রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬

ক্রীড়াঙ্গনে সমৃদ্ধ হবে সাফল্যের ঝুলি

  • প্রকাশিত: ২ জানুয়ারি ২০২৫, ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ১ বছর আগে
সময় প্রবহমান, নদীর স্রোতের মতোই। যা রেখে যায়, তা স্মৃতি। কখনো তা দুঃখের, কখনো আবার সুখময়। সময়ের স্রোতে বিলীন হয়ে যাওয়া ২০২৪ সালটা এখন তেমনই দুঃখ-সুখের স্মৃতিকথা।
স্মৃতি ঘাটলে ক্রীড়াঙ্গনে সুখটা নজর কাড়বে বেশি। ক্রিকেট, ফুটবল, হকিসহ আরও অনেক খেলাতেই এসেছে বড় বড় সাফল্য।
ইতিহাস গড়ে পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জিতেছে টাইগাররা, ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে গিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টি-টোয়েন্টি সিরিজে করেছে ধবলধোলাই। যুবারা জিতেছে এশিয়া কাপ। ইমার্জিং দল খেলেছে এশিয়া কাপের ফাইনাল। এশিয়ায় সাফল্য পেয়েছে নারী সিনিয়র দল আর বয়সভিত্তিক দলও। হকির যুবারা আদায় করেছে বিশ্বকাপ খেলার টিকেট। বরাবরের মতোই মেয়েদের বষয়ভিত্তিক ফুটবলে সাফল্য ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে এসব ছাপিয়ে গেছে সাবিনা-সানজিদাদের সাফল্য। টানা দ্বিতীয়বার নারী সাফে বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন তারা।
নতুন বছরে সাফ নেই। গতবারের মতো ক্রিকেটে নেই বিশ্বকাপ।
তবে মিনি বিশ্বকাপখ্যাত চ্যাম্পিয়ন ট্রফির পরবর্তী আসর বসবে আসছে ফেব্রুয়ারিতে। আইসিসির ওই ইভেন্ট হাইব্রিড মডেলে আয়োজন করবে পাকিস্তান। ভালো কিছুর আশা নিয়েই আসরটি খেলতে যাবে টাইগাররা। রাষ্ট্রক্ষমতায় বাক-বদলের পর বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব পাওয়া সাবেক ক্রিকেটার ফারুক আহমেদের বিশ্বাস, আগামীর ক্রিকেট হবে আরও সুন্দর, স্বচ্ছ। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ধবলধোলাই করে বছরের শেষটা যেভাবে রাঙিয়েছে টাইগাররা, নতুন বছরটা এমন রঙিন হবে। দ্বিপক্ষীয় সিরিজের মতো ভালো কিছু হবে বৈশ্বিক আসরেও।
ছেলেদের ফুটবলে আশার আলো দেখা কঠিন। প্রতিনিয়তই যেন পেছনে যাচ্ছে জাতীয় দল। বয়সভিত্তিক দলগুলো অবশ্য সমৃদ্ধ আগামীরই বার্তা দিচ্ছে। তরুণ প্রতিভাগুলো সঠিকভাবে পরিচর্যা করা গেলে সাফল্য মিলবেই, এমনটাই বিশ্বাস সাবেক কৃতী ফুটবলার শেখ মোহাম্মদ আসলামের। তিনি আশাবাদী, কাজী সালাউদ্দিন যুগের অবসান ঘটিয়ে দেশের ফুটবলে সর্বোচ্চ কর্তার আসনে বসা তাবিথ আউয়াল এদিকে বাড়তি নজর দেবেন। সময়ের আলোকে তিনি বলেছেন, ‘নতুন কমিটি বাফুফের দায়িত্ব নিয়েছে। তাদের কাছে প্রত্যাশা সবারই বেশি। আশা করি, এই কমিটি প্রত্যাশা মেটানোর জন্যই কাজ করবে।’
ছেলেদের তুলনায় নারী ফুটবল ঘিরেই প্রত্যাশা বেশি সবার। কারণও আছে। বিগত কয়েক বছরে ফুটবলে যা সাফল্য, এর সিংহভাগই এসেছে নারীদের হাত ধরে। বিদায় নেওয়া বছরটায় ফুটবল অঙ্গন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নারীদের সাফল্যের আলোতেই আলোকিত ছিল। আসলাম তাই সাবিনা-সানজিদাদের সাধুবাদ জানিয়েছেন। নতুন বছরে তারা আরও বেশি সাফল্য এনে দেবে, এ বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী তিনি, ‘নারী ফুটবলারদের কথা তো আলাদাভাবেই বলতে হবে। বছরের শুরু থেকে শেষতক তারা দেশের ফুটবল মাতিয়ে রেখেছে। ফুটবল আলোচনায় ছিল তাদেরই কীর্তিতে। ওরা আরও ভালো করবে আগামীতে। ফুটবলও এগিয়ে যাবে।’
২০২৪ সালে বড় চমকই দিয়েছে হকির যুবারা। নানা প্রতিবন্ধকতায় যে খেলাটি প্রায় ধ্বংস হতে বসেছিল, সেই খেলাটিতে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার করেছে এই সাফল্য। আগামীতেও সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকবে, এমনটাই প্রত্যাশা হকি সংশ্লিষ্টদের। তাদের বিশ্বাস, নতুন নেতৃত্বে অস্থিরতা কাটবে এবং ঘরোয়া হকিতেও প্রাণ ফিরবে আগামী বছর। হকি, ফুটবল, ক্রিকেট-এর বাইরে যেসব খেলাধুলা রয়েছে, সেগুলোতে সাফল্য খুঁজতে হয় আতশি কাজ দিয়ে। কাবাডিতে অবশ্য গতবারও আন্তর্জাতিক শিরোপা এসেছে। এবার তেমন কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজিত হবে কি না তা নিয়ে অবশ্য সংশয় আছে। তবুও কাবাডিতে সাফল্য পাওয়ার আশা বরাবরই থাকে।
আরচারি, শুটিং, সাঁতারসহ আরও কিছু ইভেন্ট আছে, যেখান থেকে সাফল্য আসবে বলেই ধারণা ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...