসিএফ ৫%+রেঞ্জ কর্মকর্তা ১৬%)=৫০% আর বাকী ৫০% টাকায় মাঠ পর্যায়ে ১০০% কাজ সম্পাদনের জন্য বরাদ্দ। বিট কর্মকর্তারা কিভাবে এই টাকা দিয়ে কাজ করবে? এই ৫০% টাকা দিয়ে নার্সারি উত্তোলন বনায়ন করন বিট অফিসারের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। অনেকে হাত পাও ধরে নার্সারি ও বনায়নের কাজ করতে অপারগতা স্বীকার করেছে। যারা যারা চাপের মুখে কাজ করেছে সেই সমস্ত বিট অফিসারের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজে জড়িত সহকর্মীদের সাথে ঝগড়া বিবাদ হিংসা বিদ্বেষ হানাহানি মুখ কালা কালি কথা পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেছে।
যারা বাগান করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তাদের উপর নেমে এসেছে নির্যাতন মানসিক যন্ত্রণার খর্গ। আবার মাঠ পর্যায়ে ঠিকাদার কর্তৃক সরবরাহকৃত মালামাল এর ৪০% ও মাঠ পর্যায়ে পৌঁছায় না। রেঞ্জ কর্মকর্তাগন জুজুর ভয় দেখিয়ে মালামাল সরবরাহ না করেও বিট কর্মকর্তার স্বাক্ষর নিয়ে গেছে । বাগান সঠিকভাবে করা হয়েছে কিনা তা তদারকির জন্য বন ব্যবস্থাপনা বিভাগ’কে একর প্রতি ৫০০/- টাকা করে দিলেই সব ঠিক। বাগান না করলে তা দর কষাকষি করে রিপোর্ট ভালো নিলেই খেল খতম। এর মানে চোরে চোরে মাসতুতু ভাই। তাইতো ভালো ভালো রেঞ্জের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য এতো লবিং। কে কত টাকা দিয়ে রেঞ্জের দায়িত্বে যাবে তা নিয়ে চলেছে বিশাল প্রতিযোগীতা। ১৫ তম গ্রেডের ফরেস্টার ৫-৬ বছর চাকুরীর মাথায় রেঞ্জের দায়িত্ব পেয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছে । নিজস্ব গাড়ী, অভিজাত এলাকায় ফ্লাট, বাড়ী কি নেই! আলীশান জীবন ষাপন। জিজ্ঞাসা করলে সোজা সাপটা উত্তর ফরেস্ট রেঞ্জার। ঢাকা, চট্টগ্রাম এলাকার যে সব জায়গায় তারা বসবাস করেন তার যে বাড়ীভাড়া সে টাকা কি তারা বেতন পায়? নামে বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ কোথা থেকে আসলো তা খতিয়ে দেখবে কে ?
১৫ তম গ্রেডের কর্মচারীর কি বেশভুষা। ভাবতে অবাক লাগে যে টাকা বেতন পায় তাতে নুন আনতে পান্তা ফূরায় তারা আবার সুট টাইয়ের ফেশন করে আর কেউবা লক্ষ টাকার একাধিক আইফোন, ২/২.৫ লক্ষ টাকার ড্রোন এ ছবি তুলে ফেইসবুকে আপলোড করে, কেউবা বিমানে ভ্রমনের ছবি আপলোড দেয়, কেউবা গ্রেট সুলতান এ অবকাশ যাপনে যান। ছেলেমেয়েদের নামীদামী স্কুল কলেজে পড়ানো, দামী নিজস্ব গাড়ীতে যাতায়াত, ঢাকায় অভিজাত এলাকায় ফ্লাট এগুলো কোত্থেতে এলো ? ঢাকায় কোটি টাকার বাড়ীর মালিক কিভাবে হলেন জনাব! ২০/২৫ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে রেঞ্জের দায়িত্ব নিয়েছেন আর % পকেটে ঢুকিয়েছেন। এবার পাছা ক্লিয়ার রাখেন এইতো দুদক আসলো বলে। % পাছা দিয়ে ঢুকাবে। স্টার্টিং বেসিক যার ১৯৭৫/- সে কোটি কোটি টাকার মালিক হয় কেমনে! আর স্টার্টিং বেসিক যার ৯,৭০০/- সেই বা কিভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়! আমার বুঝে আসে না….তাদেরতো নুন আনতে পানতা ফুরানোর কথা! আপনারা সিসিএফ, ডিসিসিএফ, সিএফ, এসিএফ, ফরেস্ট রেঞ্জার, ফরেস্টার আর ফরেস্ট গার্ডদের বেসিক আর সর্বসাকুল্যে বেতনটা একটু নিজে নিজে কষুন! বেতন আর অবৈধ ইনকাম এর হিসাব কষুন। ৩৫/৪০ লাখ টাকা দিয়ে স্টেশন বা রেঞ্জ এ পোষ্টিং আর কোটি কোটি টাকা বানিজ্য! হিসাব মিলাতে পারবেন তো ?
আয়ের সাথে ব্যয় আর সঞ্চয়ের হিসাব সব উলটপালট হয়ে যাচ্ছে তাই না! হারামে আরাম নাই। কস্মিনকালেও মিলাতে পারবেন না! মিছে মিছি বউয়ের নামে ট্রেড লাইসেন্স আর ভাই বোন বা মা বাবার নামে কিংবা আত্নীয় স্বজনদের নামে ব্যাংক ব্যালেন্স, জমি ক্রয়, গাড়ী ক্রয় দেখিয়ে কি পাপকে ধামাচাপা দিতে পারবেন! পারবেন না…..!! বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখে যদি দোষী সাব্যস্ত করা যায় তাহলে এই সুফল প্রকল্পের হরি লুটের কিচ্ছা কাহিনী পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে তাহার ও তো সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্ভুক্তি কালীন সরকারের মাননীয় পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, মাননীয় সচিব, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ঢাকা। মহাপরিচালক টিআইবি, মহাপরিচালক দুর্নীতি দমন কমিশন ঢাকার দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য মন্ত্রী এমপির সুপারিশে নিয়োগ -বদলী ও পোষ্টিং বানিজ্য চরমে। পাহাড়ে গাছের ছাড়া রোপন করে না অনেকদিন ধরে । সংরক্ষিত বনাঞ্চল ধ্বংসের শেষ প্রান্তে । এইভাবে হারিয়ে যাচ্ছে জৈব বৈচিত্র ।#