পরিবর্তন নয়, চমকে দিতে চাই ! আমার কোন শিক্ষা নেই। তেমন ভাবে পড়াশুনা করিনি। শুধুমাত্র কয়েকটি একাডেমিক কাগজ আমার কাছে রয়েছে। যেটা এখন ৫০ বছরে এসে অপ্রয়োজনীয় বস্তুতে পরিণিত হয়েছে। কিছু মানুষের কাছে সফলতা শুধুমাত্র অর্থ উপার্জন কিংবা বিসিএস কর্মকর্তা অথবা রাজনৈতিক দূর্বৃত্তপনা। যেহেতু আমার তেমন কোন শিক্ষা নেই, আমি তেমন কিছুই করতে পারিনি। অতি সাধারণ। যখন প্রেমিক ছিলাম প্রেমিকাকে ঘাঁসফুল উপহার দিয়ে ছিলাম। কারণ পকেটে টাকা ছিল না। যখন টাকা এলো তখন প্রেমিকা অনেক দুরে। ঠিকাদারী হাটঘাট ডেকে অর্থ হয়েছিল। কিন্তু অর্থের প্রতি কোন মোহ সৃষ্টি হলো না। মানুষ কে বিশ্বাস করে অর্থ দিয়ে কষ্ট কিনে নিলাম। তার পর কি যে এক সখ পেয়ে বসলো। গ্রামের পথে পথে ঘুরতে লাগলাম। অহেতুক গ্রামে চায়ের আড্ডায় সাধারণ মানুষের সাথে গল্প জমিয়ে তুলতাম। ভাবতাম কেউ আমাকে চিনবে না। কিন্তু না সকলে চিনে। ভবজমায় মন খুলে কথা বলে। এভাবে আমার দিনচলতে থাকে। আমি পড়াশুনা করিনি ঠিকই কিন্তু প্রকৃতি আমায় অনেক শিক্ষা দিয়েছে। একদিন গভীর রাতে ধরলা নদীতে আমি আর বন্ধু স্বপন বজ্রপাতের শিকার হই। নৌকায় তিন জন ছিলাম। কারণ তখন রাত দুই টা বাজে। ঘুটঘুটে অন্ধকারে ধরলা নদীর মাঝপথে নৌকার গতি পথ পরিবর্তন হয়ে গেছে। প্রায় এক ঘন্টা নৌকা চলার পর কিনারা খুঁজে পাচ্ছেনা। মাঝি বলে উঠল ভাইজান দিক হারিয়ে ফেলেছি। সকাল না হলে কিনারায় ভীড়ানো যাবে না। আবার যদি ভুলে ইন্ডিয়ার বর্ডার চলে যাই অথবা কুড়িগ্রামের পথ ধরে ব্রম্মপুত্র নদে। তখন ভয় করতে লাগল। আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখি আকাশে কোন তারা দেখা যায়না। এমন সময় কোন কিছু বুঝে উঠার আগে বজ্রপাতের সৃষ্টি। চারিদিকে আলোকিত করেছে। সেই আলোয় পথের সন্ধান পেলাম কিন্তু চোখের পলকের ব্যবধানে বজ্রপাতে তিন জনেই জ্ঞান হারিয়ে ফেললাম। মনে হয়ে ছিল মরে গেছি। প্রায় আধাঘন্টা পর জ্ঞান ফিরল। তখন দেখি নৌকা সহ চরে আটকা পড়েছি। অন্ধকারে বুঝার উপায় নেই কোথায়? তাই তিন জনেই সকাল হওয়ার অপেক্ষায়। ভোরের আলো এলে দেখি মাঝ নদীর চরে। যাক তিন জনেই বেঁচে ফিরেছি। সেখানে আমি একটা শিক্ষা পেয়েছি। প্রকৃতি পথ দেখায়, বদলাতে হবে নিজেকে। বদলে যাওয়ার চেষ্টায় নেমে পড়লাম। শেষ পর্যন্ত বদলে গেছি। সেই দিনের পর হতে আর কখনো গভীর রাতে কোথাও যাওয়া হয়নি। রাতে নদী পথে তো নয়। কেন গিয়ে ছিলাম আরেক দিন বলব। সেই ছোট বেলা হতে জীবনে পরিবর্তনের সাথে লড়ছি। পৈত্তিক সূত্রে সম্পদ থাকাটা কারো জীবনে অভিশাপ।
যেমন আমার বাবার জীবনে অভিশাপ ছিল। এই সম্পদ। সম্পদ সম্পদ করে বাবা তার বাবার ভিটা ছেড়েছে। রংপুরের কাউনিয়ার টেপামধুপুরের আউদিয়ার দোলায় আমার দাদার এতো কৃষি জমি ছিল, সারা দিন সেই জমির উপর দিয়ে হাঁটতে গেলে দিন শেষে সকাল হয়ে যেত। কৃষি বলেন, হাটবাজার বলেন, সবকিছুতে বাস্তবজ্ঞান রয়েছেআমা। আমি গ্রামের মেঠোপথে হেঁটেছি মাইলের পর মাইল স্কুলে যেতে। হালচাষ করেছি। কৃষক, কৃষিশ্রমিকদের সাথে আড্ডায় মেতেছি। কৃষককে বেগারি দেওয়া দেখেছি। বেগারির রকমারি খাবারের স্বাদ পেয়েছি।
এই প্রজন্ম বেগারি শব্দের সাথে পরিচিত হয়। তারা ডিলিট শব্দের সাথে পরিচিত। আবার আমার শহরের জীবন এসেছে। এসেছে রাজধানীর জীবন। ঘুরেছি পথে প্রান্তরে। ট্রেনিং করার সূত্রে সামরিক বাহিনীর জীবন কেমন সেটাও জানি। পুলিশের জীবন কেমন সেটাও দেখেছি পরিবারের স্বজনদের সূত্রে। বাবার সূত্রে দেখেছি সরকারি চাকরি জীবন। একই সংসারে অশান্তি দেখেছি আবার শান্তি দেখেছি। নিঃস্বার্থ ভালবাসায় শক্রু হওয়া যায়। সেটাও দেখেছি। তাই ঘটনা চক্রে সাংবাদিকতা জীবন ও অধ্যাপনার জীবন। ভবঘুরে জীবন চেয়ে ছিলাম। হয়ে গেলে পড়াশুনার জীবন। শিখছি আর শিখছি। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে ঠকছি। আমি পরিবর্তন করতে আসিনি। সেই শব্দ উচ্চারণ করারমত সাহসী আমি নই। তবে মাঝে মাঝে চমকে দিতে তো পারি। বজ্রপাতের মত কয়েক সেকেন্ড আলো ছড়িয়ে। যে আলোর কোন মূল্য নেই। তবে এই চমকে দুর্নীতিবাজরা পুড়ে মরে। বুঝতে একটু সময় লাগে। সংবাদে কিনা হয়। যারা বলে সংবাদ লিখে কিছু না। তারা বলতে থাক। তবে সংবাদ লিখে কি হয়না বলেন বলেন? ধন্যবাদ। অতিথি লেখক