শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি’র ২৮ তম বর্ষপূর্তি উদযাপনে সভা

  • প্রকাশিত: ২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ৫ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিনিধি:- পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি’র ২৮ তম বর্ষপূর্তি উদযাপন। ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের কার্য্যলয়ে সামনে সকাল সাড়ে ঘটিকায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শ্রীমতি  সুবর্না চাকমার সভাপতিত্বে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা , সভা সঞ্চালনা করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের জনসংযোগ সংযোগ কর্মকর্তা বিমল কান্তি চাকমা ও সহকারী নির্বাহী কর্মকর্তা সুষ্মিতা চাকমা। সভায় উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র চাকমা,  সাংবাদিক শান্তিময় চাকমা, এ্যাড জুয়েল দেওয়ান,তনয় দেওয়ান,সাবেক মানবধিকার কমিশনের সদস্য নীরুপা দেওয়ান,জেলা পরিষদের সদস্য নাউ প্রু মার্মা, নুরুল আলম সদস্য পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ , সাবেক উপসচিব প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, এ্যাড চঞ্চু চাকমা ,সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সহ সভাপতি থোয়াই অং মারমা, কমিউনিস্ট পার্টির জেলা সভাপতি সমির কান্তি দে, সিএইচটি উইমেন নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক  সান্তনা চাকমা, এনজিও সংস্থা পাড়ার নির্বাহী পরিচালক  মো. আব্বাস উদ্দিন প্রমুখ , ।

বক্তবরা বলেন,  চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে এখন পর্যন্ত  মৌলিক ধারা গুলো বাস্তবায়িত হয়নি।  ৩৪ টি ধারা ও ১৫টি ধারা আংশিক বাস্তবায়িত এবং ৯টি ধারা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন থাকলেও বাকি ধারাগুলো কার্যকর হয়নি। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে  বক্তরা বলেন, ক্ষমতাসীন দলগুলো চুক্তি বাস্তবায়নে আন্তরিক ছিল না বলে অভিযোগ করেন।

বিএনপি সরকার আমলে তৎকালিন যোগাযোগ মন্ত্রী কর্ণে ল (অব:) বেশ কয়েক দফা বৈঠক হয়। তার আগে এরশাদ সরকার আমলে চুক্তির বিষয়ে বৈঠকের কার্য ক্রম শুরু হয়। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক চুক্তি ২৮ বছর পেরুলেও দুই-তৃতীয়াংশ ধারা আজও অবাস্তবায়িত। বত্তরা বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলেও চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো নিশ্চিত হয়নি। এছাড়া ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহন করেনি ।

এদিকে ২ ডিসেম্বর জিমনিশিয়াম মাঠে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি চুক্তির ২৮ বছর পুর্তিতে গণ সমাবেশ আয়োজন করেন। সকাল ১০ ঘটিকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহ সভাপতি  শ্রী উষাতন তালুকদার সভাপতিত্বে বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।

জনসভায় বক্তরা চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য আট দফা দাবি উত্থাপন করে।
১. পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতীয় অধ্যুষিত অঞ্চলের বিশেষ বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ,
২. আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদের কার্যকারিতা নিশ্চিতকরণ ও নির্বাচন,
৩. ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের বিধিমালা চূড়ান্তকরণ,
৪. অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু ও ভারতফেরত জুম্ম শরণার্থীদের জমি ফেরত ও পুনর্বাসন,
৫. চুক্তির সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রযোজ্য আইন সংশোধন,
৬. অ-স্থানীয়দের প্রদত্ত ভূমি ইজারা বাতিল,
৭. এবং পার্বত্য অঞ্চলের চাকরিতে স্থানীয় অধিবাসীদের অগ্রাধিকার নিশ্চিতকরণ।

 

 

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...