নিজস্ব প্রতিবেদক:- খাগড়াছড়ি ও দীঘিনালার ঘটনার প্রতিবাদে পাহাড়ী -বাঙ্গালির সংঘর্ষের পার্বত্য রাঙামাটি শহরেও ছড়িয়েছে। সকাল ১০ ঘটিকা বেলা ২ ঘটিকা পর্যন্ত চলা পাহাড়ি-বাঙ্গালীদের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র পরিণত হয়। এতে ১ জন নিহত ও অন্তত প্রায় ৬০ জন আহত হয়েছে বলে জানাগেছে। বনরুপা পেট্রোল পাম্প সামনে পাহাড়ী সংঘটনের প্রতিবাদ সমাবেশ পর পুলিশ বকস ও মসজিদে হামলার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে । এছাড়া শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া গাড়ী ভাংচুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন ভাংচুর করা হয়। পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে রাঙামাটি শহরে ১৪৪ ধারা জারি করেছেন জেলা প্রশাসক। শুক্রবার সকালে ১০ ঘটিকার সময় জেলা জিমনেসিয়াম থেকে বিশ বিক্ষোভ মিছিল বের পাহাড়ী সংগঠন ।
খাগড়াছড়ি ও দীঘিনালা ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বনরুপা গিয়ে পেট্রোল পাম্প সমাবেশের তাদের উগ্রতার ফলে মসজিদে হামলার পর ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। জিমনেসিয়াম থকে আসার সময় রাজবাড়ী ১০/১৫ কাঠবোঝাই ট্রাকের ভাংচুর করে। বনবিভাগে প্রবেশ করে ঝুম নিয়ন্ত্রন বনবিভাগের বাংলো ও বনসংরক্ষক বাংলো হামলা করে। এতে প্রথমে ইট পাটকেল ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে মুল শহরে। এদিকে বনরুপা মসজিদ-মার্কেটসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলার ঘটনায় স্থানীয় বাঙ্গালীরা সংগঠিত হয়ে ধাওয়া দিলে পাহাড়িরা পিছু হটে যায় বেশীক্ষন ঠিকতে পারে নাই। রাস্তায় চলাচলকারী বাস, ট্রাক ট্যাক্সিতেও হামলা করা হয়। শহরের হ্যাপির মোড়কে কেন্দ্র করে এর দু’দিকে অবস্থান নেন পাহাড়ি ও বাঙালিরা। পরবর্তীতে পাহাড়ি-বাঙ্গালী উভয়পক্ষ শহরের বনরূপা, হ্যাপীর মোড়, কালিন্দিপুর, রাজবাড়ি, ষ্ট্রেডিয়াম এলাকা, কল্যাণপুর, ভেদভেদীসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
এতে করে অন্তত ৩০টি যানবাহন ভাংচুরের পাশাপাশি উভয়পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক লোকজন আহত হয়। রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একজন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে। আহতদের মধ্যে বাঙ্গালীদের বেশ কয়েকজনের শরীরে গুলির আঘাত রয়েছে। এছাড়া আহত পাহাড়িরা মারধর ও ধারালোর অস্ত্রের আঘাতের কারনে আহত হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। আহতদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন, রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক। রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আহত অন্তত ৫৮জন হাসপাতালে গিয়েছে। এতে গুরুত্বর আহত ১৯জন হাসপাতালে ভর্তি আছে। আর একজন নিহত হয়েছে।
রাঙামাটি পার্বত্য নাগরিক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ সোলায়মান মুঠোফোনে জানিয়েছেন, ‘সকালে পাহাড়িদের একটি মিছিল বনরূপায় এসে উস্কানী দিয়ে বনরুপা মসজিদ ও বাঙ্গালীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলাসহ বেশ কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর করে। এরপরই বাঙালি ব্যবসায়ীরা জোট বদ্ধ উভয়ের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের পাল্টা ধাওয়া দেয়। তিনি আরো বলেন,এই ঘটনা পরিকল্পিত যেমন এতদিন জেলা প্রশাসকের মুল ফটকে সড়কের ওপর তাদের বিক্ষোভ সমাবেশ করে আসছে,হঠাৎ বনরুপা পেট্রোল পাম্প গিয়ে নিয়ন্ত্রন হীন হয়ে হামলা পাল্টা হামলার ফলে উত্তেজনা সৃষ্ট্রি করেছে।
নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা বলেন,জেলা পরিষদ,ট্রাস্কাসোস ,সংস্কার করে প্রশাসন নিয়োগ চাই। দীর্ঘদিন ধরে যেই সরকার ক্ষমতায় ফ্যাক্স নির্ভর আঞ্চলিক পরিষদ,জেলা পরিষদ আইন পরিবর্তন করে বৈষম্য বিরোধী সংস্কার করা প্রয়োজন।তাহলে পরে স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা প্রতিষ্টা হবে।উপদেষ্টাকে চাপে ফেলে পরিকল্পনামতে এই ঘটনা । কাল খাগড়া- রাঙামাটি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা , প্রধান উপদেষ্টা ও পার্বত্য আসিতেছে । গত রাত হতে পাহাড়ীদের পরিকল্পনা ছিল বিক্ষোভ মিছিলসহ যে কোন অঘটন দেখিয়ে প্রধান উপদেষ্টা দৃষ্টি আকর্ষণ করা। এদিকে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে দুপুর দুইটা থেকে রাঙামাটি পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন।
উল্লেখ্য,কাল শনিবার খাগড়াছড়ি রাঙামাটি সফরে আসছে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো: জাহাজ্ঞীর আলস চৌধুরী (অব:) সাথে পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রনালয় উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমাসহ অন্যরা ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক মো. মোশাররফ হোসেন খান। সদর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছে, রাঙামাটিতে সকালে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়। শহরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য পুলিশ সেনাবাহিনী বিজিবি টহল জোরদার করেছে।

